জন্মদিনের গান (jonmodiner gan)

বেহাগ । চৌতাল

 

ভয় হতে তব অভয়মাঝারে

          নূতন জনম দাও হে!

দীনতা হইতে অক্ষয় ধনে,

সংশয় হতে সত্যসদনে,

জড়তা হইতে নবীন জীবনে

          নূতন জনম দাও হে!

 

আমার ইচ্ছা হইতে হে প্রভু,

          তোমার ইচ্ছা-মাঝে,

আমার স্বার্থ হইতে হে প্রভু,

          তব মঙ্গল কাজে--

অনেক হইতে একের ডোরে,

সুখদুখ হতে শান্তিক্রোড়ে,

আমা হতে নাথ, তোমাতে মোরে

          নূতন জনম দাও হে!

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

প্রকাশ
Verses
খুঁজতে যখন এলাম সেদিন কোথায় তোমার গোপন অশ্রুজল,
           সে পথ আমায় দাও নি তুমি বলে।
বাহির-দ্বারে অধীর খেলা, ভিড়ের মাঝে হাসির কোলাহল,
                    দেখে এলেম চলে।
              এই ছবি মোর ছিল মনে--
              নির্জনমন্দিরের কোণে
                    দিনের অবসানে
সন্ধ্যাপ্রদীপ আছে চেয়ে ধ্যানের চোখে সন্ধ্যাতারার পানে।
              নিভৃত ঘর কাহার লাগি
              নিশীত-রাতে রইল জাগি,
                    খুলল না তার দ্বার।
              হে চঞ্চলা, তুমি বুঝি
              আপনিও পথ পাও নি খুঁজি,
                    তোমার কাছে সে ঘর অন্ধকার।
জানি তোমার নিকুঞ্জে আজ পলাশ-শাখায় রঙের নেশা লাগে,
           আপন গন্ধে বকুল মাতোয়ারা।
কাঙাল সুরে দখিন বাতাস বনে বনে গুপ্ত কী ধন মাগে,
                    বেড়ায় নিদ্রাহারা।
              হায় গো তুমি জান না যে
              তোমার মনের তীর্থমাঝে
                         পূজা হয় নি আজও।
দেব্‌তা তোমার বুভুক্ষিত, মিথ্যা-ভূষায় কী সাজ তুমি সাজো।
              হল সুখের শয়ন পাতা,
              কণ্ঠহারের মানিক গাঁথা,
                       প্রমোদ-রাতের গান,
              হয় নি কেবল চোখের জলে
              লুটিয়ে মাথা ধুলার তলে
        আপন-ভোলা সকল-শেষের দান।
ভোলাও যখন তখন সে কোন্‌ মায়ার ঢাকা পড়ে তোমার 'পরে --
           ভুলবে যখন তখন প্রকাশ পাবে;
উষার মতো অমল হাসি জাগবে তোমার আঁখির নীলাম্বরে
                    গভীর অনুভাবে।
              ভোগ সে নহে, নয় বাসনা,
                  নয় আপনার উপাসনা,
                    নয়কো অভিমান--
সরল প্রেমের সহজ প্রকাশ, বাইরে যে তার নাই রে পরিমাণ।
              আপন প্রাণের চরম কথা
              বুঝবে যখন, চঞ্চলতা
                    তখন হবে চুপ।
              তখন দুঃখসাগর-তীরে
                  লক্ষ্মী উঠে আসবে ধীরে
                        রূপের কোলে পরম অপরূপ।
আরো দেখুন
বৈষ্ণব কবিতা
Verses
    শুধু বৈকুণ্ঠের তরে বৈষ্ণবের গান!
    পূর্বরাগ, অনুরাগ, মান-অভিমান,
    অভিসার, প্রেমলীলা, বিরহ-মিলন,
    বৃন্দাবনগাথা-- এই প্রণয়-স্বপন
    শ্রাবণের শর্বরীতে কালিন্দীর কূলে,
    চারি চক্ষে চেয়ে দেখা কদম্বের মূলে
    শরমে সম্ভ্রমে-- এ কি শুধু দেবতার!
    এ সংগীতরসধারা নহে মিটাবার
    দীন মর্তবাসী এই নরনারীদের
    প্রতিরজনীর আর প্রতিদিবসের
    তপ্ত প্রেমতৃষা?
               এ গীত-উৎসব-মাঝে
    শুধু তিনি আর ভক্ত নির্জনে বিরাজে;
    দাঁড়ায়ে বাহির-দ্বারে মোরা নরনারী
    উৎসুক শ্রবণ পাতি শুনি যদি তারি
    দুয়েকটি তান-- দূর হতে তাই শুনে
    তরুণ বসন্তে যদি নবীন ফাল্গুনে
    অন্তর পুলকি উঠে, শুনি সেই সুর
    সহসা দেখিতে পাই দ্বিগুণ মধুর
    আমাদের ধরা-- মধুময় হয়ে উঠে
    আমাদের বনচ্ছায়ে যে নদীটি ছুটে,
    মোদের কুটির-প্রান্তে যে-কদম্ব ফুটে
    বরষার দিনে-- সেই প্রেমাতুর তানে
    যদি ফিরে চেয়ে দেখি মোর পার্শ্ব-পানে
    ধরি মোর বাম বাহু রয়েছে দাঁড়ায়ে
    ধরার সঙ্গিনী মোর, হৃদয় বাড়ায়ে
    মোর দিকে, বহি নিজ মৌন ভালোবাসা,
    ওই গানে যদি বা সে পায় নিজ ভাষা,
    যদি তার মুখে ফুটে পূর্ণ প্রেমজ্যোতি--
    তোমার কি তাঁর, বন্ধু, তাহে কার ক্ষতি?
    সত্য করে কহ মোরে হে বৈষ্ণব কবি,
    কোথা তুমি পেয়েছিলে এই প্রেমচ্ছবি,
    কোথা তুমি শিখেছিলে এই প্রেমগান
    বিরহ-তাপিত। হেরি কাহার নয়ান,
    রাধিকার অশ্রু-আঁখি পড়েছিল মনে?
    বিজন বসন্তরাতে মিলনশয়নে
    কে তোমারে বেঁধেছিল দুটি বাহুডোরে,
    আপনার হৃদয়ের অগাধ সাগরে
    রেখেছিল মগ্ন করি! এত প্রেমকথা--
    রাধিকার চিত্তদীর্ণ তীব্র ব্যাকুলতা
    চুরি করি লইয়াছ কার মুখ, কার
    আঁখি হতে! আজ তার নাহি অধিকার
    সে সংগীতে! তারি নারীহৃদয়-সঞ্চিত
    তার ভাষা হতে তারে করিবে বঞ্চিত
    চিরদিন!
                 আমাদেরি কুটির-কাননে
    ফুটে পুষ্প, কেহ দেয় দেবতা-চরণে,
    কেহ রাখে প্রিয়জন-তরে-- তাহে তাঁর
    নাহি অসন্তোষ। এই প্রেমগীতি হার
    গাঁথা হয় নরনারী-মিলনমেলায়,
    কেহ দেয় তাঁরে, কেহ বঁধুর গলায়।
    দেবতারে যাহা দিতে পারি, দিই তাই
    প্রিয়জনে-- প্রিয়জনে যাহা দিতে পাই,
    তাই দিই দেবতারে; আর পাব কোথা!
    দেবতারে প্রিয় করি, প্রিয়েরে দেবতা।
    বৈষ্ণব কবির গাঁথা প্রেম-উপহার
    চলিয়াছে নিশিদিন কত ভারে ভার
    বৈকুণ্ঠের পথে। মধ্যপথে নরনারী
    অক্ষয় সে সুধারাশি করি কাড়াকাড়ি
    লইতেছে আপনার প্রিয়গৃহতরে
    যথাসাধ্য যে যাহার; যুগে যুগান্তরে
    চিরদিন পৃথিবীতে যুবকযুবতী--
    নরনারী এমনি চঞ্চল মতিগতি।
    দুই পক্ষে মিলে একেবারে আত্মহারা
    অবোধ অজ্ঞান। সৌন্দর্যের দস্যু তারা
    লুটেপুটে নিতে চায় সব। এত গীতি,
    এত ছন্দ, এত ভাবে উচ্ছ্বাসিত প্রীতি,
    এত মধুরতা দ্বারের সম্মুখ দিয়া
    বহে যায়-- তাই তারা পড়েছে আসিয়া
    সবে মিলি কলরবে সেই সুধাস্রোতে।
    সমুদ্রবাহিনী সেই প্রেমধারা হতে
    কলস ভরিয়া তারা লয়ে যায় তীরে
    বিচার না করি কিছু, আপন কুটিরে
    আপনার তরে। তুমি মিছে ধর দোষ,
    সে সাধু পণ্ডিত, মিছে করিতেছ রোষ।
    যাঁর ধন তিনি ওই অপার সন্তোষে
    অসীম স্নেহের হাসি হাসিছেন বসে।
আরো দেখুন
73
Verses
THE SPRING with its leaves and flowers has come into my body.
The bees hum there the morning long, and the winds idly play with the shadows.
A sweet fountain springs up from the heart of my heart.
My eyes are washed with delight like the dew-bathed morning, and life is quivering in all my limbs like the sounding strings-of the lute.
Are you wandering alone by the shore of my life, where the tide is in flood, 0 lover of my endless days?
Are my dreams flitting round you like the moths with their many-
coloured wings?
And are those your songs that are echoing in the dark caves of my being?
Who but you can hear the hum of the crowded hours that sounds in my veins to-day, the glad steps that dance in my breast, the clamour of the restless life beating its wings in my body?
আরো দেখুন