৬২ (dukkho e noy sukh nohe go)

দুঃখ এ নয়, সুখ নহে গো--

   গভীর শান্তি এ যে,

আমার সকল ছাড়িয়ে গিয়ে

    উঠল কোথায় বেজে।

ছাড়িয়ে গৃহ, ছাড়িয়ে আরাম,   ছাড়িয়ে আপনারে

সাথে করে নিল আমায়    জন্মমরণপারে--

   এল পথিক সেজে।

          দুঃখ এ নয়, সুখ নহে গো--

   গভীর শান্তি এ যে।

চরণে তার নিখিল ভুবন          নীরব গগনেতে

আলো-আঁধার আঁচলখানি         আসন দিল পেতে।

এত কালের ভয় ভাবনা          কোথায় যে যায় সরে,

ভালোমন্দ ভাঙাচোরা                 আলোয় ওঠে ভরে,

                কালিমা যায় মেজে।

          দুঃখ এ নয়, সুখ নহে গো--

                গভীর শান্তি এ যে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

মিলন
Verses
সৃষ্টির প্রাঙ্গণে দেখি বসন্তে অরণ্যে ফুলে ফুলে
              দুটিরে মিলানো নিয়ে খেলা।
রেণুলিপি বহি বায়ু প্রশ্ন করে মুকুলে মুকুলে
              কবে হবে ফুটিবার বেলা।
তাই নিয়ে বর্ণচ্ছটা, চঞ্চলতা শাখায় শাখায়,
সুন্দরের ছন্দ বহে প্রজাপতি পাখায় পাখায়,
পাখির সংগীত সাথে বন হতে বনান্তরে ধায়
              উচ্ছ্বসিত উৎসবের মেলা।
সৃষ্টির সে রঙ্গ আজি দেখি মানবের লোকালয়ে
              দুজনায় গ্রন্থির বাঁধন।
অপূর্ব জীবন তাহে জাগিবে বিচিত্র রূপ লয়ে
              বিধাতার আপন সাধন।
ছেড়েছে সকল কাজ, রঙিন বসনে ওরা সেজে
চলেছে প্রান্তর বেয়ে, পথে পথে বাঁশি চলে বেজে,
পুরানো সংসার হতে জীর্ণতার সব চিহ্ন মেজে
              রচিল নবীন আচ্ছাদন।
যাহা সবচেয়ে সত্য সবচেয়ে খেলা যেন তাই,
              যেন সে ফাল্গুনকলোল্লাস।
যেন তাহা নিঃসংশয়, মর্তের ম্লানতা যেন নাই,
              দেবতার যেন সে উচ্ছ্বাস।
সহজে মিশিছে তাই আত্মভোলা মানুষের সনে
আকাশের আলো আজি গোধূলির রক্তিম লগনে,
বিশ্বের রহস্যলীলা মানুষের উৎসবপ্রাঙ্গণে
              লভিয়াছে আপন প্রকাশ।
বাজা তোরা বাজা বাঁশি, মৃদঙ্গ উঠুক তালে মেতে
              দুরন্ত নাচের নেশা পাওয়া।
নদীপ্রান্তে তরুগুলি ওই দেখ্‌ আছে কান পেতে,
              ওই সূর্য চাহে শেষ চাওয়া।
নিবি তোরা তীর্থবারি সে অনাদি উৎসের প্রবাহে
অনন্তকালের বক্ষ নিমগ্ন করিতে যাহা চাহে
বর্ণে গন্ধে রূপে রসে, তরঙ্গিত সংগীত উৎসাহে
              জাগায় প্রাণের মত্ত হাওয়া।
সহস্র দিনের মাঝে আজিকার এই দিনখানি
              হয়েছে স্বতন্ত্র চিরন্তন।
তুচ্ছতার বেড়া হতে মুক্তি তারে কে দিয়েছে আনি
              প্রত্যহের ছিঁড়েছে বন্ধন।
প্রাণদেবতার হাতে জয়টিকা পরেছে সে ভালে,
সূর্যতারকার সাথে স্থান সে পেয়েছে সমকালে,
সৃষ্টির প্রথম বাণী যে প্রত্যাশা আকাশে জাগালে
              তাই এল করিয়া বহন।
আরো দেখুন
141
Verses
প্রভাতের ফুল ফুটিয়া উঠুক
      সুন্দর পরিমলে।
সন্ধ্যাবেলায় হোক সে ধন্য
      মধুরসে-ভরা ফলে।
আরো দেখুন
একা আমি ফিরব না আর
Verses
       একা আমি ফিরব না আর
              এমন করে--
       নিজের মনে কোণে কোণে
              মোহের ঘোরে।
তোমায়       একলা বাহুর বাঁধন দিয়ে
                  ছোটো করে ঘিরতে গিয়ে
                  আপনাকে যে বাঁধি কেবল
                    আপন ডোরে।
                           যখন আমি পাব তোমায়
                                  নিখিলমাঝে
                           সেইখনে হৃদয় পাব
                                  হৃদয়রাজে।
                    এই   চিত্ত আমার বৃন্ত কেবল
                           তারি 'পরে বিশ্বকমল;
                           তারি 'পরে পূর্ণ প্রকাশ
                                  দেখাও মোরে।
আরো দেখুন