মাধবী যায় যবে চলিয়া বাতাসে শেষ কথা বলিয়া, কেহ না পারে তারে ধরিতে। দাহন দানবের আকারে যখন হানে বনশাখারে দাগিয়া পীতরেখা হরিতে, নিঠুর তপনের তাপনে যখন পবনের কাঁপনে বকুল ঝরি পড়ে ত্বরিতে, তখন বলো কোন্ সাহসে কে ভোলে আকাশের দাহ সে, কে ছোটে বাঁচিতে কি মরিতে? কে চলে বাধাহীন চরণে নবীন রসে রূপে বরনে তাপিত ভুবনেরে বরিতে? মুকুল সুকুমার সে যে গো, মাধুরীরসে দেহ মেজে গো বনের কোল আসে ভরিতে।
বাঁশবাগানের গলি দিয়ে মাঠে চলতেছিলেম হাটে। তুমি তখন আনতেছিলে জল, পড়ল আমার ঝুড়ির থেকে একটি রাঙা ফল। হঠাৎ তোমার পায়ের কাছে গড়িয়ে গেল ভুলে, নিই নি ফিরে তুলে। দিনের শেষে দিঘির ঘাটে তুলতে এলে জল, অন্ধকারে কুড়িয়ে তখন নিলে কি সেই ফল। এই প্রশ্নই গানে গেঁথে একলা বসে গাই, বলার কথা আর কিছু মোর নাই।