বঙ্গভূমির প্রতি (bangabhumir prati)

কেন    চেয়ে আছ, গো মা, মুখপানে!

এরা    চাহে না তোমারে চাহে না যে,

         আপন মায়েরে নাহি জানে।

এরা    তোমায় কিছু দেবে না, দেবে না--

         মিথ্যা কহে শুধু কত কী ভানে।

তুমি তো দিতেছ মা, যা আছে তোমারি--

স্বর্ণশস্য তব,জাহ্নবীবারি,

জ্ঞান ধর্ম কত পুণ্যকাহিনী।

এরা কী দেবে তোরে, কিছু না, কিছু না--

       মিথ্যা কবে শুধু হীন পরানে!

মনের বেদনা রাখো মা মনে,

নয়নবারি নিবারো নয়নে,

মুখ লুকাও মা, ধূলিশয়নে--

       ভুলে থাকো যত হীন সন্তানে।

শূন্য-পানে চেয়ে প্রহর গণি গণি

দেখো কাটে কি না দীর্ঘ রজনী,

দুঃখ জানায়ে কী হবে  জননী,

       নির্মম চেতনহীন পাষাণে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

পদধ্বনি
Verses
        আঁধারে প্রচ্ছন্ন ঘন বনে
                  আশঙ্কার পরশনে
        হরিণের থরথর হৃৎপিণ্ড যেমন--
                সেইমতো রাত্রি দ্বিপ্রহরে
                     শয্যা মোর ক্ষণতরে
                            সহসা কাঁপিল অকারণ।
           পদধ্বনি, কার পদধ্বনি
                  শুনিনু তখনি।
        মোর জন্মনক্ষত্রের অদৃশ্য জগতে
মোর ভাগ্য মোর তরে বার্তা লয়ে ফিরিছে কি পথে।
           পদধ্বনি, কার পদধ্বনি।
অজানার যাত্রী কে গো। ভয়ে কেঁপে উঠিল ধরণী।
        এই কি নির্মম সেই যে আপন চরণের তলে
                পদে পদে চিরদিন
                     উদাসীন
                পিছনের পথ মুছে চলে।
        এ কি সেই নিত্যশিশু, কিছু নাহি চাহে--
                নিজের খেলেনা চূর্ণ
                   ভাসাইছে অসম্পূর্ণ
                          খেলার প্রবাহে?
                ভাঙিয়া স্বপ্নের ঘোর,
                     ছিঁড়ি মোর
                শয্যায় বন্ধনমোহ, এ রাত্রিবেলায়
মোরে কি করিবে সঙ্গী প্রলয়ের ভাসান-খেলায়।
                  হোক তাই--
               ভয় নাই, ভয় নাই,
           এ খেলা খেলেছি বারম্বার
                   জীবনে আমার ।
           জানি জানি-- ভাঙিয়া নূতন করে তোলা,
ভুলায়ে পূর্বের পথ অপূর্বের পথে দ্বার খোলা,
                  বাঁধন গিয়েছে যবে চুকে
            তারি ছিন্ন রশিগুলি কুড়ায়ে কৌতুকে
বার বার গাঁথা হল দোলা।
      নিয়ে যত মুহূর্তের ভোলা
             চিরস্মরণের ধন
      গোপনে হয়েছে আয়োজন।
পদধ্বনি, কার পদধ্বনি
      চিরদিন শুনেছি এমনি
        বারে বারে।
      একি বাজে মৃত্যুসিন্ধুপারে।
    একি মোর আপন বক্ষেতে।
ডাকে মোরে ক্ষণে ক্ষণে কিসের সংকেতে।
    তবে কি হবেই যেতে।
        সব বন্ধ করিব ছেদন?
ওগো কোন্‌ বন্ধু তুমি, কোন্‌ সঙ্গী দিতেছ বেদন
        বিচ্ছেদের তীর হতে।
      তরী কি ভাসাব স্রোতে।
             হে বিরহী,
      আমার অন্তরে দাও কহি
        ডাকো মোরে কী খেলা খেলাতে
             আতঙ্কিত নিশীথবেলাতে?
      বারে বারে দিয়েছ নিঃসঙ্গ করি--
এ শূন্য প্রাণের পাত্র কোন্‌ সঙ্গসুধা দিয়ে ভরি
        তুলে নেবে মিলন-উৎসবে।
      সূর্যাস্তের পথ দিয়ে যবে
  সন্ধ্যাতারা উঠে আসে নক্ষত্রসভায়,
        প্রহর না যেতে যেতে
             কী সংকেতে
সব সঙ্গ ফেলে রেখে অস্তপথে ফিরে চলে যায়।
             সেও কি এমনি
                   শোনে পদধ্বনি।
তারে কি বিরহী
    বলে কিছু দিগন্তের অন্তরালে রহি।
        পদধ্বনি, কার পদধ্বনি।
                  দিনশেষে
        কম্পিত বক্ষের মাঝে এসে
     কী শব্দে ডাকিছে কোন্‌ অজানা রজনী।
আরো দেখুন
কুটুম্বিতা-বিচার
Verses
কেরোসিন-শিখা বলে মাটির প্রদীপে,
ভাই ব'লে ডাক যদি দেব গলা টিপে।
হেনকালে গগনেতে উঠিলেন চাঁদা--
কেরোসিন বলি উঠে, এসো মোর দাদা!
আরো দেখুন
24
Verses
     ওগো স্মৃতি কাপালিকা,
          বর্তমানের বলির রক্তে
               অতীতেরে দাও টিকা।
আরো দেখুন