অনবচ্ছিন্ন আমি (onochchhino ami)

আজি মগ্ন হয়েছিনু ব্রহ্মাণ্ডমাঝারে;

যখন মেলিনু আঁখি, হেরিনু আমারে।

ধরণীর বস্ত্রাঞ্চল দেখিলাম তুলি,

আমার নাড়ীর কম্পে কম্পমান ধূলি।

অনন্ত-আকাশ-তলে দেখিলাম নামি,

আলোক-দোলায় বসি দুলিতেছি আমি।

আজি গিয়েছিনু চলি মৃত্যুপরপারে,

সেথা বৃদ্ধ পুরাতন হেরিনু আমারে।

অবিচ্ছিন্ন আপনারে নিরখি ভুবনে

শিহরি উঠিনু কাঁপি আপনার মনে।

জলে স্থলে শূন্যে আমি যত দূরে চাই

আপনারে হারাবার নাই কোনো ঠাঁই।

জলস্থল দূর করি ব্রহ্ম অন্তর্যামী,

হেরিলাম তার মাঝে স্পন্দমান আমি।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

চৌরপঞ্চাশিকা
Verses
ওগো সুন্দর চোর,
বিদ্যা তোমার কোন্‌ সন্ধ্যার
       কনকচাঁপার ডোর!
কত বসন্ত চলি গেছে হায়,
কত কবি আজি কত গান গায়,
কোথা রাজবালা চিরশয্যায়--
       ওগো সুন্দর চোর,
কোনো গানে আর ভাঙে না যে তার
       অনন্ত ঘুমঘোর।
       ওগো সুন্দর চোর,
কত কাল হল কবে সে প্রভাতে
       তব প্রেমনিশি ভোর!
কবে নিবে গেছে নাহি তাহা লিখা
তোমার বাসরে দীপানলশিখা,
খসিয়া পড়েছে সোহাগলতিকা--
       ওগো সুন্দর চোর,
শিথিল হয়েছে নবীন প্রেমের
       বাহুপাশ সুকঠোর।
       তবু সুন্দর চোর,
মৃত্যু হারায়ে কেঁদে কেঁদে ঘুরে
       পঞ্চাশ শ্লোক তোর।
পঞ্চাশ বার ফিরিয়া ফিরিয়া
বিদ্যার নাম ঘিরিয়া ঘিরিয়া
তীব্র ব্যথায় মর্ম চিরিয়া
       ওগো সুন্দর চোর,
যুগে যুগে তারা কাঁদিয়া মরিছে
       মূঢ় আবেগে ভোর।
       ওগো সুন্দর চোর,
অবোধ তাহারা, বধির তাহারা,
       অন্ধ তাহারা ঘোর।
দেখে না শোনে না কে আসে কে যায়,
জানে না কিছুই কারে তারা চায়,
শুধু এক নাম এক সুরে গায়--
       ওগো সুন্দর চোর,
না জেনে না বুঝে ব্যর্থ ব্যথায়
       ফেলিছে নয়নলোর।
       ওগো সুন্দর চোর,
এক সুরে বাঁধা পঞ্চাশ গাথা
       শুনে মনে হয় মোর--
রাজভবনের গোপনে পালিত,
রাজবালিকার সোহাগে লালিত,
তব বুকে বসি শিখেছিল গীত
       ওগো সুন্দর চোর,
পোষা শুক সারী মধুরকণ্ঠ
       যেন পঞ্চাশ-জোড়।
       ওগো সুন্দর চোর,
তোমারি রচিত সোনার ছন্দ-
       পিঞ্জরে তারা ভোর।
দেখিতে পায় না কিছু চারি ধারে,
শুধু চিরনিশি গাহে বারে বারে
তোমাদের চির শয়নদুয়ারে--
       ওগো সুন্দর চোর,
আজি তোমাদের দুজনের চোখে
       অনন্ত ঘুমঘোর।
আরো দেখুন
রাজবিচার
Verses
     রাজস্থান
বিপ্র কহে, রমণী মোর  আছিল যেই ঘরে
নিশীথে সেথা পশিল চোর       ধর্মনাশ-তরে।
বেঁধেছি তারে, এখন কহো       চোরে কী দেব সাজা।'
"মৃত্যু' শুধু কহিলা তারে          রতনরাও রাজা।
ছুটিয়া আসি কহিল দূত,          "চোর সে যুবরাজ--
বিপ্র তাঁরে ধরেছে রাতে,         কাটিল প্রাতে আজ।
ব্রাহ্মণেরে এনেছি ধরে,  কী তারে দিব সাজা?'
"মুক্তি দাও' কহিলা শুধু           রতনরাও রাজা।
আরো দেখুন
21
Verses
রক্তমাখা দন্তপংক্তি হিংস্র সংগ্রামের
শত শত নগরগ্রামের
অন্ত্র আজ ছিন্ন ছিন্ন করে;
ছুটে চলে বিভীষিকা মূর্ছাতুর দিকে দিগন্তরে।
বন্যা নামে যমলোক হতে,
রাজ্যসাম্রাজ্যের বাঁধ লুপ্ত করে সর্বনাশা স্রোতে।
যে লোভ-রিপুরে
লয়ে গেছে যুগে যুগে দূরে দূরে
সভ্য শিকারীর দল পোষমানা শ্বাপদের মতো,
দেশবিদেশের মাংস করেছে বিক্ষত,
লোলজিহ্বা সেই কুকুরের দল
অন্ধ হয়ে ছিঁড়িল শৃঙ্খল,
ভুলে গেল আত্মপর;
আদিম বন্যতা তার উদ্‌বারিয়া উদ্দাম নখর
পুরাতন ঐতিহ্যের পাতাগুলা ছিন্ন করে,
ফেলে তার অক্ষরে অক্ষরে
পঙ্কলিপ্ত চিহ্নের বিকার।
অসন্তুষ্ট বিধাতার
ওরা দূত বুঝি,
শত শত বর্ষের পাপের পুঁজি
ছড়াছড়ি করে দেয় এক সীমা হতে সীমান্তরে,
রাষ্ট্রমদমত্তদের মদ্যভান্ড চূর্ণ করে
আবর্জনাকুণ্ডতলে।
মানব আপন সত্তা ব্যর্থ করিয়াছে দলে দলে,
বিধাতার সংকল্পের নিত্যই করেছে বিপর্যয়
ইতিহাসময়।
সেই পাপে
আত্মহত্যা-অভিশাপে
আপনার সাধিছে বিলয়।
হয়েছে নির্দয়
আপন ভীষণ শত্রু আপনার 'পরে,
ধূলিসাৎ করে
ভুরিভোজী বিলাসীর
ভাণ্ডারপ্রাচীর।
শ্মশানবিহারবিলাসিনী
ছিন্নমস্তা,মুহূর্তেই মানুষের সুখস্বপ্ন জিনি
বক্ষ ভেদি দেখা দিল আত্মহারা,
শতস্রোতে নিজ রক্তধারা
নিজে করি পান।
এ কুৎসিত লীলা যবে হবে অবসান,
বীভৎস তান্ডবে
এ পাপযুগের অন্ত হবে,
মানব তপস্বীবেশে
চিতাভস্মশয্যাতলে  এসে
নবসৃষ্টি-ধ্যানের আসনে
স্থান লবে নিরাসক্তমনে--
আজি সেই সৃষ্টির আহ্বান
ঘোষিছে কামান।
আরো দেখুন