মুক্তি (mukti)

   ১

আমারে সাহস দাও, দাও শক্তি, হে চিরসুন্দর,

দাও স্বচ্ছ তৃপ্তির আকাশ, দাও মুক্তি নিরন্তর

প্রত্যহের ধূলিলিপ্ত চরণপতনপীড়া হতে,

দিয়ো না দুলিতে মোরে তরঙ্গিত মুহূর্তের স্রোতে,

ক্ষোভের বিক্ষেপবেগে। শ্রাবণসন্ধ্যার পুষ্পবনে

গ্লানিহীন যে সাহস সুকুমার যূথীর জীবনে--

নির্মম বর্ষণঘাতে শঙ্কাশূন্য প্রসন্ন মধুর,

মুহূর্তের প্রাণটিতে ভরি তোলে অনন্তের সুর,

সরল আনন্দহাস্যে ঝরি পড়ে তৃণশয্যা 'পরে,

পূর্ণতার মূর্তিখানি আপনার বিনম্র অন্তরে

সুগন্ধে রচিয়া তোলে; দাও সেই অক্ষুব্ধ সাহস,

সে আত্মবিস্মৃত শক্তি, অব্যাকুল,সহজে স্ববশ

আপনার সুন্দর সীমায়,-- দ্বিধাশূন্য সরলতা

গাঁথুক শান্তির ছন্দে সব চিন্তা, মোর সব কথা।

  ২

আপনার কাছ হতে বহুদূরে পালাবার লাগি

হে সুন্দর, হে অলক্ষ্য, তোমার প্রসাদ আমি মাগি,

তোমার আহ্বানবাণী। আজ তব বাজুক বাঁশরি,

চিত্তভরা শ্রাবণপ্লাবনরাগে,-- যেন গো পাসরি

নিকটের তাপতপ্ত ঘূর্ণিবায়ে ক্ষুব্ধ কোলাহল,

ধূলির নিবিড় টান পদতলে। রয়েছি নিশ্চল

সারাদিন পথপার্শ্বে; বেলা হয়ে এল অবসান,

ঘন হয়ে আসে ছায়া, শ্রান্ত সূর্য করিছে সন্ধান

দিগন্তে অন্তিম শান্তি। দিবা যথা চলেছে নির্ভীক

চিহ্নহীন সঙ্গহীন অন্ধকার পথের পথিক

আপনার কাছ হতে অন্তহীন অজানার পানে

অসীমের সংগীতে উদাসী,-- সেইমতো আত্মদানে

আমারে বাহির করো, শূন্যে শূন্যে পূর্ণ হ'ক সুর,

নিয়ে যাক পথে পথে হে অলক্ষ্য, হে মহাসুদূর।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

ওই-যে সন্ধ্যা খুলিয়া ফেলিল তার
Verses
ওই-যে সন্ধ্যা খুলিয়া ফেলিল তার
       সোনার অলংকার।
ওই সে আকাশে লুটায়ে আকুল চুল
অঞ্জলি ভরি ধরিল তারার ফুল,
       পূজায় তাহার ভরিল অন্ধকার।
ক্লান্তি আপন রাখিয়া দিল সে ধীরে
       স্তব্ধ পাখির নীড়ে।
বনের গহনে জোনাকি-রতন-জ্বালা
লুকায়ে বক্ষে শান্তির জপমালা
       জপিল সে বারবার।
ওই-যে তাহার লুকানো ফুলের বাস
       গোপনে ফেলিল শ্বাস।
ওই-যে তাহার প্রাণের গভীর বাণী
শান্ত পবনে নীরবে রাখিল আনি
       আপন বেদনাভার।
ওই-যে নয়ন অবগুণ্ঠনতলে
       ভাসিল শিশিরজলে।
ওই-যে তাহার বিপুল রূপের ধন
অরূপ আঁধারে করিল সমর্পণ
       চরম নমস্কার।
আরো দেখুন
ধরাতল
Verses
ছোটো কথা, ছোটো গীত, আজি মনে আসে।
চোখে পড়ে যাহা-কিছু হেরি চারি পাশে।
আমি যেন চলিয়াছি বাহিয়া তরণী,
কূলে কূলে দেখা যায় শ্যামল ধরণী।
সবই বলে, "যাই যাই" নিমেষে নিমেষে,
ক্ষণকাল দেখি ব'লে দেখি ভালোবেসে।
তীর হতে দুঃখ সুখ দুই ভাইবোনে
মোর মুখপানে চায় করুণ নয়নে।
ছায়াময় গ্রামগুলি দেখা যায় তীরে,
মনে ভাবি কত প্রেম আছে তারে ঘিরে।
যবে চেয়ে চেয়ে দেখি উৎসুক নয়ানে
আমার পরান হতে ধরার পরানে--
ভালোমন্দ দুঃখসুখ অন্ধকার-আলো,
মনে হয়, সব নিয়ে এ ধরণী ভালো।
আরো দেখুন
21
Verses
এবার তোরা আমার যাবার বেলাতে
সবাই          জয়ধ্বনি কর্‌।
ভোরের আকাশ রাঙা হল রে,
            আমার       পথ হল সুন্দর।
     কী নিয়ে বা যাব সেথা
     ওগো তোরা ভাবিস নে তা,
     শূন্য হাতেই চলব, বহিয়ে
            আমার        ব্যাকুল অন্তর।
মালা পরে যাব মিলন-বেশে
            আমার        পথিক-সজ্জা নয়।
বাধা বিপদ আছে মাঝের দেশে,
            মনে           রাখি নে সেই ভয়।
     যাত্রা যখন হবে সারা
     উঠবে জ্বলে সন্ধ্যাতারা,
     পুরবীতে করুণ বাঁশরি
           দ্বারে           বাজবে মধুর স্বর।
আরো দেখুন