জাগরণ (jagoron)

পথ চেয়ে তো কাটল নিশি,

           লাগছে মনে ভয়--

সকালবেলা ঘুমিয়ে পড়ি

           যদি এমন হয়।

যদি তখন হঠাৎ এসে

দাঁড়ায় আমার দুয়ার-দেশে।

বনচ্ছায়ায় ঘেরা এ ঘর

           আছে তো তার জানা--

ওগো, তোরা পথ ছেড়ে দিস,

           করিস নে কেউ মানা।

 

যদি-বা তার পায়ের শব্দে

           ঘুম না ভাঙে মোর,

শপথ আমার, তোরা কেহ

           ভাঙাস নে সে ঘোর।

চাই নে জাগতে পাখির রবে

নতুন আলোর মহোৎসবে,

চাই নে জাগতে হাওয়ায় আকুল

           বকুল ফুলের বাসে--

তোরা আমায় ঘুমোতে দিস

           যদিই-বা সে আসে।

 

ওগো, আমার ঘুম যে ভালো

           গভীর অচেতনে--

যদি আমায় জাগায় তারি

           আপন পরশনে।

ঘুমের আবেশ যেমনি টুটি

দেখব তারি নয়নদুটি

মুখে আমার তারি হাসি

           পড়বে সকৌতুকে--

সে যেন মোর সুখের স্বপন

           দাঁড়াবে সম্মুখে।

 

সে আসবে মোর চোখের 'পরে

           সকল আলোর আগে,

তাহারি রূপ মোর প্রভাতের

           প্রথম হয়ে জাগে।

প্রথম চমক লাগবে সুখে

চেয়ে তারি করুণ মুখে,

চিত্ত আমার উঠবে কেঁপে

           তার চেতনায় ভ'রে--

তোরা আমায় জাগাস নে কেউ,

           জাগাবে সেই মোরে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

পঞ্চমী
Verses
                              ভাবি বসে বসে
                                    গত জীবনের কথা,
                              কাঁচা মনে ছিল
                                    কী বিষম মূঢ়তা।
                              শেষে ধিক্‌কারে বলি হাত নেড়ে,
                                    যাক গে সে কথা যাক গে।
           তরুণ বেলাতে যে খেলা খেলাতে
                 ভয় ছিল হারবার,
           তারি লাগি, প্রিয়ে, সংশয়ে মোরে
                 ফিরিয়েছ বার বার।
           কৃপণ কৃপার ভাঙা কণা একটুক
                 মনে দেয় নাই সুখ।
           সে যুগের শেষে আজ বলি হেসে,
                 কম কি সে কৌতুক
                     যতটুকু ছিল ভাগ্যে,
                         দুঃখের কথা থাক্‌ গে।
                              পঞ্চমী তিথি
                                    বনের আড়াল থেকে
                              দেখা দিয়েছিল
                                    ছায়া দিয়ে মুখ ঢেকে।
                              মহা আক্ষেপে বলেছি সেদিন,
                                    এ ছল কিসের জন্য।
           পরিতাপে জ্বলি আজ আমি বলি,
                 সিকি চাঁদিনীর আলো
           দেউলে নিশার অমাবস্যার
                 চেয়ে যে অনেক ভালো।
           বলি আরবার, এসো পঞ্চমী, এসো,
                 চাপা হাসিটুকু হেসো,
           আধখানি বেঁকে ছলনায় ঢেকে
                 না জানিয়ে ভালোবেসো।
                     দয়া, ফাঁকি নামে গণ্য,
                         আমারে করুক ধন্য।
                              আজ খুলিয়াছি
                                    পুরানো স্মৃতির ঝুলি,
                              দেখি নেড়েচেড়ে
                                    ভুলের দুঃখগুলি।
                              হায় হায় এ কী, যাহা কিছু দেখি
                                    সকলি যে পরিহাস্য।
           ভাগ্যের হাসি কৌতুক করি
                 সেদিন সে কোন্‌ ছলে
           আপনার ছবি দেখিতে চাহিল
                 আমার অশ্রুজলে।
           এসো ফিরে এসো সেই ঢাকা বাঁকা হাসি,
                 পালা শেষ করো আসি।
           মূঢ় বলিয়া করতালি দিয়া
                 যাও মোরে সম্ভাষি।
                     আজ করো তারি ভাষ্য
                         যা ছিল অবিশ্বাস্য।
                              বয়স গিয়েছে,
                                    হাসিবার ক্ষমতাটি
                              বিধাতা দিয়েছে,
                                    কুয়াশা গিয়েছে কাটি।
                              দুখদুর্দিন কালো বরনের
                                    মুখোশ করেছে ছিন্ন।
           দীর্ঘ পথের শেষ গিরিশিরে
                 উঠে গেছে আজ কবি।
           সেথা হতে তার ভূতভবিষ্য
                 সব দেখে যেন ছবি।
           ভয়ের মূর্তি যেন যাত্রার সঙ্‌,
                 মেখেছে কুশ্রী রঙ।
           দিনগুলি যেন পশুদলে চলে,
                 ঘণ্টা বাজায়ে গলে।
                     কেবল ভিন্ন ভিন্ন
                         সাদা কালো যত চিহ্ন।
আরো দেখুন
12
Verses
YOU, LIKE A rivulet swift and sinuous, laugh and dance, and your steps sing as you trip along.
        I, like a bank rugged and steep, stand speechless and stock-still and darkly gaze at you.
I, like a big, foolish storm, of a sudden come rushing on and try to rend my being and scatter it parcelled in a whirl of passion.
        You, like the lightning's flash slender and keen, pierce the heart of the turbulent darkness, to disappear in a vivid streak of laughter.
আরো দেখুন
পূরবী
Verses
যারা আমার সাঁঝ-সকালের গানের দীপে জ্বালিয়ে দিলে আলো
আপন হিয়ার পরশ দিয়ে; এই জীবনের সকল সাদা কালো
যাদের আলো-ছায়ার লীলা; সেই যে আমার আপন মানুষগুলি
নিজের প্রাণের স্রোতের 'পরে আমার প্রাণের ঝর্‌না নিল তুলি;
তাদের সাথে একটি ধারায় মিলিয়ে চলে, সেই তো আমার আয়ু,
নাই সে কেবল দিন-গণনার পাঁজির পাতায়, নয় সে নিশাস-বায়ু।
তাদের বাঁচায় আমার বাঁচা আপন সীমা ছাড়ায় বহু দূরে;
নিমেষগুলির ফল পেকে যায় নানা দিনের সুধার রসে পুরে;
অতীত কালের আনন্দরূপ বর্তমানের বৃন্ত-দোলায় দোলে--
গর্ভ হতে মুক্ত শিশু তবুও যেন মায়ের বক্ষে কোলে
বন্দী থাকে নিবিড় প্রেমের বাঁধন দিয়ে। তাই তো যখন শেষে
একে একে আপন জনে সূর্য-আলোর অন্তরালের দেশে
আঁখির নাগাল এড়িয়ে পালায়, তখন রিক্ত শীর্ণ জীবন মম
শুষ্ক রেখায় মিলিয়ে আসে বর্ষাশেষের নির্ঝরিণী-সম
শূন্য বালুর একটি প্রান্তে ক্লান্ত বারি স্রস্ত অবহেলায়।
তাই যারা আজ রইল পাশে এই জীবনের অপরাহ্নবেলায়
তাদের হাতে হাত দিয়ে তুই গান গেয়ে নে থাকতে দিনের আলো--
বলে নে, "ভাই, এই যা দেখা, এই যা ছোঁওয়া এই ভালো এই ভালো।
এই ভালো আজ এ সংগমে কান্নাহাসির গঙ্গা-যমুনায়
ঢেউ খেয়েছি, ডুব দিয়েছি, ঘট ভরেছি, নিয়েছি বিদায়।
এই ভালো রে প্রাণের রঙ্গে এই আসঙ্গ সকল অঙ্গে মনে
পুণ্য ধরার ধুলো মাটি ফল হাওয়া জল তৃণ তরুর সনে।
এই ভালো রে ফুলের সঙ্গে আলোয় জাগা, গান গাওয়া এই ভাষায়--
তারার সাথে নিশীথ রাতে ঘুমিয়ে পড়া নূতন-প্রাতের আশায়।'
আরো দেখুন