যাত্রী (jatri)

ওরে যাত্রী, যেতে হবে বহুদূরদেশে।

কিসের করিস চিন্তা বসি পথশেষে?

কোন্‌ দুঃখে কাঁদে প্রাণ? কার পানে চাহি

বসে বসে দিন কাটে শুধু গান গাহি

শুধু মুগ্ধনেত্র মেলি? কার কথা শুনে

মরিস জ্বলিয়া মিছে  মনের আগুনে?

কোথায় রহিবে পড়ি এ তোর সংসার!

কোথায় পশিবে সেথা কলরব তার!

মিলাইবে যুগ যুগ স্বপনের মতো,

কোথা রবে আজিকার কুশাঙ্কুরক্ষত!

নীরবে জ্বলিবে তব পথের দু ধারে

গ্রহতারকার দীপ কাতারে কাতারে।

তখনো চলেছ একা অনন্ত ভুবনে--

কোথা হতে কোথা গেছ না রহিবে মনে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

৪৫
Verses
৪৫
রঙের খেয়ালে আপনা খোয়ালে,
          হে মেঘ, করিলে খেলা।
চাঁদের আসরে যবে ডাকে তোরে
          ফুরাল যে তোর বেলা॥  
আরো দেখুন
অচেনা
Verses
রে অচেনা, মোর মুষ্টি ছাড়াবি কী ক'রে
       যতক্ষণ চিনি নাই তোরে?
            কোন্‌ অন্ধক্ষণে
       বিজড়িত তন্দ্রাজাগরণে
       রাত্রি যবে সবে হয় ভোর
            মুখ দেখিলাম তোর।
চক্ষু 'পরে চক্ষু রাখি শুধালেম, কোথা সংগোপনে
            আছ আত্মবিস্মৃতির কোণে?
       তোর সাথে চেনা
            সহজে হবে না,
       কানে-কানে মৃদু কণ্ঠে নয়।
            করে নেব জয়
       সংশয়কুণ্ঠিত তোর বাণী;
দৃপ্ত বলে লব টানি
       শঙ্কা হতে, লজ্জা হতে, দ্বিধাদ্বন্দ্ব হতে
                 নির্দয় আলোতে।
       জাগিয়া উঠিবি অশ্রুধারে,
       মুহূর্তে চিনিবি আপনারে;
                 ছিন্ন হবে ডোর,
       তোমার মুক্তিতে তবে মুক্তি হবে মোর।
                 হে অচেনা,
       দিন যায়, সন্ধ্যা হয়, সময় রবে না;
                 মহা-আকস্মিক
               বাধাবন্ধ ছিন্ন করি দিক্‌,
তোমারে চেনার অগ্নি দীপ্তশিখা উঠুক উজ্জ্বলি,
               দিব তাহে জীবন-অঞ্জলি।
আরো দেখুন
জগদীশচন্দ্র বসু
Verses
বিজ্ঞানলক্ষ্মীর প্রিয় পশ্চিম মন্দিরে
           দূর সিন্ধুতীরে
হে বন্ধু, গিয়েছ তুমি; জয়মাল্যখানি
          সেথা হতে আনি
দীনহীনা জননীর লজ্জানত শিরে
          পরাইছ ধীরে।
বিদেশের মহোজ্জ্বল-মহিমা-মণ্ডিত
          পণ্ডিতসভায়
বহু সাধুবাদধ্বনি নানা কণ্ঠরবে
          শুনেছ গৌরবে।
সে ধ্বনি গম্ভীরমন্দ্রে ছায় চারি ধার
          হয়ে সিন্ধু পার।
আজি মাতা পাঠাইছে--অশ্রুসিক্ত বাণী
          আশীর্বাদখানি
জগৎ-সভার কাছে অখ্যাত অজ্ঞাত
          কবিকণ্ঠে ভ্রাতঃ।
সে বাণী পশিবে শুধু তোমারি অন্তরে
          ক্ষীণ মাতৃস্বরে।
আরো দেখুন