রাজপুত্র (rajputro)

রূপকথা-স্বপ্নলোকবাসী

           রাজপুত্র কোথা হতে আসি

                 শুভক্ষণে দেখা দেয় রূপে

                       চুপে-চুপে,

           জানি বলে জেনেছিনু যারে

           তারি মাঝে। আমার সংসারে,

                 বক্ষে মোর আগমনী পদধ্বনি বাজে

                 যেন বহুদূর হতে আসা।

                       তার ভাষা

                 প্রাণে দেয় আনি

           সমুদ্রপারের কোন্‌ অভিনব যৌবনের বাণী।

                 সেদিন বুঝিতে পারে মন

                       ছিল সে-যে নিশ্চেতন

                             তুচ্ছতার অন্তরালে

                       এতকাল মায়ানিদ্রাজালে।

           তার দৃষ্টিপাতে মোরে নূতন সৃষ্টির ছোঁওয়া লাগে,

                       চিত্ত জাগে।

           বলি তার পদযুগ চুমি,

                  "রাজপুত্র তুমি।'

                       এতদিন

                   আত্মপরিচয়হীন

           জড়তার পাষাণপ্রাচীর দিয়ে ঘেরা

দুর্গ-মাঝে রেখেছিল প্রত্যহের প্রথার দৈত্যেরা।

                 কোন্‌ মন্ত্রগুণে

           সে দুর্ভেদ বাধা যেন দাহিলে আগুনে,

বন্দিনীরে করিলে উদ্ধার,

           করি নিলে আপনার,

                 নিয়ে গেলে মুক্তির আলোকে।

আজিকে তোমারে দেখি কী নূতন চোখে।

      কুঁড়ি আজ উঠেছে কুসুমি,

বার বার মন বলে, "রাজপুত্র তুমি।'

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

174
Verses
বিদায়রথের ধ্বনি
     দূর হতে ওই আসে কানে।
ছিন্নবন্ধনের শুধু
     কোনো শব্দ নাই কোনোখানে।
আরো দেখুন
সুন্দর
Verses
প্লাটিনমের আঙটির মাঝখানে যেন হীরে।
             আকাশের সীমা ঘিরে মেঘ,
      মাঝখানের ফাঁক দিয়ে রোদ্‌দুর আসছে মাঠের উপর।
             হূহু করে বইছে হাওয়া,
         পেঁপে গাছগুলোর যেন আতঙ্ক লেগেছে,
      উত্তরের মাঠে নিমগাছে বেধেছে বিদ্রোহ,
         তালগাছগুলোর মাথায় বিস্তর বকুনি।
      বেলা এখন আড়াইটা।
             ভিজে বনের ঝল্‌মলে মধ্যাহ্ন
উত্তর দক্ষিণের জানলা দিয়ে এসে জুড়ে বসেছে আমার সমস্ত মন।
                 জানি নে কেন মনে হয়
      এই দিন দূর কালের আর-কোনো একটা দিনের মতো।
         এরকম দিন মানে না কোনো দায়কে,
                 এর কাছে কিছুই নেই জরুরি,
         বর্তমানের নোঙর-ছেঁড়া ভেসে-যাওয়া এই দিন।
      একে দেখছি যে অতীতের মরীচিকা ব'লে
         সে অতীত কি ছিল কোনো কালে কোনোখানে,
             সে কি চিরযুগেরই অতীত নয়।
      প্রেয়সীকে মনে হয় সে আমার জন্মান্তরের জানা--
             যে কালে স্বর্গ, যে কালে সত্যযুগ,
         যে কাল সকল কালেরই ধরা-ছোঁওয়ার বাইরে।
      তেমনি এই-যে সোনায় পান্নায় ছায়ায় আলোয় গাঁথা
             অবকাশের নেশায় মন্থর আষাঢ়ের দিন
      বিহ্বল হয়ে আছে মাঠের উপর ওড়না ছড়িয়ে দিয়ে,
             এর মাধুরীকেও মনে হয় আছে তবু নেই,
         এ আকাশবীণায় গৌড়সারঙের আলাপ--
             সে আলাপ আসছে সর্বকালের নেপথ্য থেকে।
আরো দেখুন
বিড়ালে মাছেতে হল সখ্য
Verses
    বিড়ালে মাছেতে হল সখ্য।
    বিড়াল কহিল, 'ভাই ভক্ষ্য,
  বিধাতা স্বয়ং জেনো সর্বদা কন তোরে--
  ঢোকো গিয়ে বন্ধুর রসময় অন্তরে,
         সেখানে নিজেরে তুমি সযতনে রক্ষ।
ঐ দেখো পুকুরের ধারে আছে ঢালু ডাঙা,
ঐখানে সয়তান বসে থাকে মাছরাঙা,
       কেন মিছে হবে ওর চঞ্চুর লক্ষ্য'!
আরো দেখুন