প্রার্থনা (prarthona)

কামনায় কামনায় দেশে দেশে যুগে যুগান্তরে

নিরন্তর নিদারুণ দ্বন্দ্ব যবে দেখি ঘরে ঘরে

প্রহরে প্রহরে; দেখি অন্ধ মোহ দুরন্ত প্রয়াসে

বুভুক্ষার বহ্নি দিয়ে ভস্মীভূত করে অনায়াসে

নিঃসহায় দুর্ভাগার সকরুণ সকল প্রত্যাশা,

জীবনের সকল সম্বল; দুঃখীর আশ্রয়বাসা

নিশ্চিন্তে ভাঙিয়া আনে দুর্দাম দুরাশাহোমানলে

আহুতি-ইন্ধন জোগাইতে; নিঃসংকোচে গর্বে বলে,

আত্মতৃপ্তি ধর্ম হতে বড়ো; দেখি আত্মম্ভরী প্রাণ

তুচ্ছ করিবারে পারে মানুষের গভীর সম্মান

গৌরবের মৃগতৃষ্ণিকায়; সিদ্ধির স্পর্ধার তরে

দীনের সর্বস্ব সার্থকতা দলি দেয় ধূলি-'পরে

জয়যাত্রাপথে; দেখি ধিক্কারে ভরিয়া উঠে মন,

আত্মজাতি-মাংসলুব্ধ মানুষের প্রাণনিকেতন

উন্মীলিছে নখে দন্তে হিংস্র বিভীষিকা; চিত্ত মম

নিষ্কৃতিসন্ধানে ফিরে পিঞ্জরিত বিহঙ্গমসম,

মুহূর্তে মুহূর্তে বাজে শৃঙ্খলবন্ধন-অপমান

সংসারের। হেনকালে জ্বলি উঠে বজ্রাগ্নি-সমান

চিত্তে তাঁর দিব্যমূর্তি, সেই বীর রাজার কুমার

বাসনারে বলি দিয়া বিসর্জিয়া সর্ব আপনার

বর্তমানকাল হতে নিষ্ক্রমিলা নিত্যকাল-মাঝে

অনন্ত তপস্যা বহি মানুষের উদ্ধারের কাজে

অহমিকা-বন্দীশালা হতে। - ভগবান বুদ্ধ তুমি,

নির্দয় এ লোকালয়, এ ক্ষেত্রই তব জন্মভূমি।

ভরসা হারাল যারা, যাহাদের ভেঙেছে বিশ্বাস,

তোমারি করুণাবিত্তে ভরুক তাদের সর্বনাশ, --

আপনারে ভুলে তারা ভুলুক দুর্গতি। - আর যারা

ক্ষীণের নির্ভর ধ্বংস করে, রচে দুর্ভাগ্যের কারা

দুর্বলের মুক্তি রুধি, বোসো তাহাদেরি দুর্গদ্বারে

তপের আসন পাতি; প্রমাদবিহ্বল অহংকারে

পড়ুক সত্যের দৃষ্টি; তাদের নিঃসীম অসম্মান

তব পুণ্য আলোকেতে লভুক নিঃশেষ অবসান।

তব পুণ্যে আলোকেতে লভুক নি:শেষ অবসান।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

সুন্দর
Verses
প্লাটিনমের আঙটির মাঝখানে যেন হীরে।
             আকাশের সীমা ঘিরে মেঘ,
      মাঝখানের ফাঁক দিয়ে রোদ্‌দুর আসছে মাঠের উপর।
             হূহু করে বইছে হাওয়া,
         পেঁপে গাছগুলোর যেন আতঙ্ক লেগেছে,
      উত্তরের মাঠে নিমগাছে বেধেছে বিদ্রোহ,
         তালগাছগুলোর মাথায় বিস্তর বকুনি।
      বেলা এখন আড়াইটা।
             ভিজে বনের ঝল্‌মলে মধ্যাহ্ন
উত্তর দক্ষিণের জানলা দিয়ে এসে জুড়ে বসেছে আমার সমস্ত মন।
                 জানি নে কেন মনে হয়
      এই দিন দূর কালের আর-কোনো একটা দিনের মতো।
         এরকম দিন মানে না কোনো দায়কে,
                 এর কাছে কিছুই নেই জরুরি,
         বর্তমানের নোঙর-ছেঁড়া ভেসে-যাওয়া এই দিন।
      একে দেখছি যে অতীতের মরীচিকা ব'লে
         সে অতীত কি ছিল কোনো কালে কোনোখানে,
             সে কি চিরযুগেরই অতীত নয়।
      প্রেয়সীকে মনে হয় সে আমার জন্মান্তরের জানা--
             যে কালে স্বর্গ, যে কালে সত্যযুগ,
         যে কাল সকল কালেরই ধরা-ছোঁওয়ার বাইরে।
      তেমনি এই-যে সোনায় পান্নায় ছায়ায় আলোয় গাঁথা
             অবকাশের নেশায় মন্থর আষাঢ়ের দিন
      বিহ্বল হয়ে আছে মাঠের উপর ওড়না ছড়িয়ে দিয়ে,
             এর মাধুরীকেও মনে হয় আছে তবু নেই,
         এ আকাশবীণায় গৌড়সারঙের আলাপ--
             সে আলাপ আসছে সর্বকালের নেপথ্য থেকে।
আরো দেখুন
64
Verses
   প্রদোষের দেশে
          আর ভালো লাগে না গো--
   নবীন আলোকে
          জাগো, মন, জাগো জাগো।
   হারায়ো না মন
          চিরস্বপনের লোকে
   ছায়া-উপছায়া-
          জড়িত মুগ্ধ চোখে--
   নবপ্রভাতের
          পুণ্যপ্রসাদ মাগো।
আরো দেখুন
বঙ্গভূমির প্রতি
Verses
কেন    চেয়ে আছ, গো মা, মুখপানে!
এরা    চাহে না তোমারে চাহে না যে,
         আপন মায়েরে নাহি জানে।
এরা    তোমায় কিছু দেবে না, দেবে না--
         মিথ্যা কহে শুধু কত কী ভানে।
তুমি তো দিতেছ মা, যা আছে তোমারি--
স্বর্ণশস্য তব,জাহ্নবীবারি,
জ্ঞান ধর্ম কত পুণ্যকাহিনী।
এরা কী দেবে তোরে, কিছু না, কিছু না--
       মিথ্যা কবে শুধু হীন পরানে!
মনের বেদনা রাখো মা মনে,
নয়নবারি নিবারো নয়নে,
মুখ লুকাও মা, ধূলিশয়নে--
       ভুলে থাকো যত হীন সন্তানে।
শূন্য-পানে চেয়ে প্রহর গণি গণি
দেখো কাটে কি না দীর্ঘ রজনী,
দুঃখ জানায়ে কী হবে  জননী,
       নির্মম চেতনহীন পাষাণে।
আরো দেখুন