২১ (roktomakha dontopongti hingsro songramer)

রক্তমাখা দন্তপংক্তি হিংস্র সংগ্রামের

শত শত নগরগ্রামের

অন্ত্র আজ ছিন্ন ছিন্ন করে;

ছুটে চলে বিভীষিকা মূর্ছাতুর দিকে দিগন্তরে।

বন্যা নামে যমলোক হতে,

রাজ্যসাম্রাজ্যের বাঁধ লুপ্ত করে সর্বনাশা স্রোতে।

যে লোভ-রিপুরে

লয়ে গেছে যুগে যুগে দূরে দূরে

সভ্য শিকারীর দল পোষমানা শ্বাপদের মতো,

দেশবিদেশের মাংস করেছে বিক্ষত,

লোলজিহ্বা সেই কুকুরের দল

অন্ধ হয়ে ছিঁড়িল শৃঙ্খল,

ভুলে গেল আত্মপর;

আদিম বন্যতা তার উদ্‌বারিয়া উদ্দাম নখর

পুরাতন ঐতিহ্যের পাতাগুলা ছিন্ন করে,

ফেলে তার অক্ষরে অক্ষরে

পঙ্কলিপ্ত চিহ্নের বিকার।

অসন্তুষ্ট বিধাতার

ওরা দূত বুঝি,

শত শত বর্ষের পাপের পুঁজি

ছড়াছড়ি করে দেয় এক সীমা হতে সীমান্তরে,

রাষ্ট্রমদমত্তদের মদ্যভান্ড চূর্ণ করে

আবর্জনাকুণ্ডতলে।

মানব আপন সত্তা ব্যর্থ করিয়াছে দলে দলে,

বিধাতার সংকল্পের নিত্যই করেছে বিপর্যয়

ইতিহাসময়।

সেই পাপে

আত্মহত্যা-অভিশাপে

আপনার সাধিছে বিলয়।

হয়েছে নির্দয়

আপন ভীষণ শত্রু আপনার 'পরে,

ধূলিসাৎ করে

ভুরিভোজী বিলাসীর

ভাণ্ডারপ্রাচীর।

শ্মশানবিহারবিলাসিনী

ছিন্নমস্তা,মুহূর্তেই মানুষের সুখস্বপ্ন জিনি

বক্ষ ভেদি দেখা দিল আত্মহারা,

শতস্রোতে নিজ রক্তধারা

নিজে করি পান।

এ কুৎসিত লীলা যবে হবে অবসান,

বীভৎস তান্ডবে

এ পাপযুগের অন্ত হবে,

মানব তপস্বীবেশে

চিতাভস্মশয্যাতলে  এসে

নবসৃষ্টি-ধ্যানের আসনে

স্থান লবে নিরাসক্তমনে--

আজি সেই সৃষ্টির আহ্বান

ঘোষিছে কামান।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

শরতে আজ কোন্‌ অতিথি
Verses
শরতে আজ কোন্‌ অতিথি
       এল প্রাণের দ্বারে।
আনন্দগান গা রে হৃদয়,
       আনন্দগান গা রে।
             নীল আকাশের নীরব কথা
             শিশির-ভেজা ব্যাকুলতা
             বেজে উঠুক আজি তোমার
                           বীণার তারে তারে।
শস্যখেতের সোনার গানে
যোগ দে রে আজ সমান তানে,
ভাসিয়ে দে সুর ভরা নদীর
       অমল জলধারে।
              যে এসেছে তাহার মুখে
              দেখ্‌ রে চেয়ে গভীর সুখে,
              দুয়ার খুলে তাহার সাথে
                           বাহির হয়ে যা রে।
আরো দেখুন
1
Verses
বিশ্বের আলোকলুপ্ত তিমিরের অন্তরালে এল
মৃত্যুদূত চুপে চুপে; জীবনের দিগন্ত-আকাশে
যত ছিল সূক্ষ্ম ধূলি স্তরে স্তরে, দিল ধৌত করি
ব্যথার দ্রাবক রসে, দারুণ স্বপ্নের তলে তলে
চলেছিল পলে পলে দৃঢ়হস্তে নিঃশব্দে মার্জনা।
কোন্‌ ক্ষণে নটলীলা-বিধাতার নবনাট্যভূমে
উঠে গেল যবনিকা। শূন্য হতে জ্যোতির তর্জনী
স্পর্শ দিল এক প্রান্তে স্তম্ভিত বিপুল অন্ধকারে
আলোকের থরহর শিহরণ চমকি চমকি
ছুটিল বিদ্যুৎবেগে অসীম তন্দ্রার স্তূপে স্তূপে--
দীর্ণ দীর্ণ করি দিল তারে। গ্রীষ্মরিক্ত অবলুপ্ত
নদীপথে অকস্মাৎ প্লাবনের দুরন্ত ধারায়
বন্যার প্রথম নৃত্য শুষ্কতার বক্ষে বিসর্পিয়া
ধায় যথা শাখায় শাখায় সেইমত জাগরণ
শূন্য আঁধারের গূঢ় নাড়ীতে নাড়ীতে-- অন্তঃশীলা
জ্যোতির্ধারা দিল প্রবাহিয়া। আলোকে আঁধারে মিলি
চিত্তাকাশে অর্ধস্ফুট অস্পষ্টের রচিল বিভ্রম।
অবশেষে দ্বন্দ্ব গেল ঘুচি। পুরাতন সম্মোহের
স্থূল কারাপ্রাচীরবেষ্টন, মুহূর্তেই মিলাইল
কুহেলিকা। নূতন প্রাণের সৃষ্টি হল অবারিত
স্বচ্ছ শুভ্র চৈতন্যের প্রথম প্রত্যুষ-অভ্যুদয়ে।
অতীতের সঞ্চয়পুঞ্জিত দেহখানা, ছিল যাহা
আসন্নের বক্ষ হতে ভবিষ্যের দিকে মাথা তুলি
বিন্ধ্যগিরিব্যবধানসম, আজ দেখিলাম
প্রভাতের অবসন্ন মেঘ তাহা,স্রস্ত হয়ে পড়ে
দিগন্তবিচ্যুত। বন্ধমুক্ত আপনারে লভিলাম
সুদূর অন্তরাকাশে, ছায়াপথ পার হয়ে গিয়ে
অলোক আলোকতীর্থে সূক্ষ্মতম বিলয়ের তটে।
আরো দেখুন
108
Verses
তোমার সঙ্গে আমার মিলন
      বাধল কাছেই এসে।
তাকিয়ে ছিলেম আসন মেলে--
    অনেক দূরের থেকে এলে,
আঙিনাতে বাড়িয়ে চরণ
      ফিরলে কঠিন হেসে--
    তীরের হাওয়ায় তরী উধাও
      পারের নিরুদ্দেশে।
আরো দেখুন