৭ (joto din kachhe chhile balo ki upaye)

যত দিন কাছে ছিলে বলো কী উপায়ে

আপনারে রেখেছিলে এমন লুকায়ে?

ছিলে তুমি আপনার কর্মের পশ্চাতে

অন্তর্যামী বিধাতার চোখের সাক্ষাতে।

প্রতি দণ্ড-মুহূর্তের অন্তরাল দিয়া

নিঃশব্দে চলিয়া গেছ নম্র-নত-হিয়া।

আপন সংসারখানি করিয়া প্রকাশ

আপনি ধরিয়াছিলে কী অজ্ঞাত বাস!

আজি যবে চলি গেলে খুলিয়া দুয়ার

পরিপূর্ণ রূপখানি দেখালে তোমার।

জীবনের সব দিন সব খণ্ড কাজ

ছিন্ন হয়ে পদতলে পড়ি গেল আজ।

তব দৃষ্টিখানি আজি বহে চিরদিন

চির-জনমের দেখা পলকবিহীন।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

দানমহিমা
Verses
          নির্ঝরিণী অকারণ অবারণ সুখে
          নীরসেরে ঠেলা দিয়ে চলে তৃষিতের অভিমুখে--
                             নিত্য অফুরান
                   আপনারে করে দান।
                   সরোবরে প্রশান্ত নিশ্চল--
বাহিরেতে নিস্তরঙ্গ, অন্তরেতে নিস্তব্ধ নিস্তল।
     চির-অতিথির মতো মহাবট আছে তীরে;
          ভূরিপায়ী মূল তার অদৃশ্য গভীরে
               অনিঃশেষ রস করে পান,
          অজস্র পল্লবে তার করে স্তবগান।
          তোমারে তেমনি দেখি নির্বিকল
অপ্রমত্ত পূর্ণতায়, হে প্রেয়সী, আছ অচঞ্চল।
     তুমি কর বরদান দেবীসম ধীর আবির্ভাবে
          নিরাসক্ত দাক্ষিণ্যের গম্ভীর প্রভাবে।
                   তোমার সামীপ্য সেই
               নিত্য চারি দিকে আকাশেই
     প্রকাশিত আত্মমহিমায়
                             প্রশান্ত প্রভায়।
                        তুমি আছ কাছে,
          সে আত্মবিস্মৃত কৃপা--চিত্ত তাহে পরিতৃপ্ত আছে।
                   ঐশ্বর্যরহস্য যাহা তোমাতে বিরাজে
          একই কালে ধন সেই, দান সেই--ভেদ নাই মাঝে।
আরো দেখুন
বিদেশী ফুলের গুচ্ছ - ৫
Verses
                   ১
গোলাপ হাসিয়া বলে, "আগে বৃষ্টি যাক চলে,
           দিক দেখা তরুণ তপন--
           তখন ফুটাব এ যৌবন।'
গেল মেঘ, এল উষা, আকাশের আঁখি হতে
           মুছে দিল বৃষ্টিবারিকণা--
           সে তো রহিল না।
কোকিল ভাবিছে মনে, "শীত যাবে কত ক্ষণে,
           গাছপালা ছাইবে মুকুলে--
           তখন গাহিব মন খুলে।'
কুয়াশা কাটিয়া যায়, বসন্ত হাসিয়া চায়,
          কানন কুসুমে ভরে গেল--
          সে যে মরে গেল!
             ২
এত শীঘ্র ফুটিলি কেন রে!
      ফুটিলে পড়িতে হয় ঝরে--
      মুকুলের দিন আছে তবু,
ফোটা ফুল ফোটে না তো আর।
       বড়ো শীঘ্র গেলি মধুমাস,
       দু দিনেই ফুরালো নিশ্বাস।
       বসন্ত আবার আসে বটে,
গেল যে সে ফেরে না আবার।
আরো দেখুন
9
Verses
হে লক্ষ্মী, তোমার আজি নাই অন্তঃপুর
সরস্বতীরূপ আজি ধরেছ মধুর,
দাঁড়ায়েছ সংগীতের শতদলদলে।
মানসসরসী আজি তব পদতলে
নিখিলের প্রতিবিম্বে রঞ্জিছে তোমায়।
চিত্তের সৌন্দর্য তব বাধা নাহি পায়--
সে আজি বিশ্বের মাঝে মিশিছে পুলকে
সকল আনন্দে আর সকল আলোকে
সকল মঙ্গল-সাথে। তোমার কঙ্কণ
কোমল কল্যাণপ্রভা করেছে অর্পণ
সকল সতীর করে। স্নেহাতুর হিয়া
নিখিল নারীর চিত্তে গিয়েছে লাগিয়া।
সেই বিশ্বমূর্তি তব আমারি অন্তরে
লক্ষ্মী-সরস্বতী-রূপে পূর্ণরূপ ধরে।
আরো দেখুন