সংযোজন - ৮ (birohobotsor pore miloner bina)

বিরহবৎসর-পরে মিলনের বীণা

তেমন উন্মাদ-মন্দ্রে কেন বাজিলি না।

কেন তোর সপ্তস্বর সপ্তস্বর্গপানে

ছুটিয়া গেল না ঊর্ধ্বে উদ্দাম-পরানে

বসন্তে-মানস-যাত্রী বলাকার মতো।

কেন তোর সর্ব তন্ত্র সবলে প্রহত

মিলিত ঝংকার-ভরে কাঁপিয়া কাঁদিয়া

আনন্দের আর্তরবে চিত্ত উন্মাদিয়া

উঠিল না বাজি। হতাশ্বাস মৃদুস্বরে

গুঞ্জরিয়া গুঞ্জরিয়া লাজে শঙ্কাভরে

কেন মৌন হল। তবে কি আমারি প্রিয়া

সে পরশ-নিপুণতা গিয়াছে ভুলিয়া।

তবে কি আমারি বীণা ধূলিচ্ছন্ন-তার

সেদিনের মতো ক'রে বাজে নাকো আর।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

অসমাপ্ত
Verses
বোলো তারে, বোলো,
এতদিনে তারে দেখা হল।
       তখন বর্ষণশেষে
       ছুঁয়েছিল রৌদ্র এসে
উন্মীলিত গুল্‌মোরের থোলো।
বনের মন্দির-মাঝে
       তরুর তম্বুরা বাজে,
অনন্তের উঠি স্তবগান,
       চক্ষে জল বহে যায়,
       নম্র হল বন্দনায়
আমার বিস্মিত মনপ্রাণ।
       দেবতার বর
কত জন্ম কত জন্মান্তর
       অব্যক্ত ভাগ্যের রাতে
       লিখেছে আকাশ-পাতে
এ দেখার আশ্বাস-অক্ষর।
       অস্তিত্বের পারে পারে
       এ দেখার বারতারে
বহিয়াছি রক্তের প্রবাহে।
       দূর শূন্যে দৃষ্টি রাখি
       আমার উন্মনা আঁখি
এ দেখার গূঢ় গান গাহে।
       বোলো আজি তারে,
"চিনিলাম তোমারে আমারে।
       হে অতিথি, চুপে চুপে
       বারম্বার ছায়ারূপে
এসেছ কম্পিত মোর দ্বারে।
       কত রাত্রে চৈত্রমাসে,
       প্রচ্ছন্ন পুষ্পের বাসে
কাছে-আসা নিশ্বাস তোমার
       স্পন্দিত করেছে জানি
       আমার গুণ্ঠনখানি,
কাঁদায়েছে সেতারের তার।'
বোলো তারে আজ--
"অন্তরে পেয়েছি বড়ো লাজ।
     কিছু হয় নাই বলা,
     বেধে গিয়েছিল গলা,
ছিল না দিনের যোগ্য সাজ।
     আমার বক্ষের কাছে
     পূর্ণিমা লুকানো আছে,
সেদিন দেখেছ শুধু অমা।
     দিনে দিনে অর্ঘ্য মম
     পূর্ণ হবে, প্রিয়তম,
আজি মোর দৈন্য কোরো ক্ষমা।'
আরো দেখুন
1
Verses
সুবলদাদা আনল টেনে আদমদিঘির পাড়ে,
লাল বাঁদরের নাচন সেথায় রামছাগলের ঘাড়ে।
বাঁদরওয়ালা বাঁদরটাকে খাওয়ায় শালিধান্য,
রামছাগলের গম্ভীরতা কেউ করে না মান্য।
দাড়িটা তার নড়ে কেবল, বাজে রে ডুগডুগি।
কাৎলা মারে লেজের ঝাপট, জল ওঠে বুগবুগি।
রামছাগলের ভারি গলায় ভ্যাভ্যা রবের ডাকে
সুড়সুড়ি দেয় থেকে থেকে চৌকিদারের নাকে।
হাঁচির পরে বারে বারে যতই হাঁচি ছাড়ে
বাতাসেতে ঘন ঘন কোদাল যেন পাড়ে।
হাঁচির পরে সারি সারি হাঁচি নামার চোটে
তেঁতুলবনে ঝড়ের দমক যেন মাথা কোটে,
গাছের থেকে ইঁচড়গুলো খসে খসে পড়ে,
তালের পাতা ডাইনে বাঁয়ে পাখার মতো নড়ে।
দত্তবাড়ির ঘাটের কাছে যেমনি হাঁচি পড়া,
আঁৎকে উঠে কাঁখের থেকে বউ ফেলে দেয় ঘড়া।
কাকেরা হয় হতবুদ্ধি, বকের ভাঙে ধ্যান,
এজলাসেতে চমকে ওঠেন হরিমোহন সেন।
টেবিলেতে তুফান ওঠে চা-পেয়ালার তলে,
বিষম লেগে শৌখিনদের চোখ ভেসে যায় জলে।
বিদ্যালয়ের মঞ্চ-'পরে টাক-পড়া শির টলে--
পিঠ পেতে দেয়, চ'ড়ে বসে টেরিকাটার দলে।
গুঁতো মেরে চালায় তারে, সেলাম করে আদায়,
একটু এদিক-ওদিক হলে বিষম দাঙ্গা বাধায়।
লোকে বলে, কলঙ্কদল সূর্যলোকের আলো
দখল ক'রে জ্যোতির্লোকের নাম করেছে কালো।
তাই তো সবই উলট-পালট, উপর-নামন নীচে--
ভয়ে ভয়ে নিচু মাথায় সমুখটা যায় পিছে।
হাঁচির ধাক্কা এতখানি, এটা গুজব মিথ্যে--
এই নিয়ে সব কলেজপড়া বিজ্ঞানীদের চিত্তে
অল্প কিছু লাগল ধোঁকা; রাগল অপর পক্ষে--
বললে, পড়াশুনোয় কেবল ধুলো লাগায় চক্ষে,
অন্য দেশে অসম্ভব যা পুণ্য ভারতবর্ষে
সম্ভব নয় বলিস যদি প্রায়শ্চিত্ত কর্‌ সে।
এর পরে দুই দলে মিলে ইঁট পাটকেল ছোঁড়া--
চক্ষে দেখায় সর্ষের ফুল, কেউ বা হল খোঁড়া।
পুণ্য ভারতবর্ষে ওঠে বীরপুরষের বড়াই,
সমুদ্দুরের এ পারেতে একেই বলে লড়াই।
সিন্ধুপারে মৃত্যুনাটে চলছে নাচানাচি,
বাংলাদেশের তেঁতুলবনে চৌকিদারের হাঁচি।
সত্য হোক বা মিথ্যে হোক তা, আদমদিঘির পাড়ে
বাঁদর চড়ে বসে আছে রামছাগলের ঘাড়ে।
রামছাগলের দাড়ি নড়ে, বাজে রে ডুগডুগি--
কাৎলা মারে লেজের ঝাপট, জল ওঠে বুগবুগি।
আরো দেখুন
17
Verses
I BROUGHT out my earthen lamp from my house and cried, 'Come, children, I will light your path!'
The night was still dark when I returned, leaving the road to its silence; crying, 'Light me, 0 Fire! for my earthen lamp lies broken in the dust!'
আরো দেখুন