৭ (amar ei poth chaoyatei)

আমার এই          পথ-চাওয়াতেই

       আনন্দ।

      খেলে যায়           রৌদ্র ছায়া

বর্ষা আসে

বসন্ত।

 

কারা এই         সমুখ দিয়ে

আসে যায়        খবর নিয়ে,

খুশি রই          আপন মনে,

       বাতাস বহে

                              সুমন্দ।

 

সারাদিন            আঁখি মেলে

      দুয়ারে              রব একা।

শুভক্ষণ            হঠাৎ এলে

      তখনি              পাব দেখা।

ততখন            ক্ষণে ক্ষণে

হাসি গাই          মনে মনে,

ততখন            রহি রহি

         ভেসে আসে

                      সুগন্ধ।

আমার এই        পথ-চাওয়াতেই

      আনন্দ।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

তব সিংহাসনের আসন হতে
Verses
তব   সিংহাসনের আসন হতে
             এলে তুমি নেমে,
মোরবিজন ঘরের দ্বারের কাছে
             দাঁড়ালে নাথ থেমে।
                    একলা বসে আপন-মনে
                           গাইতেছিলেম গান,
                    তোমার কানে গেল সে সুর
                           এলে তুমি নেমে,
             মোর   বিজন ঘরের দ্বারের কাছে
                             দাঁড়ালে নাথ থেমে।
তোমার সভায় কত-না গান
                    কতই আছেন গুণী;
গুণহীনের গানখানি আজ
                    বাজল তোমার প্রেমে।
                           লাগল বিশ্বতানের মাঝে
                                  একটি করুণ সুর,
                           হাতে লয়ে বরণমালা
                                  এলে তুমি নেমে,
                    মোর  বিজন ঘরের দ্বারের কাছে
                                  দাঁড়ালে নাথ থেমে।
আরো দেখুন
অদেয়
Verses
তোমায় যখন সাজিয়ে দিলেম দেহ,
          করেছ সন্দেহ
     সত্য আমার দিই নি তাহার সাথে।
          তাই কেবলি বাজে আমার দিনে রাতে
                   সেই সুতীব্র ব্যথা--
          এমন দৈন্য, এমন কৃপণতা,
যৌবন-ঐশ্বর্যে আমার এমন অসম্মান।
     সে লাঞ্ছনা নিয়ে আমি পাই নে কোথাও স্থান
          এই বসন্তে ফুলের নিমন্ত্রণে।
               ধেয়ান-মগ্ন ক্ষণে
নৃত্যহারা শান্ত নদী সুপ্ত তটের অরণ্যচ্ছায়ায়
          অবসন্ন পল্লীচেতনায়
     মেশায় যখন স্বপ্নে-বলা মৃদু ভাষার ধারা--
               প্রথম রাতের তারা
          অবাক চেয়ে থাকে,
          অন্ধকারের পারে যেন কানাকানির মানুষ পেল কাকে,
     হৃদয় তখন বিশ্বলোকের অনন্ত নিভৃতে
          দোসর নিয়ে চায় যে প্রবেশিতে--
               কে দেয় দুয়ার রুধে,
     একলা ঘরের স্তব্ধ কোণে থাকি নয়ন মুদে।
           কী সংশয়ে কেন তুমি এলে কাঙাল বেশে।
               সময় হলে রাজার মতো এসে
  জানিয়ে কেন দাও নি আমায় প্রবল তোমার দাবি।
          ভেঙে যদি ফেলতে ঘরের চাবি
     ধুলার 'পরে মাথা আমার দিতেম লুটায়ে,
               গর্ব আমার অর্ঘ্য হত পায়ে।
          দুঃখের সংঘাতে আজি সুধার পাত্র উঠেছে এই ভ'রে,
               তোমার পানে উদ্দেশেতে ঊর্ধ্বে আছি ধ'রে
                        চরম আত্মদান।
                    তোমার অভিমান
          আঁধার ক'রে আছে আমার সমস্ত জগৎ,
                   পাই নে খুঁজে সার্থকতার পথ।
আরো দেখুন
বালক
Verses
বালক বয়স ছিল যখন, ছাদের কোণের ঘরে
                   নিঝুম দুইপহরে
                   দ্বারের 'পরে হেলিয়ে মাথা
                          মেঝে মাদুর পাতা,
                   একা একা কাটত রোদের বেলা--
       না মেনেছি পড়ার শাসন, না করেছি খেলা।
                 দূর আকাশে ডেকে যেত চিল,
       সিসুগাছের ডালপালা সব বাতাসে ঝিলমিল।
                 তপ্ত তৃষায় চঞ্চু করি ফাঁক
                 প্রাচীর-'পরে ক্ষণে ক্ষণে বসত এসে কাক।
                 চড়ুই পাখির আনাগোনা মুখর কলভাষা--
                 ঘরের মধ্যে কড়ির কোণে ছিল তাদের বাসা।
      ফেরিওয়ালার ডাক শোনা যায় গলির ওপার থেকে--
               দূরের ছাদে ঘুড়ি ওড়ায় সে কে।
                      কখন্‌ মাঝে-মাঝে
      ঘড়িওয়ালা কোন্‌ বাড়িতে ঘণ্টাধ্বনি বাজে।
সামনে বিরাট অজানিত, সামনে দৃষ্টি-পেরিয়ে-যাওয়া দূর
                বাজাত কোন্‌ ঘর-ভোলানো সুর।
                কিসের পরিচয়ের লাগি
আকাশ-পাওয়া উদাসী মন সদাই ছিল জাগি।
              অকারণের ভালোলাগা
অকারণের ব্যথায় মিলে গাঁথত স্বপন নাইকো গোড়া আগা।
              সাথিহীনের সাথি
মনে হত দেখতে পেতেম দিগন্তে নীল আসন ছিল পাতি।
সত্তরে আজ পা দিয়েছি আয়ুশেষের কূলে
               অন্তরে আজ জানলা দিলেম খুলে।
তেমনি আবার বালকদিনের মতো
       চোখ মেলে মোর সুদূর-পানে বিনা কাজে প্রহর হল গত।
                    প্রখর তাপের কাল,
              ঝরঝরিয়ে কেঁপে ওঠে শিরীষগাছের ডাল;
                    কুয়োর ধারে তেঁতুলতলায় ঢুকে
              পাড়ার কুকুর ঘুমিয়ে পড়ে ভিজে মাটির স্নিগ্ধ পরশসুখে।
              গাড়ির গোরু ক্ষণকালের মুক্তি পেয়ে ক্লান্ত আছে শুয়ে
                     জামের ছায়ার তৃণবিহীন ভুঁয়ে।
                     কাঁকর-পথের পারে
              শুকনো পাতার দৈন্য জমে গন্ধরাজের সারে।
                    চেয়ে আছি দু-চোখ দিয়ে সব-কিছুরে ছুঁয়ে,
                    ভাবনা আমার সবার মাঝে থুয়ে।
                    বালক যেমন নগ্ন-আবরণ,
                            তেমনি আমার মন
              ঐ কাননের সবুজ ছায়ায় এই আকাশের নীলে
                      বিনা বাধায় এক হয়ে যায় মিলে।
                      সকল জানার মাঝে
               চিরকালের না-জানা কার শঙ্খধ্বনি বাজে।
       এই ধরণীর সকল সীমায় সীমাহারার গোপন আনাগোনা
                    সেই আমারে করেছে আন্‌মনা।
আরো দেখুন