মিলন (milan)

সৃষ্টির প্রাঙ্গণে দেখি বসন্তে অরণ্যে ফুলে ফুলে

              দুটিরে মিলানো নিয়ে খেলা।

রেণুলিপি বহি বায়ু প্রশ্ন করে মুকুলে মুকুলে

              কবে হবে ফুটিবার বেলা।

তাই নিয়ে বর্ণচ্ছটা, চঞ্চলতা শাখায় শাখায়,

সুন্দরের ছন্দ বহে প্রজাপতি পাখায় পাখায়,

পাখির সংগীত সাথে বন হতে বনান্তরে ধায়

              উচ্ছ্বসিত উৎসবের মেলা।

সৃষ্টির সে রঙ্গ আজি দেখি মানবের লোকালয়ে

              দুজনায় গ্রন্থির বাঁধন।

অপূর্ব জীবন তাহে জাগিবে বিচিত্র রূপ লয়ে

              বিধাতার আপন সাধন।

ছেড়েছে সকল কাজ, রঙিন বসনে ওরা সেজে

চলেছে প্রান্তর বেয়ে, পথে পথে বাঁশি চলে বেজে,

পুরানো সংসার হতে জীর্ণতার সব চিহ্ন মেজে

              রচিল নবীন আচ্ছাদন।

যাহা সবচেয়ে সত্য সবচেয়ে খেলা যেন তাই,

              যেন সে ফাল্গুনকলোল্লাস।

যেন তাহা নিঃসংশয়, মর্তের ম্লানতা যেন নাই,

              দেবতার যেন সে উচ্ছ্বাস।

সহজে মিশিছে তাই আত্মভোলা মানুষের সনে

আকাশের আলো আজি গোধূলির রক্তিম লগনে,

বিশ্বের রহস্যলীলা মানুষের উৎসবপ্রাঙ্গণে

              লভিয়াছে আপন প্রকাশ।

বাজা তোরা বাজা বাঁশি, মৃদঙ্গ উঠুক তালে মেতে

              দুরন্ত নাচের নেশা পাওয়া।

নদীপ্রান্তে তরুগুলি ওই দেখ্‌ আছে কান পেতে,

              ওই সূর্য চাহে শেষ চাওয়া।

নিবি তোরা তীর্থবারি সে অনাদি উৎসের প্রবাহে

অনন্তকালের বক্ষ নিমগ্ন করিতে যাহা চাহে

বর্ণে গন্ধে রূপে রসে, তরঙ্গিত সংগীত উৎসাহে

              জাগায় প্রাণের মত্ত হাওয়া।

সহস্র দিনের মাঝে আজিকার এই দিনখানি

              হয়েছে স্বতন্ত্র চিরন্তন।

তুচ্ছতার বেড়া হতে মুক্তি তারে কে দিয়েছে আনি

              প্রত্যহের ছিঁড়েছে বন্ধন।

প্রাণদেবতার হাতে জয়টিকা পরেছে সে ভালে,

সূর্যতারকার সাথে স্থান সে পেয়েছে সমকালে,

সৃষ্টির প্রথম বাণী যে প্রত্যাশা আকাশে জাগালে

              তাই এল করিয়া বহন।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

ব্যর্থ মিলন
Verses
বুঝিলাম, এ মিলন ঝড়ের মিলন,
কাছে এনে দূরে দিল ঠেলি।
                   ক্ষুব্ধ মন
যতই ধরিতে চায়, বিরুদ্ধ আঘাতে
তোমারে হারায় হতাশ্বাস।
                   তব হাতে
দাক্ষিণ্য যে নাই, শুধু শিথিল পরশে
করিছে কৃপণ কৃপা। কর্তব্যের বশে
যে-দান করিলে তার মূল্য অপহরি
লুকায়ে রাখিলে কোথা
                   আমি খুঁজে মরি
                   পাই নে নাগাল। শরতের মেঘ তুমি
ছায়া মাত্র দিয়ে ভেসে যাও
                   --মরুভূমি
শূন্য-পানে চেয়ে থাকে, পিপাসা তাহার
সমস্ত হৃদয় ব্যাপি করে হাহাকার।
ভয় করিয়ো না মোরে।
                   এ করুণাকণা
রেখো মনে--ভুল করে মনে করিয়ো না
দস্যু আমি, লোভেতে নিষ্ঠুর।
                   জেনো মোরে
প্রেমের তাপস।
                   সুকঠোর ব্রত ধ'রে
করিব সাধনা,
                   আশাহীন ক্ষোভহীন
বহ্নিতপ্ত ধ্যানাসনে রব রাত্রিদিন।
ছাড়িয়া দিলাম হাত।
                   যদি কভু হয়
তপস্যা সার্থক, তবে পাইব হৃদয়।
না-ও যদি ঘটে, তবে আশাচঞ্চলতা
দাহিয়া হইবে শান্ত। সেও সফলতা।
আরো দেখুন
38
Verses
ছবির আসরে এল
      কত রাজা কত মহারাজা
            নানা অলংকারে সাজা।
অকুণ্ঠিত এলে দ্বারীসাজে
      সে সবার মাঝে
            তুমি প্রাণবান্‌--
তাদের সবার চেয়ে তোমার সম্মান।
আরো দেখুন
বিপ্লব
Verses
ডমরুতে নটরাজ বাজালেন তান্ডবে যে তাল
          ছিন্ন করে দিল তার ছন্দ তব ঝংকৃত কিঙ্কিণী
                   হে নর্তিনী,
          বেণীর বন্ধনমুক্ত উৎক্ষিপ্ত তোমার কেশজাল
                   ঝঞ্ঝার বাতাসে
               উচ্ছৃঙ্খল উদ্দাম উচ্ছ্বাসে;
বিদীর্ণ বিদ্যুৎঘাতে তোমার বিহ্বল বিভাবরী
                   হে সুন্দরী।
     সীমন্তের সিঁথি তব, প্রবালে খচিত কণ্ঠহার--
অন্ধকারে মগ্ন হল চৌদিকে বিক্ষিপ্ত অলংকার।
                   আভরণশূন্য রূপ
               বোবা হয়ে আছে করি চুপ।
                   ভীষণ রিক্ততা তার
উৎসুক চক্ষুর 'পরে হানিছে আঘাত অবজ্ঞার।
     নিষ্ঠুর নৃত্যের ছন্দে মুগ্ধ হস্তে-গাঁথা পুষ্পমালা
          বিস্রস্ত দলিত দলে বিকীর্ণ করিছে রঙ্গশালা।
               মোহমদে ফেনায়িত কানায় কানায়
                   যে পাত্রখানায়
               মুক্ত হত রসের প্লাবন
মত্ততার শেষ পালা আজি সে করিল উদ্‌যাপন।
          যে অভিসারের পথে চেলাঞ্চলখানি
                   নিতে টানি
          কম্পিত প্রদীপশিখা-'পরে
     তার চিহ্ন পদপাতে লুপ্ত করি দিলে চিরতরে;
          প্রান্তে তার ব্যর্থ বাঁশিরবে
     প্রতীক্ষিত প্রত্যাশার বেদনা যে উপেক্ষিত হবে।
এ নহে তো ঔদাসীন্য, নহে ক্লান্তি, নহে বিস্মরণ,
     ক্রুদ্ধ এ বিতৃষ্ণা তব মাধুর্যের প্রচন্ড মরণ,
                   তোমার কটাক্ষ
          দেয় তারই হিংস্র সাক্ষ্য
                        ঝলকে ঝলকে
                             পলকে পলকে,
                        বঙ্কিম নির্মম
                   মর্মভেদী তরবারি-সম।
             তবে তাই হোক,
     ফুৎকারে নিবায়ে দাও অতীতের অন্তিম আলোক।
চাহিব না ক্ষমা তব, করিব না দুর্বল বিনতি,
     পরুষ মরুর পথে হোক মোর অন্তহীন গতি,
          অবজ্ঞা করিয়া পিপাসারে,
     দলিয়া চরণতলে ক্রূর বালুকারে।
          মাঝে মাঝে কটুস্বাদ দুখে
তীব্র রস দিতে ঢালি রজনীর অনিদ্র কৌতুকে
               যবে তুমি ছিলে রহঃসখী।
প্রেমেরি সে দানখানি, সে যেন কেতকী
          রক্তরেখা এঁকে গায়ে
রক্তস্রোতে মধুগন্ধ দিয়েছে মিশায়ে।
     আজ তব নিঃশব্দ নীরস হাস্যবাণ
          আমার ব্যথার কেন্দ্র করিছে সন্ধান।
               সেই লক্ষ্য তব
          কিছুতেই মেনে নাহি লব,
     বক্ষ মোর এড়ায়ে সে যাবে শূন্যতলে,
          যেখানে উল্কার আলো জ্বলে
               ক্ষণিক বর্ষণে
                   অশুভ দর্শনে।
     বেহে ওঠে ডঙ্কা, শঙ্কা শিহরায় নিশীথগগনে--
হে নির্দয়া, কী সংকেত বিচ্ছুরিল স্খলিত কঙ্কণে।
আরো দেখুন