বঙ্গলক্ষ্মী (bongolokkhi)

তোমার মাঠের মাঝে, তব নদীতীরে,

তব আম্রবনে-ঘেরা সহস্র কুটিরে,

দোহনমুখর গোষ্ঠে, ছায়াবটমূলে,

গঙ্গার পাষাণঘাটে দ্বাদশ দেউলে,

হে নিত্যকল্যাণী লক্ষ্মী, হে বঙ্গজননী,

আপন অজস্র কাজ করিছ আপনি

অহর্নিশি হাস্যমুখে।

 

               এ বিশ্বসমাজে

তোমার পুত্রের হাত নাহি কোনো কাজে

নাহি জান সে বারতা, তুমি শুধু, মা গো,

নিদ্রিত শিয়রে তার নিশিদিন জাগ

মলয় বীজন করি। রয়েছ, মা, ভুলি

তোমার শ্রীঅঙ্গ হতে একে একে খুলি

সৌভাগ্যভূষণ তব, হাতের কঙ্কণ,

তোমার ললাটশোভা সীমন্তরতন,

তোমার গৌরব, তারা বাঁধা রাখিয়াছে

বহুদূর বিদেশের বণিকের কাছে।

 

নিত্যকর্মে রত শুধু, অয়ি মাতৃভূমি,

প্রত্যুষে পূজার ফুল ফুটাইছ তুমি,

মধ্যাহ্নে পল্লবাঞ্চল প্রসারিয়া ধরি

রৌদ্র নিবারিছ, যবে আসে বিভাবরী

চারি দিক হতে তব যত নদনদী

ঘুম পাড়াবার গান গাহে নিরবধি

ঘেরি ক্লান্ত গ্রামগুলি শত বাহুপাশে।

শরৎ-মধ্যাহ্নে আজি স্বল্প অবকাশে

ক্ষণেক বিরাম দিয়া পুণ্য গৃহকাজে

হিল্লোলিত হৈমন্তিক মঞ্জরীর মাঝে

কপোতকূজনাকুল নিস্তব্ধ প্রহরে

বসিয়া রয়েছ মাতঃ, প্রফুল্ল অধরে

বাক্যহীন প্রসন্নতা; স্নিগ্ধ আঁখিদ্বয়

ধৈর্যশান্ত দৃষ্টিপাতে চতুর্দিক্‌ময়

ক্ষমাপূর্ণ আশীর্বাদ করে বিকিরণ।

হেরি সেই স্নেহপ্লুত আত্মবিস্মরণ,

মধুর মঙ্গলচ্ছবি মৌন অবিচল,

নতশির কবিচক্ষে ভরি আসে জল।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

দেবদারু
Verses
দেবদারু, তুমি মহাবাণী
দিয়েছ মৌনের বক্ষে প্রাণমন্ত্র আনি--
          যে প্রাণ নিস্তব্ধ ছিল মরুদূর্গতলে
                   প্রস্তরশৃঙ্খলে
          কোটি কোটি যুগযুগান্তরে।
যে প্রথম যুগে তুমি দেখা দিলে নির্জনে প্রান্তরে,
রুদ্ধ অগ্নিতেজের উচ্ছ্বাস
          উদ্‌ঘাটন করি দিল ভবিষ্যের ইতিহাস--
                   জীবের কঠিন দ্বন্দ্ব অন্তহীন,
                   দুঃখে সুখে যুদ্ধ রাত্রিদিন,
                   জ্বেলে ক্ষোভহুতাশন
          অন্তরবিবরে যাহা সর্পসম করে অন্দোলন
                   শিখার রসনা
                   অশান্ত বাসনা।
                   স্নিগ্ধ স্তব্ধ রূপে
          শ্যামল শান্তিতে তুমি চুপে চুপে
          ধরণীর রঙ্গভূমে রচি দিলে কী ভূমিকা--
          তারই মাঝে প্রাণীর হৃদয়রক্তে লিখা
                   মহানাট্য জীবনমৃত্যুর,
                   কঠিন নিষ্ঠুর
                    দুর্গম পথের দুঃসাহস।
          যে পতাকা ঊর্ধ্বপানে তুলেছিল নিরলস,
          বলো কে জানিত তাহা নিরন্তর যুদ্ধের পতাকা,
                   সৌম্যকান্তি-দিয়ে-ঢাকা!
          কে জানিত, আজ আমি এ-জন্মের জীবন মন্থিয়া
                   যে বাণী উদ্ধার করি চলেছি গ্রন্থিয়া
                   দিনে দিনে আমার আয়ুতে,
                   সে যুগের বসন্তবায়ুতে
                             প্রথম নীরব মন্ত্র তারই
                   ভাষাহারা মর্মরেতে দিয়েছ বিস্তারি
                             তুমি, বনস্পতি,
                   মোর জ্যোতিবন্দনায় জন্মপূর্ব প্রথম প্রণতি!
আরো দেখুন
257
Verses
হে প্রিয়, দুঃখের বেশে
      আস যবে মনে
তোমারে আনন্দ ব'লে
      চিনি সেই ক্ষণে।
আরো দেখুন
বদল
Verses
হাসির কুসুম আনিল সে ডালি ভরি,
      আমি আনিলাম দুখবাদলের ফল।
শুধালেম তারে, "যদি এ বদল করি
                 হার হবে কার বল্‌।'
হাসি কৌতুকে কহিল সে সুন্দরী,
                 "এসো-না, বদল করি।
দিয়ে মোর হার লব ফলভার
                 অশ্রুর রসে ভরা।'
চাহিয়া দেখিনু মুখপানে তার
                 নিদয়া সে মনোহরা।
সে লইল তুলে আমার ফলের ডালা,
      করতালি দিল হাসিয়া সকৌতুকে।
আমি লইলাম তাহার ফুলের মালা,
                 তুলিয়া ধরিনু বুকে।
"মোর হল জয়' হেসে হেসে কয়,
                 দূরে চলে গেল ত্বরা।
উঠিল তপন মধ্যগগনদেশে,
                 আসিল দারুণ খরা--
সন্ধ্যায় দেখি তপ্ত দিনের শেষে
                 ফুলগুলি সব ঝরা।
আরো দেখুন