রাজবিচার (rajbichar)

     রাজস্থান

 

বিপ্র কহে, রমণী মোর  আছিল যেই ঘরে

নিশীথে সেথা পশিল চোর       ধর্মনাশ-তরে।

বেঁধেছি তারে, এখন কহো       চোরে কী দেব সাজা।'

"মৃত্যু' শুধু কহিলা তারে          রতনরাও রাজা।

ছুটিয়া আসি কহিল দূত,          "চোর সে যুবরাজ--

বিপ্র তাঁরে ধরেছে রাতে,         কাটিল প্রাতে আজ।

ব্রাহ্মণেরে এনেছি ধরে,  কী তারে দিব সাজা?'

"মুক্তি দাও' কহিলা শুধু           রতনরাও রাজা।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

পান্থ
Verses
শুধায়ো না মোরে তুমি মুক্তি কোথা, মুক্তি কারে কই,
                   আমি তো সাধক নই, আমি গুরু নই।
                   আমি কবি, আছি
                   ধরণীর অতি কাছাকাছি,
                              এ পারের খেয়ার ঘাটায়।
                   সম্মুখে প্রাণের নদী জোয়ার-ভাঁটায়
                   নিত্য বহে নিয়ে ছায়া আলো,
                        মন্দ ভালো,
ভেসে-যাওয়া কত কী যে, ভুলে-যাওয়া কত রাশি রাশি
                        লাভক্ষতি কান্নাহাসি--
           এক তীর গড়ি তোলে অন্য তীর ভাঙিয়া ভাঙিয়া;
           সেই প্রবাহের 'পরে উষা ওঠে রাঙিয়া রাঙিয়া
           পড়ে চন্দ্রালোকরেখা জননীর অঙ্গুলির মতো;
                        কৃষ্ণরাতে তারা যত
           জপ করে ধ্যানমন্ত্র; অস্তসূর্য রক্তিম উত্তরী
           বুলাইয়া চলে যায়, সে তরঙ্গে মাধবীমঞ্জরি
                         ভাসায় মাধুরীডালি,
                         পাখি তার গান দেয় ঢালি।
               সে তরঙ্গনৃত্যছন্দে বিচিত্র ভঙ্গিতে
               চিত্ত যবে নৃত্য করে আপন সংগীতে
                         এ বিশ্বপ্রবাহে,
               সে ছন্দে বন্ধন মোর, মুক্তি মোর তাহে।
            রাখিতে চাহি না কিছু, আঁকড়িয়া চাহি না রহিতে,
                  ভাসিয়া চলিতে চাই সবার সহিতে
                  বিরহমিলনগ্রন্থি খুলিয়া খুলিয়া,
                  তরণীর পালখানি পলাতকা বাতাসে তুলিয়া।
    
                  হে মহাপথিক,
                  অবারিত তব দশদিক।
         তোমার মন্দির নাই, নাই স্বর্গধাম,
                নাইকো চরম পরিণাম;
                তীর্থ তব পদে পদে;
         চলিয়া তোমার সাথে মুক্তি পাই চলার সম্পদে,
                   চঞ্চলের নৃত্যে আর চঞ্চলের গানে,
                   চঞ্চলের সর্বভোলা দানেড্ড
                                      আঁধারে আলোকে,
         সৃজনের পর্বে পর্বে, প্রলয়ের পলকে পলকে।
আরো দেখুন
চিত্রা
Verses
জগতের মাঝে কত বিচিত্র তুমি হে
   তুমি বিচিত্ররূপিণী।
অযুত আলোকে ঝলসিছ নীল গগনে,
আকুল পুলকে উলসিছ ফুলকাননে,
দ্যুলোকে ভূলোকে বিলসিছ চলচরণে,
   তুমি চঞ্চলগামিনী।
মুখর নূপুর বাজিছে সুদূর আকাশে,
অলকগন্ধ উড়িছে মন্দ বাতাসে,
মধুর নৃত্যে নিখিল চিত্তে বিকাশে
   কত মঞ্জুল রাগিণী।
কত না বর্ণে কত না স্বর্ণে গঠিত
কত যে ছন্দে কত সংগীতে রটিত
কত না গ্রন্থে কত না কণ্ঠে পঠিত
   তব অসংখ্য কাহিনী।
জগতের মাঝে কত বিচিত্র তুমি হে
   তুমি বিচিত্ররূপিণী।
অন্তরমাঝে শুধু তুমি একা একাকী
   তুমি অন্তরব্যাপিনী।
একটি স্বপ্ন মুগ্ধ সজল নয়নে,
একটি পদ্ম হৃদয়বৃন্তশয়নে,
একটি চন্দ্র অসীম চিত্তগগনে--
   চারি দিকে চিরযামিনী।
অকূল শান্তি সেথায় বিপুল বিরতি,
একটি ভক্ত করিছে নিত্য আরতি,
নাহি কাল দেশ, তুমি অনিমেষ মুরতি--
   তুমি অচপলদামিনী।
ধীর গম্ভীর গভীর মৌনমহিমা,
স্বচ্ছ অতল স্নিগ্ধ নয়ননীলিমা
স্থির হাসিখানি উষালোকসম অসীমা,
   অয়ি প্রশান্তহাসিনী।
অন্তরমাঝে তুমি শুধু একা একাকী
   তুমি অন্তরবাসিনী।
আরো দেখুন
নুটু
Verses
রমাদেবীর মৃত্যু উপলক্ষে
ফাল্গুনের পূর্ণিমার আমন্ত্রণ পল্লবে পল্লবে
এখনই মুখর হল অধীর মর্মরকলরবে।
          বৎসে, তুমি বৎসরে বৎসরে
          সাড়া তারি দিতে মধুস্বরে,
আমাদের দূত হয়ে তোমার কণ্ঠের কলগান
উৎসবের পুষ্পাসনে বসন্তেরে করেছে আহ্বান।
নিষ্ঠুর শীতের দিনে গেলে তুমি রুগ্‌ণ তনু বয়ে
আমাদের সকলের উৎকণ্ঠিত আশীর্বাদ লয়ে।
          আশা করেছিনু মনে মনে
          নববসন্তের আগমনে
ফিরিয়া আসিবে যবে লবে আপনার চিরস্থান,
কাননলক্ষ্মীরে তুমি করিবে আনন্দ-অর্ঘ্যদান।
          এবার দক্ষিণবায়ু দুঃখের নিশ্বাস এল বহে;
তুমি তো এলে না ফিরে; এ আশ্রম তোমার বিরহে
          বীথিকার ছায়ার আলোকে
          সুগভীর পরিব্যাপ্ত শোকে
কহিছে নির্বাকবাণী বৈরাগকরণ ক্লান্ত সুরে,
তাহারি রণনধ্বনি প্রান্তরে বাজিছে দূরে দূরে।
শিশুকাল হতে হেথা সুখে-দুঃখে-ভরা দিন-রাত
করেছে তোমার প্রাণে বিচিত্র বর্ণের রেখাপাত।
          কাশের মঞ্জরী-শুভ্র দিশা,
          নিস্তব্ধ মালতী-ঝরা নিশা,
প্রশান্ত শিউলি-ফোটা প্রভাত শিশিরে-ছলোছলো,
দিগন্ত-চমক-দেওয়া সূর্যাস্তের রশ্মি জ্বলোজ্বলো।
এখনো তেমনি হেথা আসিবে দিনের পর দিন,
তবুও সে আজ হতে চিরকাল রবে তুমি-হীন।
          বসে আমাদের মাঝখানে
          কভু যে তোমার গানে গানে
ভরিবে না সুখসন্ধ্যা, মনে হয়, অসম্ভব অতি--
বর্ষে বর্ষে দিনে দিনে প্রমাণ করিবে সেই ক্ষতি।
বারে বারে নিতে তুমি গীতিস্রোতে কবি-আশীর্বাণী,
তাহারে আপন পাত্রে প্রণামে ফিরায়ে দিতে আনি।
          জীবনের দেওয়া-নেওয়া সেই
          ঘুচিল অন্তিম নিমেষেই--
স্নেহোজ্জ্বল কল্যাণের সে সম্বন্ধ তোমার আমার
গানের নির্মাল্য-সাথে নিয়ে গেলে মরণের পার।
হায় হায়, এত প্রিয়, এতই দুর্লভ যে সঞ্চয়
একদিনে অকস্মাৎ তারও যে ঘটিতে পারে লয়!
          হে অসীম, তব বক্ষোমাঝে
          তার ব্যথা কিছুই না বাজে,
          সৃষ্টির নেপথ্যে সেও আছে তব দৃষ্টির ছায়ায়--
স্তব্ধবীণা রঙ্গগৃহে মোরা বৃথা করি "হায় হায়'।
হে বৎসে, যা দিয়েছিলে আমাদের আনন্দভাণ্ডারে
তারি স্মৃতিরূপে তুমি বিরাজ করিবে চারিধারে।
          আমাদের আশ্রম-উৎসব
          যখনই জাগাবে গীতরব
তখনই তাহার মাঝে অশ্রুত তোমার কণ্ঠস্বর
অশ্রুর আভাস দিয়ে অভিষিক্ত করিবে অন্তর।
আরো দেখুন