দিনান্ত (dinanto)

      একাত্তরটি প্রদীপ-শিখা

                নিবল আয়ুর দেয়ালিতে,

     শমের সময় হল কবি

                এবার পালা-শেষের গীতে।

     গুণ টেনে তোর বয়েস চলে,

                পায়ে পায়ে এগিয়ে আনে

     তরঙ্গহীন কূল-হারানো

                মানস-সরোবরের পানে।

     অরূপ-কমল-বনে সেথায়

                স্তব্ধবাণীর বীণাপাণি--

     এত দিনের প্রাণের বাঁশি

                চরণে তাঁর দাও রে আনি।

     ছন্দে কভু পতন ছিল,

                সুখে স্খলন ক্ষণে ক্ষণে,

     সেই অপরাধ করুণ হাতে

                ধৌত হবে বিস্মরণে।

     দৈবে যে গান গ্লানিবিহীন

                ফুলের মতো উঠল ফুটে

     আপন ব'লে নেবেন তাহাই

                প্রসন্ন তাঁর স্মৃতিপুটে।

     অসীম নীরবতার মাঝে

                সার্থক তোর বাণী যত

     অন্ধকারের বেদীর তলায়

                রইল সন্ধ্যাতারার মতো।

     যৌবন তোর হয় নি ক্লান্ত

                এই জীবনের কুঞ্জবনে--

     আজ যদি তার পাপড়িগুলি

                খসে শীতের সমীরণে।

     দিনান্তে সে শান্তিভরা

                ফলের মতো উঠুক ফলি,

     অতন্দ্রিত নিশীথিনীর

                হবে চরম পূজাঞ্জলি।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

61
Verses
       কোন্‌ খ'সে-পড়া তারা
মোর প্রাণে এসে খুলে দিল আজি
       সুরের অশ্রুধারা।
আরো দেখুন
16
Verses
পথিক দেখেছি আমি পুরাণে-কীর্তিত কত দেশ
কীর্তিনিঃস্ব আজি; দেখেছি অবমানিত ভগ্নশেষ
দর্পোদ্ধত প্রতাপের; অন্তর্হিত বিজয়নিশান
বজ্রাঘাতে স্তব্ধ যেন অট্টহাসি; বিরাট সম্মান
সাষ্টাঙ্গে সে ধুলায় প্রণত, যে ধুলার 'পরে মেলে
সন্ধ্যাবেলা ভিক্ষু জীর্ণ কাঁথা, যে ধুলায় চিহ্ন ফেলে
শ্রান্ত পদ পথিকের, পুনঃ সেই চিহ্ন লোপ করে
অসংখ্যের নিত্য পদপাতে। দেখিলাম বালুস্তরে
প্রচ্ছন্ন সুদূর যুগান্তর, ধূসর সমুদ্রতলে
যেন মগ্ন মহাতরী অকস্মাৎ ঝঞ্ঝাবর্তবলে,
লয়ে তার সব ভাষা, সর্ব দিনরজনীর আশা,
মুখরিত ক্ষুধাতৃষ্ণা, বাসনাপ্রদীপ্ত ভালোবাসা।
তবু করি অনুভব বসি এই অনিত্যের বুকে,
অসীমের হৃৎস্পন্দন তরঙ্গিছে মোর দুঃখে সুখে।
আরো দেখুন
ছত্রিশ
Verses
শীতের রোদ্দুর।
সোনা-মেশা সবুজের ঢেউ
স্তম্ভিত হয়ে আছে সেগুন বনে।
বেগনি-ছায়ার ছোঁওয়া-লাগা
ঝুরি-নামা বৃদ্ধ বট
ডাল মেলেছে রাস্তার ওপার পর্যন্ত।
ফলসাগাছের ঝরা পাতা
হঠাৎ হাওয়ায় চমকে বেড়ায় উড়ে
ধুলোর সাঙাত হয়ে।
কাজ-ভোলা এই দিন
উধাও বলাকার মতো
লীন হয়ে চলেছে নিঃসীম নীলিমায়।
ঝাউগাছের মর্মরধ্বনিতে মিশে
মনের মধ্যে এই কথাটি উঠছে বেজে,
"আমি আছি।"
কুয়োতলার কাছে
সামান্য ঐ আমের গাছ;
সারা বছর ও  থাকে আত্মবিস্মৃত,
বনের সাধারণ সবুজের আবরণে
ও থাকে ঢাকা।
এমন সময় মাঘের শেষে
হঠাৎ মাটির নিচে
শিকড়ে শিকড়ে তার শিহর লাগে,
শাখায় শাখায় মুকুলিত হয়ে ওঠে বাণী--
"আমি আছি,"
চন্দ্রসূর্যের আলো আপন ভাষায়
স্বীকার করে তার সেই ভাষা।
অলস মনের শিয়রে দাঁড়িয়ে
হাসেন অন্তর্যামী,
হঠাৎ দেন ঠেকিয়ে সোনার কাঠি
প্রিয়ার মুগ্ধ চোখের দৃষ্টি দিয়ে,
কবির গানের সুর দিয়ে,
তখন যে-আমি ধূলিধূসর সামান্য দিনগুলির
মধ্যে মিলিয়ে ছিল,
সে দেখা দেয় এক নিমেষের অসমান্য আলোকে।
সে-সব দুর্মূল্য নিমেষ
কোনো রত্নভাণ্ডারে থেকে যায় কি না জানিনে;
এইটুকু জানি--
তারা এসেছে আমার আত্মবিস্মৃতির মধ্যে,
জাগিয়েছে আমার মর্মে
বিশ্বমর্মের নিত্যকালের সেই বাণী
"আমি আছি।"
আরো দেখুন