শেষ চুম্বন (shesh chumbon)

দূর স্বর্গে বাজে যেন নীরব ভৈরবী।

ঊষার করুণ চাঁদ শীর্ণমুখচ্ছবি।

ম্লান হয়ে এল তারা; পূর্বদিগ্‌বধূর

কপোল শিশিরসিক্ত, পান্ডুর, বিধুর।

ধীরে ধীরে নিবে গেল শেষ দীপশিখা,

খসে গেল যামিনীর স্বপ্নযবনিকা।

প্রবেশিল বাতায়নে পরিতাপসম

রক্তরশ্মি প্রভাতের আঘাত নির্মম।

সেইক্ষণে গৃহদ্বারে সত্বর সঘন

আমাদের সর্বশেষ বিদায়-চুম্বন।

মুহূর্তে উঠিল বাজি চারি দিক হতে

কর্মের ঘর্ঘরমন্দ্র সংসারের পথে।

মহারবে সিংহদ্বার খুলে বিশ্বপুরে--

অশ্রুজল মুছে ফেলি চলি গেনু দূরে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

14
Verses
সব ঠাঁই মোর ঘর আছে,আমি
      সেই ঘর মরি খুঁজিয়া।
দেশে দেশে মোর দেশ আছে,আমি
      সেই দেশ লব যুঝিয়া।
পরবাসী আমি যে দুয়ারে চাই--
তারি মাঝে মোর আছে যেন ঠাঁই,
কোথা দিয়া সেথা প্রবেশিতে পাই
      সন্ধান লব বুঝিয়া।
ঘরে ঘরে আছে পরমাত্মীয়,
      তারে আমি ফিরি খুঁজিয়া।
রহিয়া রহিয়া নব বসন্তে
      ফুলসুগন্ধ গগনে
কেঁদে ফেরে হিয়া মিলনবিহীন
      মিলনের শুভ লগনে।
আপনার যারা আছে চারি ভিতে
পারি নি তাদের আপন করিতে,
তারা নিশিদিশি জাগাইছে চিতে
      বিরহবেদনা সঘনে।
পাশে আছে যারা তাদেরই হারায়ে
      ফিরে প্রাণ সারা গগনে।
তৃণে পুলকিত যে মাটির ধরা
      লুটায় আমার সামনে--
সে আমায় ডাকে এমন করিয়া
      কেন যে,কব তা কেমনে।
মনে হয় যেন সে ধূলির তলে
যুগে যুগে আমি ছিনু তৃণে জলে,
সে দুয়ার খুলি কবে কোন্‌ ছলে
      বাহির হয়েছি ভ্রমণে।
সেই মূক মাটি মোর মুখ চেয়ে
      লুটায় আমার সামনে।
নিশার আকাশ কেমন করিয়া
      তাকায় আমার পানে সে।
লক্ষযোজন দূরের তারকা
      মোর নাম যেন জানে সে।
যে ভাষায় তারা করে কানাকানি
সাধ্য কী আর মনে তাহা আনি;
চিরদিবসের ভুলে-যাওয়া বাণী
      কোন্‌ কথা মনে আনে সে।
অনাদি উষায় বন্ধু আমার
      তাকায় আমার পানে সে।
এ সাত-মহলা ভবনে আমার
      চির-জনমের ভিটাতে
স্থলে জলে আমি হাজার বাঁধনে
      বাঁধা যে গিঁঠাতে গিঁঠাতে।
তবু হায় ভুলে যাই বারে বারে,
দূরে এসে ঘর চাই বাঁধিবারে,
আপনার বাঁধা ঘরেতে কি পারে
     ঘরের বাসনা মিটাতে।
প্রবাসীর বেশে কেন ফিরি হায়
     চির-জনমের ভিটাতে।
যদি চিনি,যদি জানিবারে পাই,
     ধুলারেও মানি আপনা।
ছেটো বড়ো হীন সবার মাঝারে
     করি চিত্তের স্থাপনা।
হই যদি মাটি,হই যদি জল,
হই যদি তৃণ,হই ফুলফল,
জীব-সাথে যদি ফিরি ধরাতল
     কিছুতেই নাই ভাবনা।
যেথা যাব সেথা অসীম বাঁধনে
     অন্তবিহীন আপনা।
বিশাল বিশ্বে চারি দিক হতে
     প্রতি কণা মোরে টানিছে।
আমার দুয়ারে নিখিল জগৎ
     শত কোটি কর হানিছে।
ওরে মাটি, তুই আমারে কি চাস।
মোর তরে জল দু হাত বাড়াস?
নিশ্বাসে বুকে পশিয়া বাতাস
     চির-আহ্বান আনিছে।
পর ভাবি যারে তারা বারে বারে        
     সবাই আমারে টানিছে।
আছে আছে প্রেম ধুলায় ধুলায়,
     আনন্দ আছে নিখিলে।
মিথ্যায় ঘেরে,ছোটো কণাটিরে
     তুচ্ছ করিয়া দেখিলে।
জগতের যত অণু রেণু সব
আপনার মাঝে অচল নীরব
বহিছে একটি চিরগৌরব--
     এ কথা না যদি শিখিলে
জীবনে মরণে ভয়ে ভয়ে তবে
     প্রবাসী ফিরিবে নিখিলে।
ধুলা-সাথে আমি ধুলা হয়ে রব
     সে গৌরবের চরণে।
ফুলমাঝে আমি হব ফুলদল
     তাঁর পূজারতি-বরণে।
যেথা যাই আর যেথায় চাহি রে
তিল ঠাঁই নাই তাঁহার বাহিরে,
প্রবাস কোথাও নাহি রে নাহি রে
     জনমে জনমে মরণে।
যাহা হই আমি তাই হয়ে রব
     সে গৌরবের চরণে।
ধন্য রে আমি অনন্ত কাল,
     ধন্য আমার ধরণী।
ধন্য এ মাটি,ধন্য সুদূর
     তারকা হিরণ-বরনী।
যেথা আছি আমি আছি তাঁরি দ্বারে,
নাহি জানি ত্রাণ কেন বল কারে।
আছে তাঁরি পারে তাঁরি পারাবারে
     বিপুল ভুবনতরণী।
যা হয়েছি আমি ধন্য হয়েছি,
     ধন্য এ মোর ধরণী।
আরো দেখুন
বিরহ
Verses
শঙ্কিত আলোক নিয়ে দিগন্তে উদিল শীর্ণ শশী,
অরণ্যে শিরীষশাখে অকস্মাৎ উঠিল উচ্ছ্বসি
                                      বসন্তের হাওয়ার খেয়াল,
ব্যথায় নিবিড় হল শেষ বাক্য বলিবার কাল।
গোধূলির গীতিশূন্য স্তম্ভিত প্রহরখানি বেয়ে
শান্ত হল শেষ দেখা-- নির্নিমেষ রহিলাম চেয়ে।
                                      ধীরে ধীরে বনান্তে মিলালো
প্রান্তরের প্রান্ততটে অস্তশেষ ক্ষীণ পাংশু আলো।
যে দ্বার খুলিয়া গেলে রুদ্ধ সে হবে না কোনোমতে।
কান পাতি রবে তব ফিরিবার প্রত্যাশার পথে--
                                      তোমার অমূর্ত আসা-যাওয়া
যে পথে চঞ্চল করে দিগ্‌বালার অঞ্চলের হাওয়া।
বসন্তে মাঘের অন্তে আম্রবনে মুকুলমত্ততা
মধুপগুঞ্জনে মিশি আনে কোন্‌ কানে-কানে কথা।
                                      মোর নাম তব-কণ্ঠে-ডাকা
শান্ত আজি তাপক্লান্ত দিনান্তের মৌন দিয়ে ঢাকা।
সঙ্গহীন স্তব্ধতার সুগম্ভীর নিবিড় নিভৃতে
বাক্যহারা চিত্তে মোর এতদিনে পাইনু শুনিতে
                                      তুমি কবে মর্মমাঝে পশি
আপন মহিমা হতে রেখে গেলে বাণী মহীয়সী।
আরো দেখুন
22
Verses
THIS AUTUMN morning is tired with excess of light, and if your songs grow fitful and languid give me your flute awhile.
I shall but play with it as the whim takes me,-now take it on my lap, now touch it with my lips, now keep it by my side on the grass.
But in the solemn evening stillness I shall gather flowers, to deck it with wreaths, I shall fill it with fragrance; I shall worship it with the lighted lamp.
Then at night I shall come to you and give you back your flute.
You will play on it the music of midnight when the lonely crescent moon wanders among the stars.
আরো দেখুন