জগদীশচন্দ্র বসু (jogodishchondro basu)

বিজ্ঞানলক্ষ্মীর প্রিয় পশ্চিম মন্দিরে

           দূর সিন্ধুতীরে

হে বন্ধু, গিয়েছ তুমি; জয়মাল্যখানি

          সেথা হতে আনি

দীনহীনা জননীর লজ্জানত শিরে

          পরাইছ ধীরে।

 

বিদেশের মহোজ্জ্বল-মহিমা-মণ্ডিত

          পণ্ডিতসভায়

বহু সাধুবাদধ্বনি নানা কণ্ঠরবে

          শুনেছ গৌরবে।

সে ধ্বনি গম্ভীরমন্দ্রে ছায় চারি ধার

          হয়ে সিন্ধু পার।

 

আজি মাতা পাঠাইছে--অশ্রুসিক্ত বাণী

          আশীর্বাদখানি

জগৎ-সভার কাছে অখ্যাত অজ্ঞাত

          কবিকণ্ঠে ভ্রাতঃ।

সে বাণী পশিবে শুধু তোমারি অন্তরে

          ক্ষীণ মাতৃস্বরে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

সংযোজন - ১১
Verses
হে জনসমুদ্র, আমি ভাবিতেছি মনে
কে তোমারে আন্দোলিছে বিরাট মন্থনে
অনন্ত বরষ ধরি। দেবদৈত্যদলে
কী রত্ন সন্ধান লাগি তোমার অতলে
অশান্ত আবর্ত নিত্য রেখেছে জাগায়ে
পাপে-পুণ্যে সুখে-দুঃখে ক্ষুধায়-তৃষ্ণায়
ফেনিল কল্লোলভঙ্গে। ওগো, দাও দাও
কী আছে তোমার গর্ভে-- এ ক্ষোভ থামাও।
তোমার অন্তরলক্ষ্মী যে শুভ প্রভাতে
উঠিবেন অমৃতের পাত্র বহি হাতে
বিস্মিত ভুবন-মাঝে, লয়ে বরমালা
ত্রিলোকনাথের কণ্ঠে পরাবেন বালা,
সেদিন হইবে ক্ষান্ত এ মহামন্থন,
থেমে যাবে সমুদ্রের রুদ্র এ ক্রন্দন।
আরো দেখুন
31
Verses
"কে নিবি গো কিনে আমায়, কে নিবি গো কিনে?"
পসরা মোর হেঁকে হেঁকে বেড়াই রাতে দিনে।
            এমনি কবে হায়,      আমার
            দিন যে চলে যায়,
মায়ার 'পরে বোঝা আমার বিষম হল দায়।
কেউ বা আসে, কেউ বা হাসে, কেউ বা কেঁদে চায়।
মধ্যদিনে বেড়াই রাজার পাষাণ-বাঁধা পথে,
মুকুট-মাথে অস্ত্র-হাতে রাজা এল রথে।
            বললে হাতে ধরে,        "তোমায়
            কিনব আমি জোরে।"
জোর যা ছিল ফুরিয়ে গেল টানাটানি করে।
মুকুট-মাথে ফিরল রাজা সোনার রথে চড়ে।
রুদ্ধ্ব দ্বারের সমুখ দিয়ে ফিরতেছিলেম গলি।
দুয়ার খুলে বৃদ্ধ এল হাতে টাকার থলি।
            করলে বিবেচনা,         বললে,
            "কিনব দিয়ে সোনা।"
উজাড় করে দিয়ে থলি করলে আনাগোনা।
বোঝা মাথায় নিয়ে কোথায় গেলেম অন্যমনা।
সন্ধ্যাবেলায় জ্যোৎস্না নামে মুকুল-ভরা গাছে।
সুন্দরী সে বেরিয়ে এল বকুলতলার কাছে।
            বললে কাছে এসে,       "তোমায়
            কিনব আমি হেসে।"
হাসিখানি চোখের জলে মিলিয়ে এল শেষে;
ধীরে ধীরে ফিরে গেল বনছায়ার দেশে।
সাগরতীরে রোদ পড়েছে ঢেউ দিয়েছে জলে,
ঝিনুক নিয়ে খেলে শিশু বালুতটের তলে।
            যেন আমায় চিনে   বললে,
            "অমনি নেব কিনে।"
বোঝা আমার খালাস হল তখনি সেইদিনে।
খেলার মুখে বিনামূল্যে নিল আমায় জিনে।
আরো দেখুন
নামকরণ
Verses
দেয়ালের ঘেরে যারা
গৃহকে করেছে কারা,
           ঘর হতে আঙিনা বিদেশ,
গুরুভজা বাঁধা বুলি
যাদের পরায় ঠুলি,
           মেনে চলে ব্যর্থ নিদেশ,
যাহা কিছু আজগুবি
বিশ্বাস করে খুবই,
           সত্য যাদের কাছে হেঁয়ালি,
সামান্য ছুতোনাতা
সকলই পাথরে গাঁথা,
           তাহাদেরই বলা চলে দেয়ালি।
আলো যার মিট্‌মিটে,
স্বভাবটা খিট্‌খিটে,
           বড়োকে করিতে চায় ছোটো,
সব ছবি ভুষো মেজে
কালো ক'রে নিজেকে যে
           মনে করে ওস্তাদ পোটো,
বিধাতার অভিশাপে
ঘুরে মরে ঝোপে-ঝাপে
           স্বভাবটা যার বদখেয়ালি,
খ্যাঁক্‌ খ্যাঁক্‌ করে মিছে,
সব-তাতে দাঁত খিঁচে,
           তারে নাম দিব খ্যাঁক্‌শেয়ালি।
দিনখাটুনির শেষে
বৈকালে ঘরে এসে
           আরাম-কেদারা যদি মেলে--
গল্পটি মনগড়া,
কিছু বা কবিতা পড়া,
           সময়টা যায় হেসে খেলে--
দিয়ে জুঁই বেল জবা
সাজানো সুহৃদসভা,
           আলাপ-প্রলাপ চলে দেদারই--
ঠিক সুরে তার বাঁধা,
মূলতানে তান সাধা,
           নাম দিতে পারি তবে কেদারি।
আরো দেখুন