৩১ (ajikar oronyosobhare)

আজিকার অরণ্যসভারে

অপবাদ দাও বারে বারে;

বল যবে দৃঢ় কণ্ঠে অহংকৃত আপ্তবাক্যবৎ

প্রকৃতির অভিপ্রায়, "নব ভবিষ্যৎ

করিবে বিরল রসে শুষ্কতার গান'--

বনলক্ষ্মী করিবে না অভিমান।

এ কথা সবাই জানে--

যে সংগীতরসপানে

প্রভাতে প্রভাতে

আনন্দে আলোকসভা মাতে

সে যে হেয়,

সে যে অশ্রদ্ধেয়,

প্রমাণ করিতে তাহা আরো বহু দীর্ঘকাল যাবে

এই এক ভাবে।

বনের পাখিরা ততদিন

সংশয়বিহীন

চিরন্তন বসন্তের স্তবে

আকাশ করিবে পূর্ণ

আপনার আনন্দিত রবে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

136
Verses
IT is EASY TO make faces at the sun,
He is exposed by his own light in all directions.
আরো দেখুন
অভিসার
Verses
বোধিসত্তাবদান-কল্পলতা
          সন্ন্যাসী উপগুপ্ত
মথুরাপুরীর প্রাচীরের তলে
          একদা ছিলেন সুপ্ত--
নগরীর দীপ নিবেছে পবনে,
দুয়ার রুদ্ধ পৌর ভবনে,
নিশীথের তারা শ্রাবণগগনে
          ঘন মেঘে অবলুপ্ত।
কাহার নূপুরশিঞ্জিত পদ
          সহসা বাজিল বক্ষে!
সন্ন্যাসীবর চমকি জাগিল,
স্বপ্নজড়িমা পলকে ভাগিল,
রূঢ় দীপের আলোক লাগিল
          ক্ষমাসুন্দর চক্ষে।
নগরীর নটী চলে অভিসারে
          যৌবনমদে মত্তা।
অঙ্গ আঁচল সুনীল বরন,
রুনুঝুনু রবে বাজে আভরণ--
সন্ন্যাসী-গায়ে পড়িতে চরণ
          থামিল বাসবদত্তা।
প্রদীপ ধরিয়া হেরিল তাঁহার
          নবীন গৌরকান্তি--
সৌম্য সহাস তরুণ বয়ান,
করুণাকিরণে বিকচ নয়ান,
শুভ্র ললাটে ইন্দুসমান
          ভাতিছে স্নিগ্ধ শান্তি।
কহিল রমণী ললিত কণ্ঠে,
          নয়নে জড়িত লজ্জা,
ক্ষমা করো মোরে কুমার কিশোর,
দয়া করো যদি গৃহে চলো মোর,
এ ধরণীতল কঠিন কঠোর
          এ নহে তোমার শয্যা।'
সন্ন্যাসী কহে করুণ বচনে,
          "অয়ি লাবণ্যপুঞ্জ,
এখনো আমার সময় হয় নি,
যেথায় চলেছ যাও তুমি ধনী,
সময় যেদিন আসিবে আপনি
          যাইব তোমার কুঞ্জ,'
সহসা ঝঞ্ঝা তড়িৎশিখায়
          মেলিল বিপুল আস্য।
রমণী কাঁপিয়া উঠিল তরাসে,
প্রলয়শঙ্খ বাজিল বাতাসে,
আকাশে বজ্র ঘোর পরিহাসে
          হাসিল অট্টহাস্য।
                 ...   
বর্ষ তখনো হয় নাই শেষ,
          এসেছে চৈত্রসন্ধ্যা।
বাতাস হয়েছে উতলা আকুল,
পথতরুশাখে ধরেছে মুকুল,
রাজার কাননে ফুটেছে বকুল
          পারুল রজনীগন্ধা।
অতি দূর হতে আসিছে পবনে
          বাঁশির মদির মন্দ্র।
জনহীন পুরী, পুরবাসী সবে
গেছে মধুবনে ফুল-উৎসবে--
শূন্য নগরী নিরখি নীরবে
          হাসিছে পূর্ণচন্দ্র।
নির্জন পথে জ্যোৎস্না-আলোতে
          সন্ন্যাসী একা যাত্রী।
মাথার উপরে তরুবীথিকার
কোকিল কুহরি উঠে বারবার,
এতদিন পরে এসেছে কি তাঁর
          আজি অভিসাররাত্রি?
নগর ছাড়ায়ে গেলেন দণ্ডী
          বাহিরপ্রাচীরপ্রান্তে।
দাঁড়ালেন আসি পরিখার পারে--
আম্রবনের ছায়ার আঁধারে
কে ওই রমণী প'ড়ে এক ধারে
          তাঁহার চরণোপ্রান্তে!
নিদারুণ রোগে মারীগুটিকায়
          ভরে গেছে তার অঙ্গ--
রোগমসীঢালা কালী তনু তার
লয়ে প্রজাগণে পুরপরিখার
বাহিরে ফেলেছে, করি' পরিহার
          বিষাক্ত তার সঙ্গ।
সন্ন্যাসী বসি আড়ষ্ট শির
          তুলি নিল নিজ অঙ্কে--
ঢালি দিল জল শুষ্ক অধরে,
মন্ত্র পড়িয়া দিল শির-'পরে,
লেপি দিল দেহ আপনার করে
          শীতচন্দনপঙ্কে।
ঝরিছে মুকুল, কূজিছে কোকিল,
          যামিনী জোছনামত্তা।
"কে এসেছ তুমি ওগো দয়াময়'
শুধাইল নারী, সন্ন্যাসী কয়--
"আজি রজনীতে হয়েছে সময়,
          এসেছি বাসবদত্তা!'
আরো দেখুন
নামকরণ
Verses
                 একদিন মুখে এল নূতন এ নাম--
           চৈতালিপূর্ণিমা ব'লে কেন যে তোমারে ডাকিলাম
                       সে কথা শুধাও যবে মোরে
                                  স্পষ্ট ক'রে
                            তোমারে বুঝাই
                       হেন সাধ্য নাই।
           রসনায় রসিয়েছে, আর কোনো মানে
                       কী আছে কে জানে।
                 জীবনের যে সীমায়
                       এসেছ গম্ভীর মহিমায়
                            সেথা অপ্রমত্ত তুমি,
                 পেরিয়েছ ফাল্গুনের ভাঙাভাণ্ড উচ্ছিষ্টের ভুমি,
           পৌঁছিয়াছ তপঃশুচি নিরাসক্ত বৈশাখের পাশে,
                       এ কথাই বুঝি মনে আসে
                            না ভাবিয়া আগুপিছু।
           কিংবা এ ধ্বনির মাঝে অজ্ঞাত কুহক আছে কিছু।
                       হয়তো মুকুল-ঝরা মাসে
           পরিণতফলনম্র অপ্রগল্‌ভ যে মর্যাদা আসে
                            আম্রডালে,
                       দেখেছি তোমার ভালে
                 সে পূর্ণতা স্তব্ধতামন্থর--
           তার মৌন-মাঝে বাজে অরণ্যের চরম মর্মর।
           অবসন্ন বসন্তের অবশিষ্ট অন্তিম চাঁপায়
                       মৌমাছির ডানারে কাঁপায়
                            নিকুঞ্জের ম্লান মৃদু ঘ্রাণে,
           সেই ঘ্রাণ একদিন পাঠায়েছ প্রাণে,
                 তাই মোর উৎকণ্ঠিত বাণী
                       জাগায়ে দিয়েছে নামখানি।
                 সেই নাম থেকে থেকে ফিরে ফিরে
                       তোমারে গুঞ্জন করি ঘিরে
                            চারি দিকে,
           ধ্বনিলিপি দিয়ে তার বিদায়স্বাক্ষর দেয় লিখে।
                 তুমি যেন রজনীর জ্যোতিষ্কের শেষ পরিচয়
                       শুকতারা, তোমার উদয়
                            অস্তের খেয়ায় চ'ড়ে আসা,
                       মিলনের সাথে বহি বিদায়ের ভাষা।
                                  তাই বসে একা
                       প্রথম দেখার ছন্দে ভরি লই সব-শেষ দেখা।
                                  সেই দেখা মম
                                        পরিস্ফুটতম।
                 বসন্তের শেষমাসে শেষ শুক্লতিথি
                            তুমি এলে তাহার অতিথি,
                 উজাড় করিয়া শেষ দানে
           ভাবের দাক্ষিণ্য মোর অন্ত নাহি জানে।
                 ফাল্গুনের অতিতৃপ্তি ক্লান্ত হয়ে যায়,
                       চৈত্রে সে বিরলরসে নিবিড়তা পায়,
                 চৈত্রের সে ঘন দিন তোমার লাবণ্যে মূর্তি ধরে;
           মিলে যায় সারঙের বৈরাগ্যরাগের শান্তস্বরে,
                 প্রৌঢ় যৌবনের পূর্ণ পর্যাপ্ত মহিমা
                       লাভ করে গৌরবের সীমা।
           হয়তো এ-সব ব্যাখ্যা স্বপ্ন-অন্তে চিন্তা ক'রে বলা,
                 দাম্ভিক বুদ্ধিরে শুধু ছলা--
                       বুঝি এর কোনো অর্থ নাইকো কিছুই।
           জ্যৈষ্ঠ-অবসানদিনে আকস্মিক জুঁই
                       যেমন চমকি জেগে উঠে
                 সেইমতো অকারণে উঠেছিল ফুটে,
                       সেই চিত্রে পড়েছিল তার লেখা
           বাক্যের তুলিকা যেথা স্পর্শ করে অব্যক্তের রেখা।
                       পুরুষ যে রূপকার,
           আপনার সৃষ্টি দিয়ে নিজেরে উদ্‌ভ্রান্ত করিবার
                            অপূর্ব উপকরণ
                 বিশ্বের রহস্যলোকে করে অন্বেষণ।
                       সেই রহস্যই নারী--
           নাম দিয়ে ভাব দিয়ে মনগড়া মূর্তি রচে তারি;
                 যাহা পায় তার সাথে যাহা নাহি পায়
                            তাহারে মিলায়।
                 উপমা তুলনা যত ভিড় করে আসে
                            ছন্দের কেন্দ্রের চারি পাশে,
                 কুমোরের ঘুরখাওয়া চাকার সংবেগে
           যেমন বিচিত্র রূপ উঠে জেগে জেগে।
                 বসন্তে নাগকেশরের সুগন্ধে মাতাল
           বিশ্বের জাদুর মঞ্চে রচে সে আপন ইন্দ্রজাল।
                 বনতলে মর্মরিয়া কাঁপে সোনাঝুরি;
           চাঁদের আলোর পথে খেলা করে ছায়ার চাতুরী;
                       গভীর চৈতন্যলোকে
           রাঙা নিমন্ত্রণলিপি দেয় লিখি কিংশুকে অশোকে;
                 হাওয়ায় বুলায় দেহে অনামীর অদৃশ্য উত্তরী,
                       শিরায় সেতার উঠে গুঞ্জরি গুঞ্জরি।
           এই যারে মায়ারথে পুরুষের চিত্ত ডেকে আনে
                 সে কি নিজে সত্য করে জানে
                            সত্য মিথ্যা আপনার,
           কোথা হতে আসে মন্ত্র এই সাধনার।
                       রক্তস্রোত-আন্দোলনে জেগে
                 ধ্বনি উচ্ছ্বসিয়া উঠে অর্থহীন বেগে;
           প্রচ্ছন্ন নিকুঞ্জ হতে অকস্মাৎ ঝঞ্ঝায় আহত
                       ছিন্ন মঞ্জরীর মতো
                 নাম এল ঘূর্ণিবায়ে ঘুরি ঘুরি,
           চাঁপার গন্ধের সাথে অন্তরেতে ছড়াল মাধুরী।
আরো দেখুন