প্রতীক্ষা (protikkha)

   আমি এখন সময় করেছি--

              তোমার এবার সময় কখন হবে।

        সাঁঝের প্রদীপ সাজিয়ে ধরেছি--

              শিখা তাহার জ্বালিয়ে দেবে কবে।

   নামিয়ে দিয়ে এসেছি সব বোঝা,

              তরী আমার বেঁধে এলেম ঘাটে--

   পথে পথে ছেড়েছি সব খোঁজা,

              কেনা বেচা নানান হাটে হাটে।

 

   সন্ধ্যাবেলায় যে মল্লিকা ফুটে

              গন্ধ তারি কুঞ্জে উঠে জাগি।

   ভরেছি জুঁই পদ্মপাতার পুটে

              তোমার করপদ্মদলের লাগি।

   রেখেছি আজ শান্ত শীতল ক'রে

              অঙ্গন মোর চন্দনসৌরভে।

   সেরেছি কাজ সারাটা দিন ধরে--

              তোমার এবার সময় কখন হবে।

 

   আজিকে চাঁদ উঠবে প্রথম রাতে

              নদীর পারে নারিকেলের বনে,

   দেবালয়ের বিজন আঙিনাতে

              পড়বে আলো গাছের ছায়া-সনে।

   দখিন-হাওয়া উঠবে হঠাৎ বেগে,

              আসবে জোয়ার সঙ্গে তারি ছুটে--

   বাঁধা তরী ঢেউয়ের দোলা লেগে

              ঘাটের 'পরে মরবে মাথা কুটে।

 

   জোয়ার যখন মিশিয়ে যাবে কূলে,

              থম্‌থমিয়ে আসবে যখন জল,

   বাতাস যখন পড়বে ঢুলে ঢুলে,

              চন্দ্র যখন নামবে অস্তাচল,

       শিথিল তনু তোমার ছোঁওয়া ঘুমে

              চরণতলে পড়বে লুটে তবে।

   বসে আছি শয়ন পাতি ভূমে--

              তোমার এবার সময় হবে কবে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

সমালোচক
Verses
বাবা নাকি বই লেখে সব নিজে।
কিছুই বোঝা যায় না লেখেন কী যে।
সেদিন পড়ে শোনাচ্ছিলেন তোরে,
বুঝেছিলি? -- বল্‌ মা সত্যি ক'রে।
     এমন লেখায় তবে
     বল্‌ দেখি কী হবে।
তোর মুখে মা, যেমন কথা শুনি,
তেমন কেন লেখেন নাকো উনি।
ঠাকুরমা কি বাবাকে কক্‌খনো
রাজার কথা শোনায় নিকো কোনো।
     সে-সব কথাগুলি
     গেছেন বুঝি ভুলি?
স্নান করতে বেলা হল দেখে
তুমি কেবল যাও মা, ডেকে ডেকে --
খাবার নিয়ে তুমি বসেই থাকো,
সে কথা তাঁর মনেই থাকে নাকো।
     করেন সারা বেলা
     লেখা-লেখা খেলা।
বাবার ঘরে আমি খেলতে গেলে
তুমি আমায় বল, "দুষ্টু ছেলে!'
বক আমায় গোল করলে পরে--
"দেখছিস নে লিখছে বাবা ঘরে!'
     বল্‌ তো, সত্যি বল্‌,
     লিখে কী হয় ফল।
আমি যখন বাবার খাতা টেনে
লিখি বসে দোয়াত কলম এনে--
ক খ গ ঘ ঙ হ য ব র,
আমার বেলা কেন মা, রাগ কর।
     বাবা যখন লেখে
     কথা কও না দেখে।
বড়ো বড়ো রুল-কাটা কাগজ
নষ্ট বাবা করেন না কি রোজ।
আমি যদি নৌকো করতে চাই
অম্‌নি বল, নষ্ট করতে নাই।
     সাদা কাগজ কালো
     করলে বুঝি ভালো?
আরো দেখুন
দুঃখ-আবাহন
Verses
         আয় দুঃখ, আয় তুই,
        তোর তরে পেতেছি আসন,
    হৃদয়ের প্রতি শিরা টানি টানি উপাড়িয়া
    বিচ্ছিন্ন শিরার মুখে তৃষিত অধর দিয়া
    বিন্দু বিন্দু রক্ত তুই করিস শোষণ;
    জননীর স্নেহে তোরে করিব পোষণ।
    হৃদয়ে আয় রে তুই হৃদয়ের ধন।
    নিভৃতে ঘুমাবি তুই হৃদয়ের নীড়ে;
       অতি শুরু তোর ভার--
    দু-একটি শিরা তাহে যাবে বুঝি ছিঁড়ে,
           যাক ছিঁড়ে।
    জননীর স্নেহে তোরে করিব বহন
    দুর্বল বুকের 'পরে  করিব ধারণ,
    একেলা বসিয়া ঘরে       অবিরল একস্বরে
         গাব তোর কানে কানে ঘুম পাড়াবার গান।
মুদিয়া আসিবে তোর শ্রান্ত দু-নয়ান।
    প্রাণের ভিতর হতে উঠিয়া নিশ্বাস,
    শ্রান্ত কপালেতে তোর করিবে বাতাস,
           তুই নীরবে ঘুমাস।
    আয়, দুঃখ,আয় তুই, ব্যাকুল এ হিয়া।
    দুই হাতে মুখ চাপি হৃদয়ের ভূমি-'পরে
        পড়্‌ আছাড়িয়া।
    সমস্ত হৃদয় ব্যাপি একবার উচ্চস্বরে
    অনাথ শিশুর মতো ওঠ্‌ রে কাঁদিয়া
        প্রাণের মর্মের কাছে
      একটি যে ভাঙা বাদ্য আছে
    দুই হাতে ডুলে নে রে, সবলে বাজায়ে দে রে
            নিতান্ত উন্মাদ-সম ঝন্‌ ঝন্‌ ঝন্‌ ঝন্‌।
    ভাঙ্গে তো ভাঙ্গিবে বাদ্য, ছেঁড়ে তো ছিঁড়িবে তন্ত্রী --
    নে রে তবে তুলে নে রে, সবলে বাজায়ে দে রে
        নিতান্ত উন্মাদ-সম ঝন্‌ ঝন্‌ ঝন্‌ ঝন্‌।
        দারুণ আহত হয়ে দারুণ শব্দের ঘায়,  
   যত আছে প্রতিধ্বনি   বিষম প্রমাদ গনি
        একেবারে সমস্বরে
        কাঁদিয়া উঠিবে যন্ত্রণায়-
        দুঃখ, তুই আয় তুই আয়।
  
        নিতান্ত একেলা এ হৃদয়।
        আর কিছু নয়,
   কাছে আয় একবার,      তুলে ধর্‌ মুখ তার,
        ঘুমে তার আঁখি দুটি রাখ্‌
        একদৃষ্টে চেয়ে শুধু থাক্‌।
        আর কিছু নয়,
        নিরালয় এ হৃদয়
        শুধু এক সহচর চায়।
  তুই দুঃখ তুই কাছে আয়।
  কথা না কহিস যদি       বসে থাক্‌ নিরবধি
        হৃদয়ের পাশে দিনরাতি।
  যখনি খেলাতে চাস     হৃদয়ের কাছে যাস,
       হৃদয় আমার চায় খেলাবার সাথি।
        আয় দুঃখ হৃদয়ের ধন,
        এই হেথা পেতেছি আসন।
        প্রাণের মর্মের কাছে
        এখনো যা রক্ত আছে
        তাই তুই করিস শোষণ।
আরো দেখুন
কেন মার' সিঁধ-কাটা ধূর্তে
Verses
  কেন মার' সিঁধ-কাটা ধূর্তে।
  কাজ ওর দেয়ালটা খুঁড়তে।
তোমার পকেটটাকে করেছ কি ডোবা হে--
চিরদিন বহমান অর্থের প্রবাহে
  বাধা দেবে অপরের পকেটটি পূরতে?
আর, যত নীতিকথা সে তো ওর চেনা না--
ওর কাছে অর্থনীতিটা নয় জেনানা;
  বন্ধ ধনেরে তাই দেয় সদা ঘুরতে,
  হেথা হতে হোথা তারে চালায় মুহূর্তে।
আরো দেখুন