লেখন (157)

১৫৭

১৫৭

চাঁদ কহে "শোন্‌

       শুকতারা,

রজনী যখন

       হল সারা

            যাবার বেলায়

       কেন শেষে

দেখা দিতে হায়

       এলি হেসে,

আলো আঁধারের

       মাঝে এসে

            করিলি আমায়

              দিশেহারা।'    

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

রাত্রি
Verses
মোরে করো সভাকবি ধ্যানমৌন তোমার সভায়
           হে শর্বরী, হে অবগুণ্ঠিতা!
তোমার আকাশ জুড়ি যুগে যুগে জপিছে যাহারা
          বিরচিত তাহাদের গীতা।
তোমার তিমিরতলে যে বিপুল নিঃশব্দ উদ্‌যোগ
          ভ্রমিতেছে জগতে জগতে
আমারে তুলিয়া লও সেই তার ধ্বজচক্রহীন
          নীরবঘর্ঘর মহারথে।
তুমি একেশ্বরী রানী বিশ্বের অন্তর-অন্তঃপুরে
          সুগম্ভীরা হে শ্যামাসুন্দরী,
দিবসের ক্ষয়হীন বিরাট ভাণ্ডারে প্রবেশিয়া
          নীরবে রাখিছ ভাণ্ড ভরি।
নক্ষত্র-রতন-দীপ্ত নীলাকান্ত সুপ্তিসিংহাসনে
          তোমার মহান্‌ জাগরণ।
আমারে জাগায়ে রাখো সে নিস্তব্ধ জাগরণতলে
          নির্নিমেষ পূর্ণ সচেতন।
কত নিদ্রাহীন চক্ষু যুগে যুগে তোমার আঁধারে
          খুঁজেছিল প্রশ্নের উত্তর।
তোমার নির্বাক মুখে একদৃষ্টে চেয়েছিল বসি
          কত ভক্ত জুড়ি দুই কর।
দিবস মুদিলে চক্ষু, ধীরপদে কৌতূহলীদল
          অঙ্গনে পশিয়া সাবধানে
তব দীপহীন কক্ষে সুখদুঃখ জন্মমরণের
          ফিরিয়াছে গোপন সন্ধানে।
স্তম্ভিত তমিস্রপুঞ্জ কম্পিত করিয়া অকস্মাৎ
          অর্ধরাত্রে উঠেছে উচ্ছ্বাসি
সদ্যস্ফুট ব্রহ্মমন্ত্র আন্দোলিত ঋষিকণ্ঠ হতে
          আন্দোলিয়া ঘন তন্দ্রারাশি।
পীড়িত ভুবন লাগি মহাযোগী করুণাকাতর,
          চকিতে বিদ্যুৎরেখাবৎ
তোমার নিখিললুপ্ত অন্ধকারে দাঁড়ায়ে একাকী
          দেখেছে বিশ্বের মুক্তিপথ।
জগতের সে-সব যামিনীর জাগরূকদল
          সঙ্গীহীন তব সভাসদ্‌
কে কোথা বসিয়া আছে আজি রাত্রে ধরণীর মাঝে,
          গনিতেছে গোপন সম্পদ--
কেহ কারে নাহি জানে, আপনার স্বতন্ত্র আসনে
          আসীন স্বাধীন স্তব্ধচ্ছবি--
হে শর্বরী, সেই তব বাক্যহীন জাগ্রত সভায়
          মোরে করি দাও সভাকবি।
আরো দেখুন
চামেলিবিতান
Verses
চামেলিবিতানের নীচের ছায়ায় আমি বসতুম-- ময়ূর এসে বসত উপরে, লতার আশ্রয়বেষ্টনী থেকে পুচ্ছ ঝুলিয়ে।  জানি সে আমাকে কিছুমাত্র সম্মান করত না, কিন্তু সৌন্দর্যের যে অর্ঘ্যভার সে বহন করে বেড়াত, তার অজ্ঞাতে আমি নিজেই সেটি প্রতিদিন গ্রহণ করেছি।  এমন অসংকোচে সে যে দেখা দিয়ে যায় এতে আমি কৃতজ্ঞ ছিলুম, সে যে আমাকে ভয় করে নি এ আমার সৌভাগ্য।  আরো তার কয়েকটি সঙ্গী সঙ্গিনী ছিল কিন্তু দূরের দুরাশায় ওদের কোথায় টেনে নিয়ে গেল, আমিও চলে এসেছি সেই চামেলির সুগন্ধি ছায়ার আশ্রয় থেকে অন্য জায়গায়।  বাইরে থেকে এই পরিবর্তনগুলি বেশি কিছু নয়, তবু অন্তরের মধ্যে ভাঙাচোরার দাগ কিছু কিছু থেকে যায়।  শুনেছিলুম আমাদের প্রদেশে কোনো-এক নদীগর্ভজাত দ্বীপ ময়ূরের আশ্রয়।  ময়ূর হিন্দুর অবধ্য।  মৃগয়াবিলাসী ইংরেজ এই দ্বীপের নিষেধকে উপেক্ষা করতে পারে নি অথচ গুলি করে ময়ূর মারবার প্রবল আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হওয়াতে পার্শবর্তী দ্বীপে খাদ্যের প্রলোভন বিস্তার করে ভুলিয়ে নিয়ে এসে ময়ূর মারত। বাল্মীকির শাপকে এ যুগের কবি পুনরায় প্রচার না করে থাকতে পারল না।
মা নিষাদঃ প্রতিষ্ঠাং ত্বং
অগমঃ শাশ্বতীঃ সমাঃ।
ময়ূর, কর নি মোরে ভয়,
সেই গর্ব, সেই মোর জয়।
  বাহিরেতে আমলকী
  করিতেছে ঝকমকি,
     বটের উঠেছে কচি পাতা,
  হোথায় দুয়ার থেকে
  আমারে গিয়েছ দেখে,
          খুলিয়া বসেছি মোটা খাতা।
লিখিতেছি নিজ মনে--
হেরি তাই আঁখিকোণে
          অবজ্ঞায় ফিরে যাও চলি,
বোঝ না, লেখনী ধরি
কী যে এত খুঁটে মরি,
          আমারে জেনেছ মূঢ় বলি।
সেই ভালো জান যদি তাই,
তাহে মোরে কোনো খেদ নাই।
তবু আমি খুশি আছি,
আস তুমি কাছাকছি,
          মোরে দেখে নাহি কর ত্রাস।
যদিও মানব,তবু
আমারে কর না কভু
          দানব বলিয়া অবিশ্বাস।
সুন্দরের দূত তুমি,
এ ধূলির মর্তভূমি,
          স্বর্গের প্রাসাদ হেথা আন,
তবুও বাধি না তোরে,
বাঁধি না পিঞ্জরে ধরে,
          এও কি আশ্চর্য নাহি মান।
কাননের এই এক কোণা,
হেথায় তোমার আনাগোনা।
চামেলিবিতানতল
মোর বসিবার স্থল,
          দিন যবে অবসান হয়।
হেথা আস কী যে  ভাবি,
মোর চেয়ে তোর দাবি
          বেশি বৈ কম কিছু নয়।
জ্যোৎস্না ডালের ফাঁকে
হেথা আলপনা আঁকে,
          এ নিকুঞ্জ জানে আপনার।
কচি পাতা যে বিশ্বাসে
দ্বিধাহীন হেথা আসে,
          তোমার তেমনি অধিকার।
বর্ণহীন রিক্ত মোর সাজ,
তারি লাগি পাছে পাই লাজ,
বর্ণে বর্ণে আমি তাই
ছন্দ রচিবারে চাই,
          সুরে সুরে গীতচিত্র করি।
আকাশেরে বাসি ভালো,
সকাল-সন্ধ্যার আলো
          আমার প্রাণের বর্ণে ভরি।
ধরায় যেখানে তাই,
তোমার গৌরব-ঠাঁই
          সেথায় আমারো ঠাঁই হয়।
সুন্দরের অনুরাগে
তাই মোর গর্ব লাগে,
          মোরে তুমি কর নাই ভয়।
তোমার আমার তরে জানি
মধুরের এই রাজধানী।
তোর নাচ, মোর গীতি,
রূপ তোর, মোর প্রীতি,
          তোর বর্ণ, আমার বর্ণনা--
শোভনের নিমন্ত্রণে
চলি মোরা দুইজনে,
          তাই তুই আমার আপনা।
সহজ রঙ্গের রঙ্গী
ওই যে গ্রীবার ভঙ্গি,
          বিস্ময়ের নাহি পাই পার।
তুমি-যে শঙ্কা না পাও,
নিঃসংশয়ে আস যাও,
          এই মোর নিত্য পুরস্কার।
নাশ করে যে-অগ্নেয় বাণ
মুহূর্তে অমূল্য তোর প্রাণ--
তার লাগি বসূন্ধরা
হয় নি সবুজে ভরা,
          তার লাগি ফুল নাহি ধরে।
যে-বসন্তে প্রাণে প্রাণে
বেদনার সুধা আনে
          সে বসন্ত নহে তার তরে।
ছন্দ ভেঙে দেয় সে যে,
অকস্মাৎ উঠে বেজে
          অর্থহীন চকিত চীৎকার,
ধূমাচ্ছন্ন অবিশ্বাস
বিশ্ববক্ষে হানে ত্রাস,
          কুটিল সংশয় কদাকার।
সৃষ্টিছাড়া এই-যে উৎপাত
হানে দানবের পদাঘাত
পুণ্য পৃথিবীর শিরে--
তার লজ্জা তুই কি রে
          আনিতে পারিবি তোর মনে।
অকৃতজ্ঞ নিষ্ঠুরতা
সৌন্দর্যেরে দেয় ব্যথা
          কেন যে তা বুঝিবি কেমনে।
কেন যে কদর্য ভাষা
বিধাতার ভালোবাসা
          বিদ্রূপে করিছে ছারখার,
যে হস্ত দানেরি তরে
তারি রক্তপাত করে,
          সেই লজ্জা নিখিলজনার।
আরো দেখুন
7
Verses
আমার এই          পথ-চাওয়াতেই
       আনন্দ।
      খেলে যায়           রৌদ্র ছায়া
বর্ষা আসে
বসন্ত।
কারা এই         সমুখ দিয়ে
আসে যায়        খবর নিয়ে,
খুশি রই          আপন মনে,
       বাতাস বহে
                              সুমন্দ।
সারাদিন            আঁখি মেলে
      দুয়ারে              রব একা।
শুভক্ষণ            হঠাৎ এলে
      তখনি              পাব দেখা।
ততখন            ক্ষণে ক্ষণে
হাসি গাই          মনে মনে,
ততখন            রহি রহি
         ভেসে আসে
                      সুগন্ধ।
আমার এই        পথ-চাওয়াতেই
      আনন্দ।
আরো দেখুন