প্রবাসী (probasi)

          হে প্রবাসী,

         আমি কবি যে বাণীর প্রসাদ-প্রত্যাশী

                   অন্তরতমের ভাষা

              সে করে বহন। ভালোবাসা

         তারি পক্ষে ভর করি নাহি জানে দূর।

                   রক্তের নিঃশব্দ সুর

              সদা চলে নাড়ীতন্তু বেয়ে,

           সেই সুর যে ভাষার শব্দে আছে ছেয়ে

         বাণীর অতীতগামী তাহারি বাণীতে

          ভালোবাসা আপনার গূঢ় রূপ পারে যে জানিতে।

     হে বিষয়ী, হে সংসারী, তোমরা যাহারা

                   আত্মহারা,

         যারা ভালোবাসিবার বিশ্বপথ

    হারায়েছ, হারায়েছ আপন জগৎ,

         রয়েছে আত্মবিরহী গৃহকোণে,

              বিরহের ব্যথা নেই মনে।

     আমি কবি পাঠালেম তোমাদের উদ্ভ্রান্ত পরানে

সে ভাষার দৌত্য যাহা হারানো নিজেরে কাছে আনে,

         ভেদ করি মরুকারা

  শুষ্ক চিত্তে নিয়ে আসে বেদনার ধারা।

              বিস্মৃতি দিয়েছে তাহে ঘের

  আজন্মকালের যাহা নিত্যদান চিরসুন্দরের--

         তারে আজ লও ফিরে।

              লক্ষ্মীর মন্দিরে

        আমি আনিয়াছি নিমন্ত্রণ;

জানায়েছি, সেথাকার তোমার আসন

              অন্যমনে তুমি আছ ভুলি।

         জড় অভ্যাসের ধূলি

              আজি নববর্ষে পুণ্যক্ষণে

         যাক উড়ে তোমার নয়নে

দেখা দিক্‌--এ ভুবনে সর্বত্রই কাছে আসিবার

         তোমার আপন অধিকার।

              সুদূরের মিতা,

     মোর কাছে চেয়েছিলে নূতন কবিতা।

              এই লও বুঝে,

     নূতনের স্পর্শমন্ত্র এর ছন্দে পাও যদি খুঁজে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

দুঃখসম্পদ
Verses
দুঃখ, তব যন্ত্রণায় যে দুর্দিনে চিত্ত উঠে ভরি
       দেহে মনে চতুর্দিকে তোমার প্রহরী
রোধ করে বাহিরের সান্ত্বনার দ্বার,
          সেইক্ষণে প্রাণ আপনার
নিগূঢ় ভাণ্ডার হতে গভীর সান্ত্বনা
বাহির করিয়া আনে; অমৃতের কণা
       গলে আসে অশ্রুজলে;
সে আনন্দ দেখা দেয় অন্তরের তলে
       যে আপন পরিপূর্ণতায়
আপন করিয়া লয় দুঃখবেদনায়।
       তখন সে মহা-অন্ধকারে
অনির্বাণ আলোকের পাই দেখা অন্তরমাঝারে।
       তখন বুঝিতে পারি আপনার মাঝে
আপন অমরাবতী চিরদিন গোপনে বিরাজে।
আরো দেখুন
16
Verses
          বিশ্বের বিপুল বস্তুরাশি
              উঠে অট্টহাসি;
               ধুলা বালি
              দিয়ে করতালি
              নিত্য নিত্য
                     করে নৃত্য
             দিকে দিকে দলে দলে;
     আকাশে শিশুর মতো অবিরত কোলাহলে।
        মানুষের লক্ষ লক্ষ অলক্ষ্য ভাবনা,
              অসংখ্য কামনা,
     রূপে মত্ত বস্তুর আহ্বানে উঠে মাতি
          তাদের খেলায় হতে সাথি।
              স্বপ্ন যত অব্যক্ত আকুল
                     খুঁজে মরে কূল;
          অস্পষ্টের অতল প্রবাহে পড়ি
     চায় এরা প্রাণপণে ধরণীরে ধরিতে আঁকড়ি
              কাষ্ঠ-লোষ্ট্র-সুদৃঢ় মুষ্টিতে,
              ক্ষণকাল মাটিতে তিষ্ঠিতে।
          চিত্তের কঠিন চেষ্টা বস্তুরূপে
                            স্তূপে স্তূপে
                       উঠিতেছে ভরি--
                       সেই তো নগরী।
              এ তো শুধু নহে ঘর,
              নহে শুধু ইষ্টক প্রস্তর।
          অতীতের গৃহছাড়া কত যে অশ্রুত বাণী
              শূন্যে শূন্যে করে কানাকানি;
                      খোঁজে তারা আমার বাণীরে
                            লোকালয়-তীরে-তীরে।
          আলোকতীর্থের পথে আলোহীন সেই যাত্রীদল
                            চলিয়াছে অশ্রান্ত চঞ্চল।
                      তাদের নীরব কোলাহলে
              অস্ফুট ভাবনা যত দলে দলে ছুটে চলে
                       মোর চিত্তগুহা ছাড়ি,
                            দেয় পাড়ি
              অদৃশ্যের অন্ধ মরু ব্যগ্র ঊর্ধ্বশ্বাসে
                     আকারের অসহ্য পিয়াসে।
                     কী জানি কে তারা কবে
                            কোথা পার হবে
                                 যুগান্তরে,
                             দূর সৃষ্টি-'পরে
                    পাবে আপনার রূপ অপূর্ব আলোতে।
                          আজ তারা কোথা হতে
                            মেলেছিল ডানা
                          সেদিন তা রহিবে অজানা।
              অকস্মাৎ পাবে তারে কোন্‌ কবি,
                     বাঁধিবে তাহারে কোন্‌ ছবি
              গাঁথিবে তাহারে কোন্‌ হর্ম্যচূড়ে,
                      সেই রাজপুরে
              আজি যার কোনো দেশে কোনো চিহ্ন নাই।
                       তার তরে কোথা রচে ঠাঁই
                            অরচিত দূর যজ্ঞভূমে।
                                    কামানের ধূমে
                            কোন্‌ ভাবী ভীষণ সংগ্রাম
              রণশৃঙ্গে আহ্বান করিছে তার নাম!
আরো দেখুন
63
Verses
GOD SAW to man, 'I heal you therefore I hurt, love you therefore punish.'
আরো দেখুন