অসমাপ্ত (osomapto)

বোলো তারে, বোলো,

এতদিনে তারে দেখা হল।

       তখন বর্ষণশেষে

       ছুঁয়েছিল রৌদ্র এসে

উন্মীলিত গুল্‌মোরের থোলো।

বনের মন্দির-মাঝে

       তরুর তম্বুরা বাজে,

অনন্তের উঠি স্তবগান,

       চক্ষে জল বহে যায়,

       নম্র হল বন্দনায়

আমার বিস্মিত মনপ্রাণ।

       দেবতার বর

কত জন্ম কত জন্মান্তর

       অব্যক্ত ভাগ্যের রাতে

       লিখেছে আকাশ-পাতে

এ দেখার আশ্বাস-অক্ষর।

       অস্তিত্বের পারে পারে

       এ দেখার বারতারে

বহিয়াছি রক্তের প্রবাহে।

       দূর শূন্যে দৃষ্টি রাখি

       আমার উন্মনা আঁখি

এ দেখার গূঢ় গান গাহে।

       বোলো আজি তারে,

"চিনিলাম তোমারে আমারে।

       হে অতিথি, চুপে চুপে

       বারম্বার ছায়ারূপে

এসেছ কম্পিত মোর দ্বারে।

       কত রাত্রে চৈত্রমাসে,

       প্রচ্ছন্ন পুষ্পের বাসে

কাছে-আসা নিশ্বাস তোমার

       স্পন্দিত করেছে জানি

       আমার গুণ্ঠনখানি,

কাঁদায়েছে সেতারের তার।'

বোলো তারে আজ--

"অন্তরে পেয়েছি বড়ো লাজ।

     কিছু হয় নাই বলা,

     বেধে গিয়েছিল গলা,

ছিল না দিনের যোগ্য সাজ।

     আমার বক্ষের কাছে

     পূর্ণিমা লুকানো আছে,

সেদিন দেখেছ শুধু অমা।

     দিনে দিনে অর্ঘ্য মম

     পূর্ণ হবে, প্রিয়তম,

আজি মোর দৈন্য কোরো ক্ষমা।'

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

79
Verses
বাণী আমার পাগল হাওয়ার
          ঘূর্ণি ধূলিতে
প্রাণের দোলে এলোমেলো
          রয় গো দুলিতে।
মৃত্যুলোকের অগাধ নদী
পার হয়ে সে ফেরে যদি
উল্টো স্রোতের সে দান ডালায়
          পারবে তুলিতে।
আরো দেখুন
মাতাল
Verses
বুঝি রে,
     চাঁদের কিরণ পান ক'রে ওর ঢুলু ঢুলু দুটি আঁখি,
              কাছে ওর যেয়ো না,
              কথাটি শুধায়ো না,
     ফুলের গন্ধে মাতাল হয়ে বসে আছে একাকী।
ঘুমের মতো মেয়েগুলি
      চোখের কাছে দুলি দুলি
বেড়ায় শুধু নূপুর রনরনি।
      আধেক মুদি আঁখির পাতা,
      কার সাথে যে কচ্ছে কথা,
শুনছে কাহার মৃদু মধুর ধ্বনি।
      অতি সুদূর পরীর দেশে--
      সেখান থেকে বাতাস এসে
কানের কাছে কাহিনী শুনায়।
      কত কী যে মোহের মায়া,
      কত কী যে আলোক ছায়া,
প্রাণের কাছে স্বপন ঘনায়।
      কাছে ওর যেয়ো না,
      কথাটি শুধায়ো না,
ঘুমের মেয়ে তরাস পেয়ে যাবে,
      মৃদু প্রাণে প্রমাদ গণি
     নূপুরগুলি রনরনি
চাঁদের আলোয় কোথায় কে লুকাবে।
      চলো দূরে নদীর তীরে,
      বসে সেথায় ধীরে ধীরে
একটি শুধু বাঁশরি বাজাও।
      আকাশেতে হাসবে বিধু,
      মধুকন্ঠে মৃদু মৃদু
একটি শুধু সুখেরই গান গাও।
      দূর হতে আসিয়া কানে
      পশিবে সে প্রাণের প্রাণে
স্বপনেতে স্বপন ঢালিয়ে।
ছায়াময়ী মেয়েগুলি
    গানের স্রোতে দুলি দুলি,
বসে রবে গালে হাত দিয়ে।
    গাহিতে গাহিতে তুমি বালা
    গেঁথে রাখো মালতীর মালা।
ও যখন ঘুমাইবে, গলায় পরায়ে দিবে
    স্বপনে মিশিবে ফুলবাস।
ঘুমন্ত মুখের 'পরে চেয়ে থেকো প্রেমভরে
    মুখেতে ফুটিবে মৃদু হাস।
আরো দেখুন
নাম্নী - জয়তী
Verses
যেন তার চক্ষু-মাঝে
     উদ্যত বিরাজে
     মহেশের তপোবনে নন্দীর তর্জনী।
          ইন্দ্রের অশনি
            মৌনে তার ঢাকা;
          প্রাণ তার অরুণের পাখা
     মেলিল দিনের বক্ষে তীব্র অতৃপ্তিতে
          দুঃসহ দীপ্তিতে।
     সাধক দাঁড়ায় তার কাছে,
সহসা সংশয় লাগে যোগ্যতা কি আছে;
          দুঃসাধ্যসাধন-তরে
              পথ খুঁজে মরে।
তুচ্ছতারে দাহে তার অবজ্ঞাদহন;
              এনেছে সে করিয়া বহন
          ইন্দ্রাণীর গাঁথা মাল্য; দিবে কণ্ঠে তার
              কার্মুকে যে দিয়েছে টংকার,
কাপট্যেরে হানিয়াছে, সত্যে যার ঋণী বসুমতী--
              নাম কি জয়তী।
আরো দেখুন