43 (let the earth and the)

LET THE EARTH and the water, the air and the fruits of my country

be sweet, my God.

Let the homes and marts, the forests and fields of my country be

full, my God

Let the promises and hopes, the deeds and words of my country be

true, my God.

Let the lives and hearts of the sons and daughters of my country

be one, my God.

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

নিষ্ঠুর সৃষ্টি
Verses
মনে হয় সৃষ্টি বুঝি বাঁধা নাই নিয়মনিগড়ে,
           আনাগোনা মেলামেশা সবই অন্ধ দৈবের ঘটনা।
                     এই ভাঙে, এই গড়ে,
                     এই উঠে, এই পড়ে--
           কেহ নাহি চেয়ে দেখে কার কোথা বাজিছে বেদনা।
           মনে হয়, যেন ওই আবারিত শূন্যতলপথে
           অকস্মাৎ আসিয়াছে সৃজনের বন্যা ভয়ানক--
                     অজ্ঞাত শিখর হতে
                     সহসা প্রচণ্ড স্রোতে
           ছুটে আসে সূর্য চন্দ্র, ধেয়ে আসে লক্ষ কোটি লোক।
           কোথাও পড়েছে আলো, কোথাও বা অন্ধকার নিশি,
           কোথাও সফেন শুভ্র, কোথাও বা আবর্ত আবিল,
                     সৃজনে প্রলয়ে মিশি
                     আক্রমিছে দশ দিশি--
           অনন্ত প্রশান্ত শূন্য তরঙ্গিয়া করিছে ফেনিল।
           মোরা শুধু খড়কুটো স্রোতোমুখে চলিয়াছি ছুটি,
           অর্ধ পলকের তরে কোথাও দাঁড়াতে নাহি ঠাঁই।
                     এই ডুবি, এই উঠি,
                     ঘুরে ঘুরে পড়ি লুটি--
           এই যারা কাছে আসে এই তারা কাছাকাছি নাই।
           সৃষ্টিস্রোত-কোলাহলে বিলাপ শুনিবে কে বা কার,
           আপন গর্জনে বিশ্ব আপনারে করেছে বধির।
                     শতকোটি হাহাকার
                     কলধ্বনি রচে তার--
           পিছু ফিরে চাহিবার কাল নাই, চলেছে অধীর।
হায় স্নেহ, হায় প্রেম, হায় তুই মানবহৃদয়,
           খসিয়া পড়িলি কোন্‌ নন্দনের তটতরু হতে?
                      যার লাগি সদা ভয়,
                      পরশ নাহিক সয়,
           কে তারে ভাসালে হেন জড়ময় সৃজনের স্রোতে?
           তুমি কি শুনিছ বসি হে বিধাতা, হে অনাদি কবি,
           ক্ষুদ্র এ মানবশিশু রচিতেছে প্রলাপজল্পনা?
                      সত্য আছে স্তব্ধ ছবি
                      যেমন উষার রবি,
           নিম্নে তারি ভাঙে গড়ে মিথ্যা যত কুহককল্পনা।
আরো দেখুন
10
Verses
সিউড়িতে হরেরাম মৈত্তির
পাঁজি দেখে সতেরোই চৈত্তির।
বলে, আজ যেতে হবে মথুরায়।
সেথা তার মামা আছে সতু রায়।
বেস্পতিবারে গাড়ি চ'ড়ে তার
চাকা ভাঙে নরসিংগড়ে তার।
তাই তার যাত্রাটা ঘুরুলে,
ফিরে এসে চলে গেল সুরুলে।
ঠিক হল যেতে হবে পেশোয়ার,
সেথা আছে সেজো মাসি মেসো আর।
এসে দেখে-একা আছে বউ সে,
মেসো গেছে পানিপথে পৌষে।
হাথুয়ার কাছাকাছি না যেতেই,
বাঙালি সে ধরা পড়ে সাজেতেই।
চোখ রাঙা ক'রে বলে দারোগা,
থানামে লে কর্‌ হম মারো গা।
ছোটো ভাই বেঁধে চিঁড়ে মুড়কি
সন্ন্যাসী হয়ে গেল রুড়কি।
ঠোক্কর খেয়ে পড়ে বোঁচকায়,
কুক্ষণে পা দুখানা মোচকায়।
শেষে গেল সুলতানপুরে সে,
গান ধরে মূলতান সুরে সে।
বেলাশেষে এল যবে বাম্‌ড়ায়
কী ভীষণ মশা তাকে কামড়ায়।
বুঝলে সে শান্ত যে হওয়া দায়,
গোরুর গাড়িতে চলে নওয়াদায়।
গোরুটা পড়ল মুখ থুবড়ি
ক্রোশ দুই থাকতেই ধুবড়ি।
কাটিহারে তুলে তাকে ধরল,
তখন সে পেট ফুলে মরল।
শুনেছে তিসির খুব নামো দর,
তাই পাড়ি দিতে গেল দামোদর।
দামোদরে বুধুরাম খেয়া দেয়,
চেপে বসে ডেপুটির পেয়াদায়।
শংকর ভোরবেলা চুঁচড়োয়।
হাউ-হাউ শব্দে গা মুচড়োয়।
নাড়াজোলে বড়োবাবু তখুনি
শুরু করে বংশুকে বকুনি।
বংশুর যত হোক খাটো আয়,
তবু তার বিয়ে হবে কাটোয়ায়।
বাঁধা হুঁকো বাঁধা নিয়ে খড়দার
ধার দিলে মতিরাম সর্দার।
"শাঁখা চাই' বলতেই শাঁখারি
বলে, শাঁখ আছে তিন টাকারই।
দর-কষাকষি নিয়ে অবশেষ
পুলিসথানায় হল সব শেষ।
সাসারামে চলে গেল লোক তার
খুঁজে যদি পাওয়া যায় মোক্তার।
সাক্ষীর খোঁজে গেল চেউকি,
গাঁজাখোর আছে সেথা কেউ কি।
সাথে নিয়ে ভুলুদা ও শশিদি
অনুকূল চলে গেছে জসিদি।
পথে যেতে বহু দুখ ভুগে রে
খোঁড়া ঘোড়া বেচে এল মুঙেরে।
মা ও দিকে বাতে তার পা খুঁড়ায়,
পড়ে আছে সাত দিন বাঁকুড়ায়।
ডক্তার তিনকড়ি সাণ্ডেল
বদলি করেছে বাসা বাণ্ডেল।
তাই লোক পাঠায় কোদার্‌মায়
চিঠি লিখে দিল সে ভোঁদার মায়।
সাতক্ষীরা এল চুপিচুপি সে,
তার পরে গেল পাঁচথুপি সে।
সেখানেতে মাছি প'ল ভাতে তার,
ঝগড়া হোটেলবাবু সাথে তার।
অতুল গিয়েছে কবে নাসিকে,
সঙ্গে নিয়েছে তার মাসিকে।
রাঁধবার লোক আছে মাদ্রাজি
সাতটাকা মাইনেয় আধ-রাজি।
লালচাঁদ যেতে যেতে পাকুড়ে
খিদেটা মেটায় শসা কাঁকুড়ে।
পৌঁছিয়ে বাহাদুরগঞ্জে
হাঁসফাঁস করে তার মন-যে।
বাসা খুঁজে সাথি তার কাঙলা
খুলনায় পেল এক বাঙলা।
শুধু একখানা ভাঙা চৌকি,
এখানেই থাকে মেজো বউ কি।
নেমে গেল যেথা কানুজংশন,
ভিমরুলে করে দিল দংশন।
ডাক্তারে বলে চুন লাগাতে
জ্বালাটাকে চায় যদি ভাগাতে।
চুন কিনতে সে গেল কাটনি,
কিনে এল আমড়ার চাটনি।
বিকানিরে পড়ল সে নাকালে,
উটে তাকে কী বিষম ঝাঁকালে।
বাড়িভাড়া করেছিল শ্বশুরই,
তাই খুশি মনে গেল মশুরি।
শ্বশুর উধাও হল না ব'লে,
জামাই কি ছাড়া পাবে তা ব'লে।
জায়গা পেয়েছে মালগাড়িতে,
হাত সে বুলাতেছিল দাড়িতে,
ঝাঁকা থেকে মুর্গিটা নাকে তার
ঠোকর মেরেছে কোন্‌ ফাঁকে তার।
নাকের গিয়েছে জাত রটে যায়,
গাঁয়ের মোড়ল সব চটে যায়।
কানপুর হতে এল পণ্ডিত,
বলে এরে করা চাই দণ্ডিত।
লাশা হতে শ্বেত কাক খুঁজিয়া
নাসাপথে পাখা দাও গুঁজিয়া।
হাঁচি তবে হবে শতশতবার,
নাক তার শুচি হবে ততবার।
তার পরে হল মজা ভরপুর
যখন সে গেল মজাফরপুর।
শালা ছিল জমাদার থানাতে,
ভোজ ছিল মোগলাই খানাতে।
জৌনপুরি কাবাবের গন্ধে
ভুরভুর করে সারা সন্ধে।
দেহটা এমনি তার তাতালে
যেতে হল মেয়ো-হাঁসপাতালে।
তার পরে কী যে'হল শেষটা
খবর না পাই করে চেষ্টা।
আরো দেখুন
বঙ্গলক্ষ্মী
Verses
তোমার মাঠের মাঝে, তব নদীতীরে,
তব আম্রবনে-ঘেরা সহস্র কুটিরে,
দোহনমুখর গোষ্ঠে, ছায়াবটমূলে,
গঙ্গার পাষাণঘাটে দ্বাদশ দেউলে,
হে নিত্যকল্যাণী লক্ষ্মী, হে বঙ্গজননী,
আপন অজস্র কাজ করিছ আপনি
অহর্নিশি হাস্যমুখে।
               এ বিশ্বসমাজে
তোমার পুত্রের হাত নাহি কোনো কাজে
নাহি জান সে বারতা, তুমি শুধু, মা গো,
নিদ্রিত শিয়রে তার নিশিদিন জাগ
মলয় বীজন করি। রয়েছ, মা, ভুলি
তোমার শ্রীঅঙ্গ হতে একে একে খুলি
সৌভাগ্যভূষণ তব, হাতের কঙ্কণ,
তোমার ললাটশোভা সীমন্তরতন,
তোমার গৌরব, তারা বাঁধা রাখিয়াছে
বহুদূর বিদেশের বণিকের কাছে।
নিত্যকর্মে রত শুধু, অয়ি মাতৃভূমি,
প্রত্যুষে পূজার ফুল ফুটাইছ তুমি,
মধ্যাহ্নে পল্লবাঞ্চল প্রসারিয়া ধরি
রৌদ্র নিবারিছ, যবে আসে বিভাবরী
চারি দিক হতে তব যত নদনদী
ঘুম পাড়াবার গান গাহে নিরবধি
ঘেরি ক্লান্ত গ্রামগুলি শত বাহুপাশে।
শরৎ-মধ্যাহ্নে আজি স্বল্প অবকাশে
ক্ষণেক বিরাম দিয়া পুণ্য গৃহকাজে
হিল্লোলিত হৈমন্তিক মঞ্জরীর মাঝে
কপোতকূজনাকুল নিস্তব্ধ প্রহরে
বসিয়া রয়েছ মাতঃ, প্রফুল্ল অধরে
বাক্যহীন প্রসন্নতা; স্নিগ্ধ আঁখিদ্বয়
ধৈর্যশান্ত দৃষ্টিপাতে চতুর্দিক্‌ময়
ক্ষমাপূর্ণ আশীর্বাদ করে বিকিরণ।
হেরি সেই স্নেহপ্লুত আত্মবিস্মরণ,
মধুর মঙ্গলচ্ছবি মৌন অবিচল,
নতশির কবিচক্ষে ভরি আসে জল।
আরো দেখুন