শরৎ (sharat)

আজি কি তোমার মধুর মূরতি

     হেরিনু শারদ প্রভাতে!

হে মাত বঙ্গ, শ্যামল অঙ্গ

     ঝলিছে অমল শোভাতে।

 

পারে না বহিতে নদী জলধার,

মাঠে মাঠে ধান ধরে নাকো আর--

ডাকিছে দোয়েল গাহিছে কোয়েল

     তোমার কাননসভাতে!

মাঝখানে তুমি দাঁড়ায়ে জননী,

     শরৎকালের প্রভাতে।

 

জননী, তোমার শুভ আহ্বান

     গিয়েছে নিখিল ভুবনে--

নূতন ধান্যে হবে নবান্ন

     তোমার ভবনে ভবনে।

অবসর আর নাহিকো তোমার--

আঁটি আঁটি ধান চলে ভারে ভার,

গ্রামপথে-পথে গন্ধ তাহার

     ভরিয়া উঠিছে পবনে।

জননী, তোমার আহ্বান লিপি

     পাঠায়ে দিয়েছ ভুবনে।

 

তুলি মেঘভার আকাশ তোমার

     করেছ সুনীলবরনী।

শিশির ছিটায়ে করেছ শীতল

     তোমার শ্যামল ধরণী।

স্থলে জলে আর গগনে গগনে

বাঁশি বাজে যেন মধুর লগনে,

আসে দলে দলে তব দ্বারতলে

     দিশি দিশি হতে তরণী।

আকাশ করেছ সুনীল অমল,

     স্নিগ্ধশীতল ধরণী।

 

বহিছে প্রথম শিশিরসমীর

     ক্লান্ত শরীর জুড়ায়ে--

কুটিরে কুটিরে নব নব আশা

     নবীন জীবন উড়ায়ে।

দিকে দিকে মাতা কত আয়োজন,

হাসিভরা মুখ তব পরিজন

ভাণ্ডারে তব সুখ নব নব

     মুঠা মুঠা লয় কুড়ায়ে।

ছুটেছে সমীর আঁচলে তাহার

     নবীন জীবন উড়ায়ে।

 

আয় আয় আয়, আছ যে যেথায়

     আয় তোরা সব ছুটিয়া--

ভান্ডারদ্বার খুলেছে জননী,

     অন্ন যেতেছে লুটিয়া।

ও পার হইতে আয় খেয়া দিয়ে,

ও পাড়া হইতে আয় মায়ে ঝিয়ে,

কে কাঁদে ক্ষুধায় জননী শুধায়--

     আয় তোরা সবে জুটিয়া।

ভাণ্ডারদ্বার খুলেছে জননী,

     অন্ন যেতেছে লুটিয়া।

 

মাতার কণ্ঠে শেফালিমাল্য

     গন্ধে ভরিছে অবনী।

জলহারা মেঘ আঁচলে খচিত

     শুভ্র যেন সে নবনী।

পরেছে কিরীট কনককিরণে,

মধুর মহিমা হরিতে হিরণে

কুসুমভূষণজড়িত চরণে

     দাঁড়ায়েছে মোর জননী।

আলোকে শিশিরে কুসুমে ধান্যে

      হাসিছে নিখিল অবনী।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

59
Verses
NEVER BE afraid of the moments-thus sings the voice of the everlasting.
আরো দেখুন
অকৃতজ্ঞ
Verses
ধ্বনিটিরে প্রতিধ্বনি সদা ব্যঙ্গ করে,
ধ্বনি কাছে ঋণী সে যে পাছে ধরা পড়ে।
আরো দেখুন
56
Verses
ত্রাসে লাজে নতশিরে নিত্য নিরবধি
অপমান অবিচার সহ্য করে যদি
তবে সেই দীন প্রাণে তব সত্য হায়
দন্ডে দন্ডে ম্লান হয়। দুর্বল আত্মায়
তোমারে ধরিতে নারে দৃঢ়নিষ্ঠাভরে।
ক্ষীণপ্রাণ তোমারেও ক্ষুদ্রক্ষীণ করে
আপনার মতো-- যত আদেশ তোমার
পড়ে থাকে, আবেশে দিবস কাটে তার।
পুঞ্জ পুঞ্জ মিথ্যা আসি গ্রাস করে তারে
চতুর্দিকে। মিথ্যা মুখে, মিথ্যা ব্যবহারে,
মিথ্যা চিত্তে, মিথ্যা তার মস্তক মাড়ায়ে--
না পারে তাড়াতে তারে উঠিয়া দাঁড়ায়ে।
অপমানে নতশির ভয়ে-ভীত জন
মিথ্যারে ছাড়িয়া দেয় তব সিংহাসন।
আরো দেখুন