বিদেশী ফুলের গুচ্ছ - ৫ (golap hasiya bole)

                   ১

গোলাপ হাসিয়া বলে, "আগে বৃষ্টি যাক চলে,

           দিক দেখা তরুণ তপন--

           তখন ফুটাব এ যৌবন।'

গেল মেঘ, এল উষা, আকাশের আঁখি হতে

           মুছে দিল বৃষ্টিবারিকণা--

           সে তো রহিল না।

কোকিল ভাবিছে মনে, "শীত যাবে কত ক্ষণে,

           গাছপালা ছাইবে মুকুলে--

           তখন গাহিব মন খুলে।'

কুয়াশা কাটিয়া যায়, বসন্ত হাসিয়া চায়,

          কানন কুসুমে ভরে গেল--

          সে যে মরে গেল!

 

             ২

এত শীঘ্র ফুটিলি কেন রে!

      ফুটিলে পড়িতে হয় ঝরে--

      মুকুলের দিন আছে তবু,

ফোটা ফুল ফোটে না তো আর।

       বড়ো শীঘ্র গেলি মধুমাস,

       দু দিনেই ফুরালো নিশ্বাস।

       বসন্ত আবার আসে বটে,

গেল যে সে ফেরে না আবার।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

ছেলেবেলাকার আহা, ঘুমঘোরে দেখেছিনু
Verses
ছেলেবেলাকার আহা, ঘুমঘোরে দেখেছিনু
       মূরতি দেবতাসম অপরূপ স্বজনি,
ভেবেছিনু মনে মনে, প্রণয়ের চন্দ্রলোকে
       খেলিব দুজনে মিলি দিবস ও রজনী,
আজ সখি একেবারে, ভেঙেছে সে ঘুমঘোর
       ভেঙেছে সাধের ভুল মাখানো যা মরমে,
দেবতা ভাবিনু যারে, তার কলঙ্কের কথা
       শুনিয়া মলিন মুখ ঢাকিয়াছি শরমে।
তাই ভাবিয়াছি সখি, এই হৃদয়ের পটে
       এঁকেছি যে ছবিখানি অতিশয় যতনে,
অশ্রুজলে অশ্রুজলে, মুছিয়া ফেলিব তাহা,
       আর না আনিব মনে, এই পোড়া জনমে।--
কিন্তু হায় -- বৃথা এ আশা, মরমের মরমে যা।
       আঁকিয়াছি সযতনে শোনিতের আখরে,
এ জনমে তাহা আর, মুছিবে না, মুছিবে না,
       আমরণ রবে তাহা হৃদয়ের ভিতরে!
আমরণ কেঁদে কেঁদে, কাটিয়া যাইবে দিন,
       নীরব আগুনে মন পুড়ে হবে ছাই লো!
মনের এ কথাগুলি গোপনে লুকায়ে রেখে
       কতদিন বেঁচে রব ভাবিতেছি তাই লো!
আরো দেখুন
70
Verses
তোমার ন্যায়ের দন্ড প্রত্যেকের করে
অর্পণ করেছ নিজে। প্রত্যেকের 'পরে
দিয়েছ শাসনভার হে রাজাধিরাজ।
সে গুরু সম্মান তব সে দুরূহ কাজ
নমিয়া তোমারে যেন শিরোধার্য করি
সবিনয়ে। তব কার্যে যেন নাহি ডরি
কভু কারে।
ক্ষমা যেথা ক্ষীণ দুর্বলতা,
হে রুদ্র, নিষ্ঠুর যেন হতে পারি তথা
তোমার আদেশে। যেন রসনায় মম
সত্যবাক্য ঝলি উঠে খরখড়গসম
তোমার ইঙ্গিতে। যেন রাখি তব মান
তোমার বিচারাসনে লয়ে নিজস্থান।
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে
তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।
আরো দেখুন
জাগরণ
Verses
পথ চেয়ে তো কাটল নিশি,
           লাগছে মনে ভয়--
সকালবেলা ঘুমিয়ে পড়ি
           যদি এমন হয়।
যদি তখন হঠাৎ এসে
দাঁড়ায় আমার দুয়ার-দেশে।
বনচ্ছায়ায় ঘেরা এ ঘর
           আছে তো তার জানা--
ওগো, তোরা পথ ছেড়ে দিস,
           করিস নে কেউ মানা।
যদি-বা তার পায়ের শব্দে
           ঘুম না ভাঙে মোর,
শপথ আমার, তোরা কেহ
           ভাঙাস নে সে ঘোর।
চাই নে জাগতে পাখির রবে
নতুন আলোর মহোৎসবে,
চাই নে জাগতে হাওয়ায় আকুল
           বকুল ফুলের বাসে--
তোরা আমায় ঘুমোতে দিস
           যদিই-বা সে আসে।
ওগো, আমার ঘুম যে ভালো
           গভীর অচেতনে--
যদি আমায় জাগায় তারি
           আপন পরশনে।
ঘুমের আবেশ যেমনি টুটি
দেখব তারি নয়নদুটি
মুখে আমার তারি হাসি
           পড়বে সকৌতুকে--
সে যেন মোর সুখের স্বপন
           দাঁড়াবে সম্মুখে।
সে আসবে মোর চোখের 'পরে
           সকল আলোর আগে,
তাহারি রূপ মোর প্রভাতের
           প্রথম হয়ে জাগে।
প্রথম চমক লাগবে সুখে
চেয়ে তারি করুণ মুখে,
চিত্ত আমার উঠবে কেঁপে
           তার চেতনায় ভ'রে--
তোরা আমায় জাগাস নে কেউ,
           জাগাবে সেই মোরে।
আরো দেখুন