মানী (mani)

উচ্চপ্রাচীরে রুদ্ধ তোমার

                 ক্ষুদ্র ভুবনখানি

           হে মানী, হে অভিমানী।

           মন্দিরবাসী দেবতার মতো

                 সম্মানশৃঙ্খলে

           বন্দী রয়েছে পূজার আসনতলে।

      সাধারণজন-পরশ এড়ায়ে

           নিজেরে পৃথক করি

      আছ দিনরাত গৌরবগুরু

            কঠিন মূর্তি ধরি।

          সবার যেখানে ঠাঁই

      বিপুল তোমার মর্যাদা নিয়ে

           সেথায় প্রবেশ নাই।

               অনেক উপাধি তব,

      মানুষ-উপাধি হারায়েছ শুধু

          সে ক্ষতি কাহারে কব।

            ভক্তেরা মন্দিরে

      পূজারির কৃপা বহু-দামে কিনে

           পূজা দিয়ে যায় ফিরে

      ঝিল্লিমুখর বেণুবীথিকার ছায়ে

           আপন নিভৃত গাঁয়ে।

      তখন একাকী বৃথা বিচিত্র

           পাষাণভিত্তি-মাঝে

      দেবতার বুকে জান সে কী ব্যথা বাজে।

           বেদির বাঁধন করি ধূলিসাৎ

                 অচলেরে দিয়ে নাড়া

      মানুষের মাঝে সে-যে পেতে চায় ছাড়া।

      হে রাজা, তোমার পূজাঘেরা মন

           আপনারে নাহি জানে।

          প্রাণহীন সম্মানে

      উজ্জ্বল রঙে রঙকরা তুমি ঢেলা ড্ড

      তোমার জীবন সাজানো পুতুল

           স্থূল মিথ্যার খেলা।

      আপনি রয়েছ আড়ষ্ট হয়ে

         আপনার অভিশাপে,

           নিশ্চল তুমি নিজ গর্বের চাপে।

          সহজ প্রাণের মান নিয়ে যারা

           মুক্ত ভুবনে ফিরে

          মরিবার আগে তাদের পরশ

           লাগুক তোমার শিরে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

বুড়ী
Verses
এক যে ছিল চাঁদের কোণায়
          চরকা-কাটা বুড়ী
পুরাণে তার বয়স লেখে
          সাত-শ হাজার কুড়ি।
সাদা সুতোয় জাল বোনে সে
          হয় না বুনন সারা
পণ ছিল তার ধরবে জালে
          লক্ষ কোটি তারা।
হেনকালে কখন আঁখি
          পড়ল ঘুমে ঢুলে,
স্বপনে তার বয়সখানা
          বেবাক গেল ভুলে।
ঘুমের পথে পথ হারিয়ে,
          মায়ের কোলে এসে
পূর্ণ চাঁদের হাসিখানি
          ছড়িয়ে দিল হেসে।
সন্ধ্যেবেলায় আকাশ চেয়ে
          কী পড়ে তার মনে।
চাঁদকে করে ডাকাডাকি,
          চাঁদ হাসে আর শোনে।
যে-পথ দিয়ে এসেছিল
          স্বপন-সাগর তীরে
দু-হাত তুলে সে-পথ দিয়ে
          চায় সে যেতে ফিরে।
হেনকালে মায়ের মুখে
          যেমনি আঁখি তোলে
চাঁদে ফেরার পথখানি যে
          তক্‌খনি সে ভোলে।
কেউ জানে না কোথায় বাসা,
          এল কী পথ বেয়ে,
কেউ জানে না এই মেয়ে সেই
          আদ্যিকালের মেয়ে।
বয়সখানার খ্যাতি তবু
          রইল জগৎ জুড়ি--
পাড়ার লোকে যে দেখে সেই
          ডাকে, "বুড়ী বুড়ী"।
সব-চেয়ে যে পুরানো সে,
          কোন্‌ মন্ত্রের বলে
সব-চেয়ে আজ নতুন হয়ে
          নামল ধরাতলে।
আরো দেখুন
উৎসৃষ্ট
Verses
মিথ্যে তুমি গাঁথলে মালা
       নবীন ফুলে,
ভেবেছ কি কণ্ঠে আমার
       দেবে তুলে?
দাও তো ভালোই, কিন্তু জেনো
       হে নির্মলে,
আমার মালা দিয়েছি ভাই
       সবার গলে।
যে-ক'টা ফুল ছিল জমা
       অর্ঘ্যে মম
উদ্দেশেতে সবায় দিনু--
       নমো নমঃ।
কেউ বা তাঁরা আছেন কোথা
       কেউ জানে না,
কারো বা মুখ ঘোমটা-আড়ে
       আধেক চেনা।
কেউ বা ছিলেন অতীত কালে
       অবন্তীতে,
এখন তাঁরা আছেন শুধু
       কবির গীতে।
সবার তনু সাজিয়ে মাল্যে
       পরিচ্ছদে
কহেন বিধি "তুভ্যমহং            
       সম্প্রদদে'।
হৃদয় নিয়ে আজ কি প্রিয়ে
       হৃদয় দেবে?
হায় ললনা, সে প্রার্থনা
       ব্যর্থ এবে।
কোথায় গেছে সেদিন আজি
       যেদিন মম
তরুণ-কালে জীবন ছিল
       মুকুলসম,
সকল শোভা সকল মধু
       গন্ধ যত
বক্ষোমাঝে বন্ধ ছিল
       বন্দীমত।
আজ যে তাহা ছড়িয়ে গেছে
       অনেক দূরে--
অনেক দেশে, অনেক বেশে,
       অনেক সুরে।
কুড়িয়ে তারে বাঁধতে পারে
       একটিখানে
এমনতরো মোহন-মন্ত্র
       কেই বা জানে!
নিজের মন তো দেবার আশা
       চুকেই গেছে,
পরের মনটি পাবার আশায়
       রইনু বেঁচে।
আরো দেখুন
বিকাশ
Verses
          আজ   বুকের বসন ছিঁড়ে ফেলে
                   দাঁড়িয়েছে এই প্রভাতখানি,
                আকাশেতে সোনার আলোয়
                   ছড়িয়ে গেল তাহার বাণী।
                কুঁড়ির মতো ফেটে গিয়ে
                   ফুলের মতো উঠল কেঁদে
                সুধাকোষের সুগন্ধ তার
                   পারলে না আর রাখতে বেঁধে।
                ওরে মন, খুলে দে মন,
                   যা আছে তোর খুলে দে--
                অন্তরে যা ডুবে আছে
                   আলোক-পানে তুলে দে।
                আনন্দে সব বাধা টুটে
                   সবার সাথে ওঠ্‌ রে ফুটে,
                চোখের 'পরে আলসভরে
                   রাখিস নে আর আঁচল টানি।
          আজ   বুকের বসন ছিঁড়ে ফেলে
                   দাঁড়িয়েছে এই প্রভাতখানি।
আরো দেখুন