স্বপ্ন দেখেছিনু প্রেমাগ্নিজ্বালার (swopno dekhechhinu premagni)

স্বপ্ন দেখেছিনু প্রেমাগ্নিজ্বালার

সুন্দর চুলের, সুগন্ধি মালার,

তিক্ত বচনের, মিষ্ট অধরের,

বিমুগ্ধ গানের, বিষণ্ণ স্বরের।

সে-সব মিলায়ে গেছে বহুদিন,

সে স্বপ্নপ্রতিমা কোথায় বিলীন।

শুধু সে অনন্ত জ্বলন্ত হুতাশ

ছন্দে বন্ধ হয়ে করিতেছে বাস।

তুমিও গো যাও, হে অনাথ গান,

সে স্বপ্নছবিরে করগে সন্ধান।

দিলাম পাঠায়ে, করিতে মেলানী,

ছায়া-প্রতিমারে বায়ুময়ী বাণী।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

ভৈরবী গান
Verses
ওগো,   কে তুমি বসিয়া উদাসমুরতি
                 বিষাদশান্ত শোভাতে!
ওই       ভৈরবী আর গেয়ো নাকো এই
                 প্রভাতে--
মোর     গৃহছাড়া এই পথিক-পরান
                 তরুণ হৃদয় লোভাতে।
ওই       মন-উদাসীন ওই আশাহীন
                 ওই ভাষাহীন কাকলি
দেয়      ব্যাকুল পরশে সকল জীবন
                 বিকলি।
দেয়      চরণে বাঁধিয়া প্রেমবাহু-ঘেরা
                 অশ্রুকোমল শিকলি।
হায়,     মিছে মনে হয় জীবনের ব্রত
                 মিছে মনে হয় সকলি।
যারে     ফেলিয়া এসেছি, মনে করি, তারে
                 ফিরে দেখে আসি শেষ বার।
ওই       কাঁদিছে সে যেন এলায়ে আকুল
                 কেশভার।
যারা      গৃহছায়ে বসি সজলনয়ন
                 মুখ মনে পড়ে সে সবার।
এই       সংকটময় কর্মজীবন
                 মনে হয় মরু সাহারা,
দূরে      মায়াময় পুরে দিতেছে দৈত্য
                 পাহারা।
তবে     ফিরে যাওয়া ভালো তাহাদের পাশে
                 পথ চেয়ে আছে যাহারা।
সেই      ছায়াতে বসিয়া সারা দিনমান
                 তরুমর্মর পবনে,
সেই      মুকুল-আকুল বকুলকুঞ্জ-
                 ভবনে,
সেই      কুহুকুহরিত বিরহরোদন
                 থেকে থেকে পশে শ্রবণে।
সেই      চিরকলতান উদার গঙ্গা
                 বহিছে আঁধারে আলোকে,
সেই      তীরে চিরদিন খেলিছে বালিকা-
                 বালকে।
ধীরে     সারা দেহ যেন মুদিয়া আসিছে
                 স্বপ্নপাখির পালকে।
হায়,     অতৃপ্ত যত মহৎ বাসনা
                 গোপনমর্মদাহিনী,
এই       আপনা মাঝারে শুষ্ক জীবন-
                 বাহিনী!
ওই       ভৈরবী দিয়া গাঁথিয়া গাঁথিয়া
                 চব নিরাশাকাহিনী
সদা       করুণ কন্ঠ কাঁদিয়া  গাহিবে,--
                 "হল না, কিছুই হবে না।
এই       মায়াময় ভবে চিরদিন কিছু
                 রবে না।
কেহ     জীবনের যত গুরুভার ব্রত
                 ধুলি হতে তুলি লবে না।
"এই     সংশয়মাঝে কোন্‌ পথে যাই,
                 কার তরে মরি খাটিয়া?
আমি     কার মিছে দুখে মরিতেছি বুক
                 ফাটিয়া?
ভবে      সত্য মিথ্যা কে করেছে ভাগ,
                 কে রেখেছে মত আঁটিয়া?
"যদি     কাজ নিতে হয়, কত কাজ আছে,
                 একা কি পারিব করিতে!
কাঁদে     শিশিরবিন্দু জগতের তৃষা
                 হরিতে!
কেন     অকূল সাগরে জীবন সঁপিব
                 একেলা জীর্ণ তরীতে!
"শেষে   দেখিব, পড়িল সুখযৌবন
                 ফুলের মতন খসিয়া,
হায়      বসন্তবায়ু মিছে চলে গেল
                 শ্বসিয়া,
সেই      যেখানে জগৎ ছিল এক কালে
                 সেইখানে আছে বসিয়া!
"শুধু    আমারি জীবন মরিল ঝুরিয়া
                 চিরজীবনের তিয়াষে।
এই       দগ্ধ হৃদয় এত দিন আছে
                 কী আশে!
সেই      ডাগর নয়ন, সরস অধর
                 গেল চলি কোথা দিয়া সে!"
ওগো,   থামো, যারে তুমি বিদায় দিয়েছ
                 তারে আর ফিরে চেয়ো না।
ওই       অশ্রুসজল ভৈরবী আর
                 গেয়ো না।
আজি    প্রথম প্রভাতে চলিবার পথ
                 নয়নবাষ্পে ছেয়ো না।
ওই       কুহকরাগিণী এখনি কেন গো
                 পথিকের প্রাণ বিবশে!
পথে     এখনো উঠিবে প্রখর তপন
                 দিবসে
পথে     রাক্ষসী সেই তিমিররজনী
                 না জানি কোথায় নিবসে!
থামো,   শুধু এক বার ডাকি নাম তাঁর
                 নবীন জীবন ভরিয়া--
যাব       যাঁর বল পেয়ে সংসারপথ
                 তরিয়া,
যত      মানবের গুরু মহৎজনের
                 চরণচিহ্ন ধরিয়া।
যাও      তাহাদের কাছে ঘরে যারা আছে
                 পাষাণে পরান বাঁধিয়া,
গাও      তাদের জীবনে তাদের বেদনে
                 কাঁদিয়া।
তারা     প'ড়ে ভূমিতলে ভাসে আঁখিজলে
                 নিজ সাধে বাদ সাধিয়া।
হায়,     উঠিতে চাহিছে পরান, তবুও
                 পারে না তাহারা উঠিতে।
তারা     পারে না ললিতলতার বাঁধন
                 টুটিতে।
তারা     পথ জানিয়াছে, দিবানিশি তবু
                 পথপাশে রহে লুটিতে!
তারা     অলস বেদন করিবে যাপন
                 অলস রাগিণী গাহিয়া,
রবে      দূর আলো-পানে আবিষ্ট তারা
                 দিবসরজনী বাহিয়া।
সেই      আপনার গানে আপনি গলিয়া
                 আপনারে তারা ভুলাবে,
স্নেহে   আপনার দেহে সকরুণ কর
                 বুলাবে।
সুখ       কোমল শয়নে রাখিয়া জীবন
                 ঘুমের দোলায় দোলাবে।
ওগো,   এর চেয়ে ভালো প্রখর দহন,
                 নিঠুর আঘাত চরণে।
যাব       আজীবন কাল পাষাণকঠিন
                 সরণে।
যদি       মৃত্যুর মাঝে নিয়ে যায় পথ,
                 সুখ আছে সেই মরণে।
আরো দেখুন
লীলা
Verses
    আমি    শরৎশেষের মেঘের মতো
                   তোমার গগন-কোণে
    সদাই       ফিরি অকারণে।
              তুমি আমার চিরদিনের
                   দিনমণি গো--
              আজো তোমার কিরণপাতে
              মিশিয়ে দিয়ে আলোর সাথে
              দেয় নি মোরে বাষ্প ক'রে
                   তোমার পরশনি।
              তোমা হতে পৃথক হয়ে
                   বৎসর মাস গণি।
    ওগো,  এমনি তোমার ইচ্ছা যদি,
                   এমনি খেলা তব,
    তবে         খেলাও নব নব।
              লয়ে আমার তুচ্ছ কণিক
                   ক্ষণিকতা গো--
              সাজাও তারে বর্ণে বর্ণে,
              ডুবাও তারে তোমার স্বর্ণে,
              বায়ুর স্রোতে ভাসিয়ে তারে
                   খেলাও যথা-তথা।
              শূন্য আমায় নিয়ে রচ
                   নিত্যবিচিত্রতা।
    ওগো,  আবার যবে ইচ্ছা হবে
                   সাঙ্গ কোরো খেলা
    ঘোর         নিশীথরাত্রিবেলা।
              অশ্রুধারে ঝরে যাব
                   অন্ধকারে গো--
              প্রভাতকালে রবে কেবল
              নির্মলতা শুভ্রশীতল,
              রেখাবিহীন মুক্ত আকাশ
                   হাসবে চারি ধারে।
              মেঘের খেলা মিশিয়ে যাবে
                   জ্যোতিসাগরপারে।
আরো দেখুন
অস্তাচলের পরপারে
Verses
সন্ধ্যাসূর্যের প্রতি
আমার এ গান তুমি যাও সাথে করে
নূতন সাগরতীরে দিবসের পানে।
সায়াহ্নের কূল হতে যদি ঘুমঘোরে
এ গান উষার কূলে পশে কারো কানে,
সারা রাত্রি নিশীথের সাগর বাহিয়া
স্বপনের পরপারে যদি ভেসে যায়,
প্রভাত-পাখিরা যবি উঠিবে গাহিয়া
আমার এ গান তারা যদি খুঁজে পায়।
গোধূলির তীরে বসে কেঁদেছে যে জন,
ফেলেছে আকাশে চেয়ে অশ্রুজল কত,
তার অশ্রু পড়িবে কি হইয়া নূতন
নবপ্রভাতের মাঝে শিশিরের মতো।
সায়াহ্নের কুঁড়িগুলি আপনা টুটিয়া
প্রভাতে কি ফুল হয়ে উঠে না ফুটিয়া।
আরো দেখুন