৩৮ (shorote aj kon otithi)

শরতে আজ কোন্‌ অতিথি

       এল প্রাণের দ্বারে।

আনন্দগান গা রে হৃদয়,

       আনন্দগান গা রে।

             নীল আকাশের নীরব কথা

             শিশির-ভেজা ব্যাকুলতা

             বেজে উঠুক আজি তোমার

                           বীণার তারে তারে।

 

শস্যখেতের সোনার গানে

যোগ দে রে আজ সমান তানে,

ভাসিয়ে দে সুর ভরা নদীর

       অমল জলধারে।

              যে এসেছে তাহার মুখে

              দেখ্‌ রে চেয়ে গভীর সুখে,

              দুয়ার খুলে তাহার সাথে

                           বাহির হয়ে যা রে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

16
Verses
পথিক দেখেছি আমি পুরাণে-কীর্তিত কত দেশ
কীর্তিনিঃস্ব আজি; দেখেছি অবমানিত ভগ্নশেষ
দর্পোদ্ধত প্রতাপের; অন্তর্হিত বিজয়নিশান
বজ্রাঘাতে স্তব্ধ যেন অট্টহাসি; বিরাট সম্মান
সাষ্টাঙ্গে সে ধুলায় প্রণত, যে ধুলার 'পরে মেলে
সন্ধ্যাবেলা ভিক্ষু জীর্ণ কাঁথা, যে ধুলায় চিহ্ন ফেলে
শ্রান্ত পদ পথিকের, পুনঃ সেই চিহ্ন লোপ করে
অসংখ্যের নিত্য পদপাতে। দেখিলাম বালুস্তরে
প্রচ্ছন্ন সুদূর যুগান্তর, ধূসর সমুদ্রতলে
যেন মগ্ন মহাতরী অকস্মাৎ ঝঞ্ঝাবর্তবলে,
লয়ে তার সব ভাষা, সর্ব দিনরজনীর আশা,
মুখরিত ক্ষুধাতৃষ্ণা, বাসনাপ্রদীপ্ত ভালোবাসা।
তবু করি অনুভব বসি এই অনিত্যের বুকে,
অসীমের হৃৎস্পন্দন তরঙ্গিছে মোর দুঃখে সুখে।
আরো দেখুন
181
Verses
বেদনার অশ্রু-ঊর্মিগুলি
     গহনের তল হতে
      রত্ন আনে তুলি।
আরো দেখুন
হতভাগ্যের গান
Verses
বিভাস । একতালা
বন্ধু,
    কিসের তরে অশ্রু ঝরে,
         কিসের লাগি দীর্ঘশ্বাস!
    হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে
         করব মোরা পরিহাস।
    রিক্ত যারা সর্বহারা
    সর্বজয়ী বিশ্বে তারা,
    গর্বময়ী ভাগ্যদেবীর
         নয়কো তারা ক্রীতদাস।
    হাস্যমুখে অদৃষ্টরে
         করব মোরা পরিহাস।
    আমার সুখের স্ফীত বুকের
         ছায়ার তলে নাহি চরি।
    আমার দুখের বক্র মুখের
         চক্র দেখে ভয় না করি।
    ভগ্ন ঢাকে যথাসাধ্য
    বাজিয়ে যাব জয়বাদ্য।
   ছিন্ন আশার ধ্বজা তুলে
       ভিন্ন করব নীলাকাশ।
    হাস্যমুখে অদৃষ্টরে
       করব মোরা পরিহাস।
   হে অলক্ষ্মী, রুক্ষকেশী
       তুমি দেবী অচঞ্চলা।
   তোমার রীতি সরল অতি,
       নাহি জান ছলাকলা।
   জ্বালাও পেটে অগ্নিকণা
   নাইকো তাহে প্রতারণা,
   টান যখন মরণ-ফাঁসি
       বল নাকো মিষ্টভাষ।
    হাস্যমুখে অদৃষ্টরে
       করব মোরা পরিহাস।
   ধরায় যারা সেরা সেরা
       মানুষ তারা তোমার ঘরে।
   তাদের কঠিন শয্যাখানি
       তাই পেতেছ মোদের তরে।
   আমরা বরপুত্র তব
   যাহাই দিবে তাহাই লব,
   তোমায় দিব ধন্যধ্বনি
       মাথায় বহি সর্বনাশ।
    হাস্যমুখে অদৃষ্টরে
       করব মোরা পরিহাস।
   যৌবরাজ্যে বসিয়ে দে মা,
       লক্ষ্মীছাড়ার সিংহাসনে।
   ভাঙা কুলোয় করুক পাখা
       তোমার যত ভৃত্যগণে।
   দগ্ধভালে প্রলয়-শিখা
   দিক্‌, মা, এঁকে তোমার টিকা--
   পরাও সজ্জা লজ্জাহারা
       জীর্ণকন্থা ছিন্নবাস।
    হাস্যমুখে অদৃষ্টরে
       করব মোরা পরিহাস।
   লুকোক তোমার ডঙ্কা শুনে
       কপট সখার শূন্য হাসি।
   পালাক ছুটে পুচ্ছ তুলে
       মিথ্যে চাটু মক্কা কাশী।
   আত্মপরের প্রভেদ-ভোলা
   জীর্ণ দুয়োর নিত্য খোলা,
   থাকবে তুমি থাকব আমি
       সমান-ভাবে বারো মাস।
    হাস্যমুখে অদৃষ্টরে
      করব মোরা পরিহাস।
   শঙ্কা তরাস লজ্জা-শরম
       চুকিয়ে দিলেম স্তুতি-নিন্দে।
   ধুলো, সে তোর পায়ের ধুলো,
       তাই মেখেছি ভক্তবৃন্দে।
   আশারে কই, "ঠাকুরাণী,
   তোমার খেলা অনেক জানি,
   যাহার ভাগ্যে সকল ফাঁকি
       তারেও ফাঁকি দিতে চাস!'
    হাস্যমুখে অদৃষ্টরে
       করব মোরা পরিহাস।
   মৃত্যু যেদিন বলবে "জাগো,
       প্রভাত হল তোমার রাতি',
   নিবিয়ে যাব আমার ঘরের
       চন্দ্র সূর্য দুটো বাতি।
   আমরা দোঁহে ঘেঁষাঘেঁষি
   চিরদিনের প্রতিবেশী,
   বন্ধুভাবে কণ্ঠে সে মোর
       জড়িয়ে দেবে বাহুপাশ,
   বিদায়-কালে অদৃষ্টরে
       করে যাব পরিহাস।
আরো দেখুন