পঞ্চমী (ponchomi)

                              ভাবি বসে বসে

                                    গত জীবনের কথা,

                              কাঁচা মনে ছিল

                                    কী বিষম মূঢ়তা।

                              শেষে ধিক্‌কারে বলি হাত নেড়ে,

                                    যাক গে সে কথা যাক গে।

           তরুণ বেলাতে যে খেলা খেলাতে

                 ভয় ছিল হারবার,

           তারি লাগি, প্রিয়ে, সংশয়ে মোরে

                 ফিরিয়েছ বার বার।

           কৃপণ কৃপার ভাঙা কণা একটুক

                 মনে দেয় নাই সুখ।

           সে যুগের শেষে আজ বলি হেসে,

                 কম কি সে কৌতুক

                     যতটুকু ছিল ভাগ্যে,

                         দুঃখের কথা থাক্‌ গে।

 

                              পঞ্চমী তিথি

                                    বনের আড়াল থেকে

                              দেখা দিয়েছিল

                                    ছায়া দিয়ে মুখ ঢেকে।

                              মহা আক্ষেপে বলেছি সেদিন,

                                    এ ছল কিসের জন্য।

           পরিতাপে জ্বলি আজ আমি বলি,

                 সিকি চাঁদিনীর আলো

           দেউলে নিশার অমাবস্যার

                 চেয়ে যে অনেক ভালো।

           বলি আরবার, এসো পঞ্চমী, এসো,

                 চাপা হাসিটুকু হেসো,

           আধখানি বেঁকে ছলনায় ঢেকে

                 না জানিয়ে ভালোবেসো।

                     দয়া, ফাঁকি নামে গণ্য,

                         আমারে করুক ধন্য।

 

                              আজ খুলিয়াছি

                                    পুরানো স্মৃতির ঝুলি,

                              দেখি নেড়েচেড়ে

                                    ভুলের দুঃখগুলি।

                              হায় হায় এ কী, যাহা কিছু দেখি

                                    সকলি যে পরিহাস্য।

           ভাগ্যের হাসি কৌতুক করি

                 সেদিন সে কোন্‌ ছলে

           আপনার ছবি দেখিতে চাহিল

                 আমার অশ্রুজলে।

           এসো ফিরে এসো সেই ঢাকা বাঁকা হাসি,

                 পালা শেষ করো আসি।

           মূঢ় বলিয়া করতালি দিয়া

                 যাও মোরে সম্ভাষি।

                     আজ করো তারি ভাষ্য

                         যা ছিল অবিশ্বাস্য।

 

                              বয়স গিয়েছে,

                                    হাসিবার ক্ষমতাটি

                              বিধাতা দিয়েছে,

                                    কুয়াশা গিয়েছে কাটি।

                              দুখদুর্দিন কালো বরনের

                                    মুখোশ করেছে ছিন্ন।

           দীর্ঘ পথের শেষ গিরিশিরে

                 উঠে গেছে আজ কবি।

           সেথা হতে তার ভূতভবিষ্য

                 সব দেখে যেন ছবি।

           ভয়ের মূর্তি যেন যাত্রার সঙ্‌,

                 মেখেছে কুশ্রী রঙ।

           দিনগুলি যেন পশুদলে চলে,

                 ঘণ্টা বাজায়ে গলে।

                     কেবল ভিন্ন ভিন্ন

                         সাদা কালো যত চিহ্ন।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

31
Verses
WHITE AND pink oleanders meet
and make merry in different dialects.
আরো দেখুন
প্রবাসী
Verses
          হে প্রবাসী,
         আমি কবি যে বাণীর প্রসাদ-প্রত্যাশী
                   অন্তরতমের ভাষা
              সে করে বহন। ভালোবাসা
         তারি পক্ষে ভর করি নাহি জানে দূর।
                   রক্তের নিঃশব্দ সুর
              সদা চলে নাড়ীতন্তু বেয়ে,
           সেই সুর যে ভাষার শব্দে আছে ছেয়ে
         বাণীর অতীতগামী তাহারি বাণীতে
          ভালোবাসা আপনার গূঢ় রূপ পারে যে জানিতে।
     হে বিষয়ী, হে সংসারী, তোমরা যাহারা
                   আত্মহারা,
         যারা ভালোবাসিবার বিশ্বপথ
    হারায়েছ, হারায়েছ আপন জগৎ,
         রয়েছে আত্মবিরহী গৃহকোণে,
              বিরহের ব্যথা নেই মনে।
     আমি কবি পাঠালেম তোমাদের উদ্ভ্রান্ত পরানে
সে ভাষার দৌত্য যাহা হারানো নিজেরে কাছে আনে,
         ভেদ করি মরুকারা
  শুষ্ক চিত্তে নিয়ে আসে বেদনার ধারা।
              বিস্মৃতি দিয়েছে তাহে ঘের
  আজন্মকালের যাহা নিত্যদান চিরসুন্দরের--
         তারে আজ লও ফিরে।
              লক্ষ্মীর মন্দিরে
        আমি আনিয়াছি নিমন্ত্রণ;
জানায়েছি, সেথাকার তোমার আসন
              অন্যমনে তুমি আছ ভুলি।
         জড় অভ্যাসের ধূলি
              আজি নববর্ষে পুণ্যক্ষণে
         যাক উড়ে তোমার নয়নে
দেখা দিক্‌--এ ভুবনে সর্বত্রই কাছে আসিবার
         তোমার আপন অধিকার।
              সুদূরের মিতা,
     মোর কাছে চেয়েছিলে নূতন কবিতা।
              এই লও বুঝে,
     নূতনের স্পর্শমন্ত্র এর ছন্দে পাও যদি খুঁজে।
আরো দেখুন
30
Verses
সৃষ্টির চলেছে খেলা
চারি দিক হতে শত ধারে
কালের অসীম শূন্য পূর্ণ করিবারে।
সম্মুখে যা কিছু ঢালে পিছনে তলায় বারে বারে;
নিরন্তর লাভ আর ক্ষতি,
তাহাতেই দেয় তারে গতি।
কবির ছন্দের খেলা সেও থাকি থাকি
নিশ্চিহ্ন কালের গায়ে ছবি আঁকা-আঁকি।
কাল যায়, শূন্য থাকে বাকি।
এই আঁকা-মোছা নিয়ে কাব্যের সচল মরীচিকা
ছেড়ে দেয় স্থান,
পরিবর্তমান
জীবনযাত্রার করে চলমান টীকা।
মানুষ আপন-আঁকা কালের সীমায়
সান্ত্বনা রচনা করে অসীমের মিথ্যা মহিমায়,
ভুলে যায় কত-না যুগের বাণীরূপ
ভূমিগর্ভে বহিতেছে নিঃশব্দের নিষ্ঠুর বিদ্রূপ।
আরো দেখুন