৫২ (kachhe thaki jobe)

কাছে থাকি যবে

      ভুলে থাকো,

দূরে গেলে যেন

      মনে রাখো।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

সংযোজন - অবিচার
Verses
নারীর দুখের দশা অপমানে জড়ানো
এই দেখি দিকে দিকে ঘরে ঘরে ছড়ানো।
জানো কি এ অন্যায় সমাজের হিসাবে
নিমেষে নিমেষে কত হলাহল মিশাবে?
পুরুষ জেনেছে এটা বিধিনির্দিষ্ট
তাদের জীবন-ভোজে নারী উচ্ছিষ্ট।
রোগ-তাপে সেবা পায়, লয় তাহা অলসে--
সুধা কেন ঢালে বিধি ছিদ্র এ কলসে!
সমসম্মান হেথা নাহি মানে পুরুষে,
নিজ প্রভুপদমদে তুলে রয় ভুরু সে।
অর্ধেক কাপুরুষ অর্ধেক রমণী
তাতেই তো নাড়ীছাড়া এ দেশের ধমণী।
বুঝিতে পারে না ওরা-- এ বিধানে ক্ষতি কার।
জানি না কী বিপ্লবে হবে এর প্রতিকার।
একদা পুরুষ যদি পাপের বিরুদ্ধে
দাঁড়ায়ে নারীর পাশে নাহি নামে যুদ্ধে
অর্ধেক-কালি-মাখা সমাজের বুকটা
খাবে তবে বারে বারে শনির চাবুকটা।
এত কথা বৃথা বলা--যে পেয়েছে ক্ষমতা
নিঃসহায়ের প্রতি নাই তার মমতা,
আপনার পৌরুষ করি দিয়া লাঞ্ছিত
অবিচার করাটাই হয় তার বাঞ্ছিত।
আরো দেখুন
শিশির
Verses
                   শিশির কাঁদিয়া শুধু বলে,
"কেন মোর হেন ক্ষুদ্র প্রাণ--
                   শিশুটির কল্পনার মতো
                   জনমি অমনি অবসান?
                   ঘুম-ভাঙা উষা-মেয়েটির
                   একটি সুখের অশ্রু হায়,
                   হাসি তার ফুরাতে ফুরাতে
                   এ অশ্রুটি শুকাইয়া যায়।
                   টুকটুকে মুখখানি নিয়ে
                   গোলাপ হাসিছে মুচকিয়ে,  
                   বকুল প্রাণের সুধা দিয়ে,
                   বায়ুর মাতাল করি তুলে--
                   প্রজাপতি ভাবিয়া না পায়
                   কাহারে তাহার প্রাণ চায়,
                   তুলিয়া অলস পাখা দুটি
                   ভ্রমিতেছে ফুল হতে ফুলে--
                   সেই হাসি-রাশির মাঝারে
                   আমি কেন থাকিতে না পাই!
                   যেমনি নয়ন মেলি, হায়,
                   সুখের নিমেষটির প্রায়,
                   অতৃপ্ত হাসিটি মুখে লয়ে
                   অমনি কেন গো মরে যাই।"
                   শুয়ে শুয়ে অশোক-পাতায়
                   মুমূর্ষু শিশির বলে,"হায়,
                   কোনো সুখ ফুরায় নি যার
                   তার কেন জীবন ফুরায়?"
                   "আমি কেন হই নি শিশির?"
                   কহে কবি নিশ্বাস ফেলিয়া।  
                   "প্রভাতেই যেতেম শুকায়ে
                   প্রভাতেই নয়ন মেলিয়া।
                   হে বিধাতা, শিশিরের মতো
                   গড়েছ আমার এই প্রাণ,
                   শিশিরের মরণটি কেন
                   আমারে কর নি তবে দান?"
আরো দেখুন
খ্যাতি
Verses
   ভাই নিশি,
        তখন উনিশ আমি, তুমি হবে বুঝি
    পঁচিশের কাছাকাছি।
        তোমার দুখানা বই ছাপা হয়ে গেছে--
    "ক্ষান্তপিসি,' তার পরে "পঞ্চুর মৌতাত'।
তা ছাড়া মাসিকপত্র কালচক্রে ক্রমে বের হল
        "রক্তের আঁচড়'।
           হুলুস্থূল পড়ে গেল দেশে।
               কলেজের সাহিত্যসভায়।
           সেদিন বলেছিলেম বঙ্কিমের চেয়ে তুমি বড়ো,
                   তাই নিয়ে মাথা-ফাটাফাটি।
           আমাকে খ্যাপাত দাদা নিশি-পাওয়া ব'লে।
                       কলেজের পালা-শেষে
                          করেছি ডেপুটিগিরি,
               ইস্তফা দিয়েছি কাজে স্বদেশীর দিনে।
                   তার পর থেকে, যা আমার
           সৌভাগ্য অভাবনীয় তাই ঘটে গেল--
                       বন্ধুরূপে পেলেম তোমাকে।
               কাছে পেয়ে কোনোদিন
                       তোমাকে করি নি খাটো--
    ছোটো বড়ো নানা ত্রুটি সেও আমি হেসে ভালোবেসে
           তোমার মহত্ত্বে সবই মিলিয়ে নিয়েছি।
এ ধৈর্য, এ পূর্ণদৃষ্টি, এও যে তোমারি কাছে শেখা।
               দোষে ভরা অসামান্য প্রাণ,
        সে চরিত্র-রচনায় সব চেয়ে ওস্তাদি তোমার
                          সে তো আমি জানি।
    তার পরে কতবার অনুরোধ করেছ কেবলই--
           বলেছিলে, "লেখো, লেখো, গল্প লেখো।
        লেখকের মঞ্চে ছিল পিঠ-উঁচু তোমারি চৌকিটা।
           আত্ম-অবিশ্বাসে শুধু আটকে পড়েছ
               পড়ুয়ার নীচের বেঞ্চিতে।'
           শেষকালে বহু ইতস্তত ক'রে
                   লেখা করলেম শুরু।
    বিষয়টা ঘটেছিল আমারি আমলে
               পান্‌তিঘাটায়।
        আসামি পোলিটিকাল,
               সাতমাস পলাতকা।
    মাকে দেখে যাবে বলে একদিন রাত্রে এসেছিল
               প্রাণ হাতে ক'রে।
        খুড়ো গেল পুলিসে খবর দিতে।
               কিছুদিন নিল সে আশ্রয়
                   জেলেনীর ঘরে।
    যখন পড়ল ধরা সত্য সাক্ষ্য দিল খুড়ো,
               মিথ্যে সাক্ষ্য দিয়েছে জেলেনী।
    জেলেনীকে দিতে হল জেলে,
               খুড়ো হল সাব্‌রেজিস্ট্রার।
গল্পখানা পড়ে
        বিস্তর বাহবা দিয়েছিলে।
           খাতাখানা নিজে নিয়ে
               শম্ভু সাণ্ডেলের ঘরে
    বলে এলে-- কালচক্রে অবিলম্বে বের হওয়া চাই।
               বের হল মাসে মাসে--
        শুক্‌নো কাশে আগুনের মতো
    ছড়িয়ে পড়ল খ্যাতি নিমেষে নিমেষে।
           বাঁশরি'তে লিখে দিল--
    কোথা লাগে আশুবাবু এ নবীন লেখকের কাছে।
           শুনে হেসেছিলে তুমি।
    পাঞ্চজন্যে লিখেছিল রতিকান্ত ঘোষ--
        এত দিনে বাঙলা ভাষায়
           সত্য লেখা পাওয়া গেল
                   ইত্যাদি ইত্যাদি।
এবার হাস নি তুমি।
        তার পর থেকে
           তোমার আমার মাঝখানে
               খ্যাতির কাঁটার বেড়া ক্রমে ঘন হল।
        এখন আমার কথা শোনো।
           আমার এ খ্যাতি
        আধুনিক মত্ততার ইঞ্চিদুই পলিমাটি-'পরে
               হঠাৎ-গজিয়ে-ওঠা।
           স্টুপিড জানে না--
        মূল এর বেশি দূর নয়;
           ফল এর কোনোখানে নেই,
               কেবলই পাতার ঘটা।
তোমার যে পঞ্চু সে তো বাঙলার ডন্‌কুইক্সোট,
               তার যা মৌতাত
        সে যে জন্মখ্যাপাদের মগজে মগজে
               দেশে দেশে দেখা দেয় চিরকাল।
        আমার এ কুঞ্জলাল তুবড়ির মতো
                   জ্বলে আর নেবে--
               বোকাদের চোখে লাগে ধাঁধা।
        আমি জানি তুমি কতখানি বড়ো।
    এ ফাঁকা খ্যাতির চোরা মেকি পয়সায়
                   বিকাব কি বন্ধুত্ব তোমার।
        কাগজের মোড়কটা খুলে দেখো,
                   আমার লেখার দগ্ধশেষ।
           আজ বাদে কাল হ'ত ধুলো,
                   আজ হোক ছাই।
আরো দেখুন