৪০ (monke hethay bosiye rakhis ne)

          মনকে হেথায় বসিয়ে রাখিস নে।

তোর          ফাটল-ধরা ভাঙা ঘরে

          ধুলার 'পরে পড়ে থাকিস নে।

          ওরে অবশ, ওরে খেপা,

          মাটির 'পরে ফেলবি রে পা,

                তারে নিয়ে গায়ে মাখিস নে।

          ওই প্রদীপ আর জ্বালিয়ে রাখিস নে--

রাত্রি যে তোর ভোর হয়েছে,

          স্বপন নিয়ে পড়ে থাকিস নে।

          উঠল এবার প্রভাত-রবি,

          খোলা পথে বাহির হবি,

               মিথ্যা ধুলায় আকাশ ঢাকিস নে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

182
Verses
ভজনমন্দিরে তব
     পূজা যেন নাহি রয় থেমে,
           মানুষে কোরো না অপমান।
যে ঈশ্বরে ভক্তি করো,
     হে সাধক, মানুষের প্রেমে
           তাঁরি প্রেম করো সপ্রমাণ।
আরো দেখুন
লীলা
Verses
    আমি    শরৎশেষের মেঘের মতো
                   তোমার গগন-কোণে
    সদাই       ফিরি অকারণে।
              তুমি আমার চিরদিনের
                   দিনমণি গো--
              আজো তোমার কিরণপাতে
              মিশিয়ে দিয়ে আলোর সাথে
              দেয় নি মোরে বাষ্প ক'রে
                   তোমার পরশনি।
              তোমা হতে পৃথক হয়ে
                   বৎসর মাস গণি।
    ওগো,  এমনি তোমার ইচ্ছা যদি,
                   এমনি খেলা তব,
    তবে         খেলাও নব নব।
              লয়ে আমার তুচ্ছ কণিক
                   ক্ষণিকতা গো--
              সাজাও তারে বর্ণে বর্ণে,
              ডুবাও তারে তোমার স্বর্ণে,
              বায়ুর স্রোতে ভাসিয়ে তারে
                   খেলাও যথা-তথা।
              শূন্য আমায় নিয়ে রচ
                   নিত্যবিচিত্রতা।
    ওগো,  আবার যবে ইচ্ছা হবে
                   সাঙ্গ কোরো খেলা
    ঘোর         নিশীথরাত্রিবেলা।
              অশ্রুধারে ঝরে যাব
                   অন্ধকারে গো--
              প্রভাতকালে রবে কেবল
              নির্মলতা শুভ্রশীতল,
              রেখাবিহীন মুক্ত আকাশ
                   হাসবে চারি ধারে।
              মেঘের খেলা মিশিয়ে যাবে
                   জ্যোতিসাগরপারে।
আরো দেখুন
মদনভস্মের পর
Verses
পঞ্চশরে দগ্ধ করে করেছ একি সন্ন্যাসী,
   বিশ্বময় দিয়েছ তারে ছড়ায়ে!
ব্যাকুলতর বেদনা তার বাতাসে উঠে নিশ্বাসি,
        অশ্রু তার আকাশে পড়ে গড়ায়ে।
ভরিয়া উঠে নিখিল ভব  রতিবিলাপ-সংগীতে,
        সকল দিক কাঁদিয়া উঠে আপনি।
ফাগুন মাসে নিমেষ-মাঝে না জানি কার ইঙ্গিতে
        শিহরি উঠি মুরছি পড়ে অবনী।
আজিকে তাই বুঝিতে নারি কিসের বাজে যন্ত্রণা
        হৃদয়বীণাযন্ত্রে মহা পুলকে!
তরুণী বসি ভাবিয়া মরে কী দেয় তারে মন্ত্রণা
        মিলিয়া সবে দ্যুলোকে আর ভূলোকে
কী কথা উঠে মর্মরিয়া বকুলতরুপল্লবে,
        ভ্রমর উঠে গুঞ্জরিয়া কী ভাষা!
ঊর্ধ্বমুখে সূর্যমুখী স্মরিছে কোন্‌ বল্লভে,
        নির্ঝরিণী বহিছে কোন্‌ পিপাসা!
বসন কার দেখিতে পাই জ্যোৎস্নালোকে লুণ্ঠিত
        নয়ন কার নীরব নীল গগনে!
বদন কার দেখিতে পাই কিরণে অবগুণ্ঠিত,
        চরণ কার কোমল তৃণশয়নে!
পরশ কার পুষ্পবাসে পরান মন উল্লাসি
        হৃদয়ে উঠে লতার মতো জড়ায়ে!
পঞ্চশরে ভস্ম করে করেছ একি সন্ন্যাসী,
        বিশ্বময় দিয়েছ তারে ছড়ায়ে।
আরো দেখুন