৩০ (srishtir cholechhe khela)

সৃষ্টির চলেছে খেলা

চারি দিক হতে শত ধারে

কালের অসীম শূন্য পূর্ণ করিবারে।

সম্মুখে যা কিছু ঢালে পিছনে তলায় বারে বারে;

নিরন্তর লাভ আর ক্ষতি,

তাহাতেই দেয় তারে গতি।

কবির ছন্দের খেলা সেও থাকি থাকি

নিশ্চিহ্ন কালের গায়ে ছবি আঁকা-আঁকি।

কাল যায়, শূন্য থাকে বাকি।

এই আঁকা-মোছা নিয়ে কাব্যের সচল মরীচিকা

ছেড়ে দেয় স্থান,

পরিবর্তমান

জীবনযাত্রার করে চলমান টীকা।

মানুষ আপন-আঁকা কালের সীমায়

সান্ত্বনা রচনা করে অসীমের মিথ্যা মহিমায়,

ভুলে যায় কত-না যুগের বাণীরূপ

ভূমিগর্ভে বহিতেছে নিঃশব্দের নিষ্ঠুর বিদ্রূপ।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

63
Verses
পতিত ভারতে তুমি কোন্‌ জাগরণে
জাগাইবে, হে মহেশ, কোন্‌ মহাক্ষণে,
সে মোর কল্পনাতীত। কী তাহার কাজ,
কী তাহার শক্তি, দেব, কী তাহার সাজ,
কোন্‌ পথ তার পথ, কোন্‌ মহিমায়
দাঁড়াবে সে সম্পদের শিখরসীমায়
তোমার মহিমাজ্যোতি করিতে প্রকাশ
নবীন প্রভাতে!
আজি নিশার আকাশ
যে আদর্শে রচিয়াছে আলোকের মালা,
সাজায়েছে আপনার অন্ধকার-থালা,
ধরিয়াছে ধরিত্রীর মাথার উপর,
সে আদর্শ প্রভাতের নহে মহেশ্বর!
জাগিয়া উঠিবে প্রাচী যে অরুণালোকে
সে কিরণ নাই আজি নিশীথের চোখে।
আরো দেখুন
কাঙালিনী
Verses
আনন্দময়ীর আগমনে,
       আনন্দে গিয়েছে দেশ ছেয়ে।
হেরো ওই ধনীর দুয়ারে
       দাঁড়াইয়া কাঙালিনী মেয়ে।
উৎসবের হাসি-কোলাহল
       শুনিতে পেয়েছে ভোরবেলা,
নিরানন্দ গৃহ তেয়াগিয়া
       তাই আজ বাহির হইয়া
আসিয়াছে ধনীর দুয়ারে
       দেখিবারে আনন্দের খেলা।
বাজিতেছে উৎসবের বাঁশি
       কানে তাই পশিতেছে আসি,
ম্লান চোখে তাই ভাসিতেছে
       দুরাশার সুখের স্বপন;
চারি,দিকে প্রভাতের আলো,
       নয়নে লেগেছে বড়ো ভালো,
আকাশেতে মেঘের মাঝারে
       শরতের কনক তপন।
কত কে যে আসে, কত যায়,
       কেহ হাসে, কেহ গান গায়,
কত বরনের বেশভূষা--
       ঝলকিছে কাঞ্চন-রতন,
কত পরিজন দাসদাসী,
       পুষ্প পাতা কত রাশি রাশি,
চোখের উপরে পড়িতেছে
       মরীচিকা-ছবির মতন।
হেরো তাই রহিয়াছে চেয়ে
       শূন্যমনা কাঙালিনী মেয়ে।
শুনেছে সে, মা এসেছে ঘরে,
     তাই বিশ্ব আনন্দে ভেসেছে,
মার মায়া পায় নি কখনো,
       মা কেমন দেখিতে এসেছে।
তাই বুঝি আঁখি ছলছল,
     বাষ্পে ঢাকা নয়নের তারা!
চেয়ে যেন মার মুখ পানে
বালিকা কাতর অভিমানে
       বলে, "মা গো এ কেমন ধারা।
এত বাঁশি, এত হাসিরাশি,
       এত তোর রতন-ভূষণ,
তুই যদি আমার জননী,
       মোর কেন মলিন বসন!"
ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েগুলি
ভাইবোন করি গলাগলি,
       অঙ্গনেতে নাচিতেছে ওই;
বালিকা দুয়ারে হাত দিয়ে,
তাদের হেরিছে দাঁড়াইয়ে,
ভাবিতেছে নিশ্বাস ফেলিয়ে--
       আমি তো ওদের কেহ নই।
স্নেহ ক'রে আমার জননী
       পরায়ে তো দেয় নি বসন,
প্রভাতে কোলেতে করে নিয়ে
       মুছায়ে তো দেয় নি নয়ন।
আপনার ভাই নেই বলে
       ওরে কি রে ডাকিবে না কেহ?
আর কারো জননী আসিয়া
       ওরে কি রে করিবে না স্নেহ?
ও কি শুধু দুয়ার ধরিয়া
       উৎসবের পানে রবে চেয়ে
       শূন্যমনা কাঙালিনী মেয়ে?
ওর প্রাণ আঁধার যখন
       করুণ শুনায় বড়ো বাঁশি,
দুয়ারেতে সজল নয়ন,
       এ বড়ো নিষ্ঠুর হাসিরাশি।
আজি এই উৎসবের দিনে
       কত লোক ফেলে অশ্রুধার,
গেহ নেই, স্নেহ নেই, আহা,
       সংসারেতে কেহ নেই তার।
শূন্য হাতে গৃহে যায় কেহ
       ছেলেরা ছুটিয়া আসে কাছে,
কী দিবে কিছুই নেই তার,
       চোখে শুধু অশ্রুজল আছে।
অনাথ ছেলেরে কোলে নিবি
       জননীরা আয় তোরা সব,
মাতৃহারা মা যদি না পায়
       তবে আজ কিসের উৎসব!
দ্বারে যদি থাকে দাঁড়াইয়া
       ম্লানমুখ বিষাদে বিরস,
তবে মিছে সহকার-শাখা
       তবে মিছে মঙ্গল-কলস।
আরো দেখুন
লজ্জিতা
Verses
ভৈরবী
যামিনী না যেতে জাগালে না কেন,
      বেলা হল মরি লাজে।
শরমে জড়িত চরণে কেমনে
      চলিব পথের মাঝে!
আলোকপরশে মরমে মরিয়া
হেরো গো শেফালি পড়িছে ঝরিয়া,
কোনোমতে আছে পরান ধরিয়া
      কামিনী শিথিল সাজে।
যামিনী না যেতে জাগালে না কেন,
      বেলা হল মরি লাজে।
নিবিয়া বাঁচিল নিশার প্রদীপ
      উষার বাতাস লাগি।
রজনীর শশী গগনের কোণে
      লুকায় শরণ মাগি।
পাখি ডাকি বলে "গেল বিভাবরী,
বধূ চলে জলে লইয়া গাগরি,
আমি এ আকুল কবরী আবরি
       কেমনে যাইব কাজে!
যামিনী না যেতে জাগালে না কেন,
      বেলা হল মরি লাজে।
আরো দেখুন