অসহ্য ভালবাসা (asahya bhaalabaasaa)

    বুঝেছি গো বুঝেছি সজনি,

           কী ভাব তোমার মনে জাগে,

    বুক-ফাটা প্রাণ-ফাটা মোর ভালোবাসা

       এত বুঝি ভালো নাহি লাগে।

    এত ভালোবাসা বুঝি পার না সহিতে,

       এত বুঝি পার না বহিতে।

       যখনি গো নেহারি তোমায়--

    মুখ দিয়া আঁখি দিয়া   বাহিরিতে চায় হিয়া,

       শিরার শৃঙ্খলগুলি ছিঁড়িয়া ফেলিতে চায়,  

    ওই মুখ বুকে ঢাকে,   ওই হাতে হাত রাখে,

       কী করিবে ভাবিয়া না পায়,

       যেন তুমি কোথা আছ  খুঁজিয়া না পায়।

     মন মোর পাগলের হেন  প্রাণপণে শুধায় যেন,

     "প্রাণের  প্রাণের মাঝে কী করিলে তোমারে গো পাই,

       যে ঠাঁই রয়েছে  শূন্য, কী করিলে সে শূন্য পুরাই।"

                  এইরূপে দেহের দুয়ারে

                 মন যবে থাকে যুঝিবারে,

                 তুমি চেয়ে দেখ মুখ-বাগে--

                 এত বুঝি ভালো নাহি লাগে।

                 তুমি চাও যবে মাঝে মাঝে

                 অবসর পাবে তুমি কাজে

                 আমারে ডাকিবে একবার--

কাছে গিয়া বসিব তোমার,

                 মৃদু মৃদু সুমধুর বাণী

                 কব তব কানে কানে রানী।

                 তুমিও কহিবে মৃদু ভাষ,

                 তুমিও হাসিবে মৃদু হাস,  

                 হৃদয়ের মৃদু খেলাখেলি--

                 ফুলেতে ফুলেতে হেলাহেলি।

                 চাও তুমি দুঃখহীন প্রেম

                 ছুটে যেথা ফুলের সুবাস,

                 উঠে যেথা জোছনালহরী,

                 বহে যেথা বসন্তবাতাস।

                 নাহি চাও আত্মহারা প্রেম

                 আছে যেথা অনন্ত পিয়াস,

                 বহে যেথা চোখের সলিল,

                 উঠে যেথা দুখের নিশ্বাস।

                 প্রাণ যেথা কথা ভুলে যায়,  

                 আপনারে ভুলে যায় হিয়া,

                 অচেতন চেতনা যেথায়,

                 চরাচর, ফেলে হারাইয়া।

    এমন কি কেহ নাই, বল্‌ মোরে বল্‌ আশা,

    মার্জনা করিবে মোর অতি--অতি ভালোবাসা!

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

হ্যারাম
Verses
                কখনো সাজায় ধূপ
                       কখনো বা মাল্য,
                গ্ল্যাক্সোধারায় মনে
                       এনে দেয় বাল্য।
                সরিষার তেলে দেহ
                       দেয় ক'ষে মাজিয়া।
                নিয়মের ত্রুটি হলে
                       করে ঘোর কাজিয়া--
                কোথা হতে নেমে আসে
                       বকুনির ঝাঁক তার,
                তর্জনী তুলে বলে
                       "ডেকে দেব ডাক্তার'।
                এইমত বসে আছি
                       আরামে ও ব্যারামে
                যেন বোগ্‌দাদে কোন্‌
                       নবাবের হ্যারামে॥
আরো দেখুন
43
Verses
I.82. pani vic min piyasi
I LAUGH WHEN I hear that the fish in the water is thirsty:
You do not see that the Real is in your home, and you wander from forest to forest listlessly!
Here is the truth! Go where you will, to Benares or to Mathura; if you do not find your soul, the world is unreal to you.
আরো দেখুন
36
Verses
আমার খোলা জানালাতে
শব্দবিহীন চরণপাতে
      কে এলে গো, কে গো তুমি এলে।
একলা আমি বসে আছি
অস্তলোকের কাছাকাছি
      পশ্চিমেতে দুটি নয়ন মেলে।
অতিসুদূর দীর্ঘ পথে
আকুল তব আঁচল হতে
      আঁধারতলে গন্ধরেখা রাখি
জোনাক-জ্বালা বনের শেষে
কখন এলে দুয়ারদেশে
      শিথিল কেশে ললাটখানি ঢাকি।
তোমার সাথে আমার পাশে
কত গ্রামের নিদ্রা আসে--
      পান্থবিহীন পথের বিজনতা,
ধূসর আলো কত মাঠের,
বধূশূন্য কত ঘাটের
      আঁধার কোণে জলের কলকথা।
শৈলতটের পায়ের 'পরে
তরঙ্গদল ঘুমিয়ে পড়ে,
      স্বপ্ন তারি আনলে বহন করি।
কত বনের শাখে শাখে
পাখির যে গান সুপ্ত থাকে
      এনেছ তাই মৌন নূপুর ভরি।
মোর ভালে ওই কোমল হস্ত
এনে দেয় গো সূর্য-অস্ত,
      এনে দেয় গো কাজের অবসান--
সত্যমিথ্যা ভালোমন্দ
সকল সমাপনের ছন্দ,
      সন্ধ্যানদীর নিঃশেষিত তান।
আঁচল তব উড়ে এসে
লাগে আমার বক্ষে কেশে,
      দেহ যেন মিলায় শূন্য'পরি,
চক্ষু তব মৃত্যুসম
স্তব্ধ আছে মুখে মম
      কালো আলোয় সর্বহৃদয় ভরি।
যেমনি তব দখিন-পাণি
তুলে নিল প্রদীপখানি,
      রেখে দিল আমার গৃহকোণে,
গৃহ আমার এক নিমেষে
ব্যাপ্ত হল তারার দেশে
      তিমিরতটে আলোর উপবনে।
আজি আমার ঘরের পাশে
গগনপারের কারা আসে
      অঙ্গ তাদের নীলাম্বরে ঢাকি।
আজি আমার দ্বারের কাছে
অনাদি রাত স্তব্ধ আছে
      তোমার পানে মেলি তাহার আঁখি।
এই মুহূর্তে আধেক ধরা
লয়ে তাহার আঁধার-ভরা
      কত বিরাম, কত গভীর প্রীতি,
আমার বাতায়নে এসে
দাঁড়ালো আজ দিনের শেষে--
      শোনায় তোমায় গুঞ্জরিত গীতি।
চক্ষে তব পলক নাহি,
ধ্রুবতারার দিকে চাহি
      তাকিয়ে আছ নিরুদ্দেশের পানে।
নীরব দুটি চরণ ফেলে
আঁধার হতে কে গো এলে
      আমার ঘরে আমার গীতে গানে।--
কত মাঠের শূন্যপথে,
কত পুরীর প্রান্ত হতে,
      কত সিন্ধুবালুর তীরে তীরে,
কত শান্ত নদীর পারে,
কত স্তব্ধ গ্রামের ধারে,
      কত সুপ্ত গৃহদুয়ার ফিরে,
কত বনের বায়ুর 'পরে
এলো চুলের আঘাত ক'রে
      আসিলে আজ হঠাৎ অকারণে।
বহু দেশের বহু দূরের
বহু দিনের বহু সুরের
      আনিলে গান আমার বাতায়নে।
আরো দেখুন