তন্নষ্টং যন্ন দীয়তে (tonnoshtong jonno diyate)

গন্ধ চলে যায়, হায়, বন্ধ নাহি থাকে,

ফুল তারে মাথা নাড়ি ফিরে ফিরে ডাকে।

বায়ু বলে, যাহা গেল সেই গন্ধ তব,

যেটুকু না দিবে তারে গন্ধ নাহি কব।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

মানসী
Verses
আজি আষাঢ়ের মেঘলা আকাশে
        মনখানা উড়ো পক্ষী
বাদলা হাওয়ায় দিকে দিকে ধায়
        অজানার পানে লক্ষ্যি।
যাহা-খুশি বলি স্বগত কাকলি,
        লিখিবারে চাহি পত্র,
গোপন মনের শিল্পসূত্রে
        বুনানো দু-চারি ছত্র।
সঙ্গীবিহীন নিরালায় করি
        জানা-অজানার সন্ধি,
গর্‌ঠিকানিয়া বন্ধু কে আছ
        করিব বাণীর বন্দী।
না জানি তোমার নামধাম আমি,
        না জানি তোমার তথ্য।
কিবা আসে যায় যে হও সে হও
         মিথ্যা অথবা সত্য।
নিভৃতে তোমারি সাথে আনাগোনা
        হে মোর অচিন মিত্র,
প্রলাপী মনেতে আঁকা পড়ে তব
        কত অদ্ভুত চিত্র।
যে নেয় নি মেনে মর্ত শরীরে
        বাঁধন পাঞ্চভৌত্যে
তার সাথে মন করেছি বদল
        স্বপ্নমায়ার দৌত্যে।
ঘুমের ঘোরেতে পেয়েছি তাহার
        রুক্ষ চুলের গন্ধ।
আধেক রাত্রে শুনি যেন তার--
        দ্বার-খোলা, দ্বার-বন্ধ।
নীপবন হতে সৌরভে আনে
        ভাষাবিহীনার ভাষ্য।
জোনাকি আঁধারে ছড়াছড়ি করে
        মণিহার-ছেঁড়া-হাস্য।
সঘন নিশীথে গর্জিছে দেয়া,
        রিমিঝিমি বারি বর্ষে--
মনে মনে ভাবি, কোন্‌ পালঙ্কে
        কে নিদ্রা দেয় হর্ষে।
গিরির শিখরে ডাকিছে ময়ূর
        কবিকাব্যের রঙ্গে--
স্বপ্নপুলকে কে জাগে চমকি
        বিগলিতচীর-অঙ্গে।
বাস্তব মোরে বঞ্চনা করে
       পালায় চকিত নৃত্যে--
তারি ছায়া যবে রূপ ধরি আসে
        বাঁধা পড়ি যায় চিত্তে।
তারার আলোকে ভরে সেই সাকী
        মদিরোচ্ছল পাত্র,
নিবিড় রাতের মুগ্ধ মিলনে
        নাই বিচ্ছেদ মাত্র।
ওগো মায়াময়ী, আজি বরষায়
        জাগালে আমার ছন্দ--
যাহা-খুশি সুরে বাজিছে সেতার,
        নাহি মানে কোনো বন্ধ।
আরো দেখুন
নিঃস্ব
Verses
কী আশা নিয়ে এসেছ হেথা উৎসবের দল।
          অশোকতরুতল
     অতিথি লাগি রাখে নি আয়োজন।
          হায় সে নির্ধন
     শুকানো গাছে আকাশে শাখা তুলি
          কাঙালসম মেলেছে অঙ্গুলি;
     সুরসভার অপ্সরার চরণঘাত মাগি
          রয়েছে বৃথা জাগি।
আরেকদিন এসেছ যবে সেদিন ফুলে ফুলে
     যৌবনের তুফান দিল তুলে।
          দখিনবায়ে তরুণ ফাল্গুনে
     শ্যামল বনবল্লভের পায়ের ধ্বনি শুনে
          পল্লবের আসন দিল পাতি;
     মর্মরিত প্রলাপবাণী কহিল সারারাতি।
     যেয়ো না ফিরে, একটু তবু রোসো,
নিভৃত তার প্রাঙ্গণেতে এসেছ যদি-- বোসো।
        ব্যাকুলতার নীরব আবেদনে
যে দিন গেছে সে দিনখানি জাগায়ে তোলো মনে।
          যে দান মৃদু হেসে
কিশোর করে নিয়েছ তুলি, পরেছ কালো কেশে,
          তাহারি ছবি স্মরিয়ো মোর শুকানো-শাখা-আগে
                   প্রভাতবেলা নবীনারুণরাগে।
          সেদিনকার গানের থেকে চয়ন করি কথা
                   ভরিয়া তোলো আজি এ নীরবতা।
আরো দেখুন
32
Verses
          আজ এই দিনের শেষে
সন্ধ্যা যে ওই মানিকখানি পরেছিল চিকন কালো কেশে
          গেঁথে নিলেম তারে
এই তো আমার বিনিসুতার গোপন গলার হারে।
     চক্রবাকের নিদ্রানীরব বিজন পদ্মাতীরে
     এই সে সন্ধ্যা ছুঁইয়ে গেল আমার নতশিরে
              নির্মাল্য তোমার
              আকাশ হয়ে পার;
          ওই যে মরি মরি
তরঙ্গহীন স্রোতের 'পরে ভাসিয়ে দিল তারার ছায়াতরী;
          ওই যে সে তার সোনার চেলি
              দিল মেলি
          রাতের আঙিনায়
          ঘুমে অলস কায়;
         ওই যে শেষে সপ্তঋষির ছায়াপথে
              কালো ঘোড়ার রথে
     উড়িয়ে দিয়ে আগুন-ধূলি নিল সে বিদায়;
একটি কেবল করুণ পরশ রেখে গেল একটি কবির ভালে;
তোমার ওই অনন্ত মাঝে এমন সন্ধ্যা হয় নি কোনোকালে,
              আর হবে না কভু।
              এমনি করেই প্রভু
          এক নিমেষের পত্রপুটে ভরি
চিরকালের ধনটি তোমার ক্ষণকালে লও যে নূতন করি।
আরো দেখুন