চিরদিন (chirodin)

কোথা রাত্রি, কোথা দিন, কোথা ফুটে চন্দ্র সূর্য তারা,

কে বা আসে কে বা যায়, কোথা বসে জীবনের মেলা,

কে বা হাসে কে বা গায়, কোথা খেলে হৃদয়ের খেলা,

কোথা পথ, কোথা গৃহ, কোথা পান্থ, কোথা পথহারা।

কোথা খ'সে পড়ে পত্র জগতের মহাবৃক্ষ হতে,

উড়ে উড়ে ঘুরে মরে অসীমেতে না পায় কিনারা,

বহে যায় কালবায়ু অবিশ্রাম আকাশের পথে,

ঝর ঝর মর মর শুষ্ক পত্র শ্যাম পত্রে মিলে।

এত ভাঙা এত গড়া, আনাগোনা জীবন্ত নিখিলে,

এত গান এত তান এত কান্না এত কলরব--

কোথা কে বা, কোথা সিন্ধু, কোথা ঊর্মি, কোথা তার বেলা--

গভীর অসীম গর্ভে নির্বাসিত নির্বাপিত সব।

জনপূর্ণ সুবিজনে, জ্যোতির্বিদ্ধ আঁধারে বিলীন

আকাশমণ্ডপে শুধু বসে আছে এক "চিরদিন'।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

292
Verses
CLOUDS COME floating into my life from other days no longer to shed rain or usher storm but to give colour to my sunset sky.
আরো দেখুন
পথহারা
Verses
আজকে আমি কতদূর যে
গিয়েছিলেম চলে।
যত তুমি ভাবতে পার
তার চেয়ে সে অনেক আরো,
শেষ করতে পারব না তা
          তোমায় ব'লে ব'লে।
অনেক দূর সে, আরো দূর সে,
          আরো অনেক দূর।
মাঝখানেতে কত যে বেত,
কত যে বাঁশ, কত যে খেত,
ছাড়িয়ে ওদের ঠাকুরবাড়ি
          ছাড়িয়ে তালিমপুর।
পেরিয়ে গেলেম যেতে যেতে
          সাত-কুশি সব গ্রাম,
ধানের গোলা গুনব কত
জোদ্দারদের গোলার মতো,
সেখানে যে মোড়ল কারা
          জানি নে তার নাম।
একে একে মাঠ পেরোলুম
          কত মাঠের পরে।
তার পরে, উঃ, বলি মা শোন্‌,
সামনে এল প্রকাণ্ড বন,
ভিতরে তার ঢুকতে গেলে
          গা ছম-ছম করে।
জামতলাতে বুড়ী ছিল,
          বললে "খবরদার"!
আমি বললেম বারণ শুনে
"ছ-পণ কড়ি এই নে গুনে,"
যতক্ষণ সে গুনতে থাকে
          হয়ে গেলাম পার।
কিছুরি শেষ নেই কোত্থাও
          আকাশ পাতাল জুড়ি'।
যতই চলি যতই চলি
বেড়েই চলে বনের গলি,
কালো মুখোশপরা আঁধার
          সাজল জুজুবুড়ী।
খেজুরগাছের মাথায় বসে
          দেখছে কারা ঝুঁকি।
কারা যে সব ঝোপের পাশে
একটুখানি মুচকে হাসে,
বেঁটে বেঁটে মানুষগুলো
          কেবল মারে উঁকি।
আমায় যেন চোখ টিপছে
          বুড়ো গাছের গুঁড়ি।
লম্বা লম্বা কাদের পা যে
ঝুলছে ডালের মাঝে মাঝে,
মনে হচ্ছে পিঠে আমার
          কে দিল সুড়সুড়ি।
ফিসফিসিয়ে কইছে কথা
          দেখতে না পাই কে সে।
অন্ধকারে দুদ্দাড়িয়ে
কে যে কারে যায় তাড়িয়ে,
কী জানি কী গা চেটে যায়
          হঠাৎ কাছ এসে।
ফুরোয় না পথ ভাবছি আমি
          ফিরব কেমন করে।
সামনে দেখি কিসের ছায়া,--
ডেকে বলি, "শেয়াল ভায়া,
মায়ের গাঁয়ের পথ তোরা কেউ
          দেখিয়ে দে না মোরে।"
কয় না কিছুই, চুপটি করে
          কেবল মাথা নাড়ে।
সিঙ্গিমামা কোথা থেকে
হঠাৎ কখন এসে ডেকে
কে জানে, মা, হালুম ক'রে
          পড়ল যে কার ঘাড়ে।
বল্‌ দেখি তুই, কেমন করে
          ফিরে পেলাম মাকে?
কেউ জানে না কেমন করে;
কানে কানে বলব তোরে?--
যেমনি স্বপন ভেঙে গেল
          সিঙ্গিমামার ডাকে।
আরো দেখুন
স্নেহগ্রাস
Verses
অন্ধ মোহবন্ধ তব দাও মুক্ত করি--
রেখো না বসায়ে দ্বারে জাগ্রত প্রহরী
হে জননী, আপনার স্নেহ-কারাগারে
সন্তানেরে চিরজন্ম বন্দী রাখিবারে।
বেষ্টন করিয়া তারে আগ্রহ-পরশে,
জীর্ণ করি দিয়া তারে লালনের রসে,
মনুষ্যত্ব-স্বাধীনতা করিয়া শোষণ
আপন ক্ষুধিত চিত্ত করিবে পোষণ?
দীর্ঘ গর্ভবাস হতে জন্ম দিলে যার
স্নেহগর্ভে গ্রাসিয়া কি রাখিবে আবার?
চলিবে সে এ সংসারে তব পিছু-পিছু?
সে কি শুধু অংশ তব, আর নহে কিছু?
নিজের সে, বিশ্বের সে, বিশ্বদেবতার--
সন্তান নহে, গো মাতঃ, সম্পত্তি তোমার।
আরো দেখুন