যাত্রাশেষে (jatrasheshe)

      বিজন রাতে যদি রে তোর

               সাহস থাকে

      দিনশেষের দোসর যে জন

               মিলবে তাকে।

      ঘনায় যবে আঁধার ছেয়ে

      অভয় মনে থাকিস চেয়ে--

      আসবে দ্বারে আলোর দূতী

               নীরব ডাকে।

      যখন ঘরে আসনখানি

               শূন্য হবে

      দূরের পথে পায়ের ধ্বনি

               শুনবি তবে।

      কাটল প্রহর যাদের আশায়

      তারা যখন ফিরবে বাসায়,

      সাহানাগান বাজবে তখন

               ভিড়ের ফাঁকে।

      

      অনেক চাওয়া ফিরলি চেয়ে

               আশায় ভুলি,

      আজ যদি তোর শূন্য হল

               ভিক্ষা-ঝুলি

      চমক তবে লাগুক তোরে,

      অধরা ধন দিক সে ভরে

      গোপন বঁধু, দেখতে কভু

               পাস নি যাকে।

      অভিসারের পথ বেড়ে যায়

               চলিস যত--

      পথের মাঝে মায়ার ছায়া

                অনেক-মতো।

      বসবি যবে ক্লান্তিভরে

      আঁচল পেতে ধুলার 'পরে,

      হঠাৎ পাশে আসবে সে যে

               পথের বাঁকে।

      এবার তবে করিস সারা

               কাঙাল-পনা--

      সমস্তদিন কাণাকড়ির

               হিসাব-গণা।

      শান্ত হলে মিলবে চাবি,

      অন্তরেতে দেখতে পাবি

      সবার শেষে তার পরে যে

               অশেষ থাকে।

      দূর বাঁশিতে যে সুর বাজে

               তাহার সাথে

      মিলিয়ে নিয়ে বাজাস বাঁশি

               বিদায়-রাতে।

      সহজ মনে যাত্রাশেষে

      যাস রে চলে সহজ হেসে,

      দিস নে ধরা অবসাদের

               জটিল পাকে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

2
Verses
  শুনহ শুনহ বালিকা,
   রাখ কুসুমমালিকা,
কুঞ্জ কুঞ্জ ফেরনু সখি শ্যামচন্দ্র নাহি রে।
   দুলই কুসুমমুঞ্জরী,
   ভমর ফিরই গুঞ্জরী,
অলস যমুনা বহয়ি যায় ললিত গীত গাহি রে।
   শশিসনাথ যামিনী,
  বিরহবিধুর কামিনী,
কুসুমহার ভইল ভার হৃদয় তার দাহিছে।
  অধর উঠই কাঁপিয়া
সখিকরে কর আপিয়া,
কুঞ্জভবনে পাপিয়া কাহে গীত গাহিছে।
   মৃদু সমীর সঞ্চলে
হরয়ি শিথিল অঞ্চলে,
চকিত হৃদয় চঞ্চলে কাননপথ চাহি রে।
   কুঞ্জপানে হেরিয়া,
    অশ্রুবারি ডারিয়া
ভানু গায় শূন্যকুঞ্জ শ্যামচন্দ্র নাহি রে!
আরো দেখুন
উৎসৃষ্ট
Verses
মিথ্যে তুমি গাঁথলে মালা
       নবীন ফুলে,
ভেবেছ কি কণ্ঠে আমার
       দেবে তুলে?
দাও তো ভালোই, কিন্তু জেনো
       হে নির্মলে,
আমার মালা দিয়েছি ভাই
       সবার গলে।
যে-ক'টা ফুল ছিল জমা
       অর্ঘ্যে মম
উদ্দেশেতে সবায় দিনু--
       নমো নমঃ।
কেউ বা তাঁরা আছেন কোথা
       কেউ জানে না,
কারো বা মুখ ঘোমটা-আড়ে
       আধেক চেনা।
কেউ বা ছিলেন অতীত কালে
       অবন্তীতে,
এখন তাঁরা আছেন শুধু
       কবির গীতে।
সবার তনু সাজিয়ে মাল্যে
       পরিচ্ছদে
কহেন বিধি "তুভ্যমহং            
       সম্প্রদদে'।
হৃদয় নিয়ে আজ কি প্রিয়ে
       হৃদয় দেবে?
হায় ললনা, সে প্রার্থনা
       ব্যর্থ এবে।
কোথায় গেছে সেদিন আজি
       যেদিন মম
তরুণ-কালে জীবন ছিল
       মুকুলসম,
সকল শোভা সকল মধু
       গন্ধ যত
বক্ষোমাঝে বন্ধ ছিল
       বন্দীমত।
আজ যে তাহা ছড়িয়ে গেছে
       অনেক দূরে--
অনেক দেশে, অনেক বেশে,
       অনেক সুরে।
কুড়িয়ে তারে বাঁধতে পারে
       একটিখানে
এমনতরো মোহন-মন্ত্র
       কেই বা জানে!
নিজের মন তো দেবার আশা
       চুকেই গেছে,
পরের মনটি পাবার আশায়
       রইনু বেঁচে।
আরো দেখুন
দুঃখ এ নয়, সুখ নহে গো
Verses
দুঃখ এ নয়, সুখ নহে গো--
   গভীর শান্তি এ যে,
আমার সকল ছাড়িয়ে গিয়ে
    উঠল কোথায় বেজে।
ছাড়িয়ে গৃহ, ছাড়িয়ে আরাম,   ছাড়িয়ে আপনারে
সাথে করে নিল আমায়    জন্মমরণপারে--
   এল পথিক সেজে।
          দুঃখ এ নয়, সুখ নহে গো--
   গভীর শান্তি এ যে।
চরণে তার নিখিল ভুবন          নীরব গগনেতে
আলো-আঁধার আঁচলখানি         আসন দিল পেতে।
এত কালের ভয় ভাবনা          কোথায় যে যায় সরে,
ভালোমন্দ ভাঙাচোরা                 আলোয় ওঠে ভরে,
                কালিমা যায় মেজে।
          দুঃখ এ নয়, সুখ নহে গো--
                গভীর শান্তি এ যে।
আরো দেখুন