৯ (je lokkhi tomar aji nai ontopur)

হে লক্ষ্মী, তোমার আজি নাই অন্তঃপুর

সরস্বতীরূপ আজি ধরেছ মধুর,

দাঁড়ায়েছ সংগীতের শতদলদলে।

মানসসরসী আজি তব পদতলে

নিখিলের প্রতিবিম্বে রঞ্জিছে তোমায়।

চিত্তের সৌন্দর্য তব বাধা নাহি পায়--

সে আজি বিশ্বের মাঝে মিশিছে পুলকে

সকল আনন্দে আর সকল আলোকে

সকল মঙ্গল-সাথে। তোমার কঙ্কণ

কোমল কল্যাণপ্রভা করেছে অর্পণ

সকল সতীর করে। স্নেহাতুর হিয়া

নিখিল নারীর চিত্তে গিয়েছে লাগিয়া।

সেই বিশ্বমূর্তি তব আমারি অন্তরে

লক্ষ্মী-সরস্বতী-রূপে পূর্ণরূপ ধরে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

বনবাস
Verses
বাবা যদি রামের মতো
     পাঠায় আমায় বনে
যেতে আমি পারি নে কি
     তুমি ভাবছ মনে?
চোদ্দ বছর ক' দিনে হয়
     জানি নে মা ঠিক,
দণ্ডক বন আছে কোথায়
     ওই মাঠে কোন্‌ দিক।
কিন্তু আমি পারি যেতে,
     ভয় করি নে তাতে--
লক্ষ্ণণ ভাই যদি আমার
     থাকত সাথে সাথে।
বনের মধ্যে গাছের ছায়ায়
     বেঁধে নিতেম ঘর--
সামনে দিয়ে বইত নদী,
     পড়ত বালির চর।
ছোটো একটি থাকত ডিঙি
     পারে যেতেম বেয়ে--
হরিণ চ'রে বেড়ায় সেথা,
     কাছে আসত ধেয়ে।
গাছের পাতা খাইয়ে দিতেম
     আমি নিজের হাতে--
লক্ষ্ণণ ভাই যদি আমার
     থাকত সাথে সাথে।
কত যে গাছ ছেয়ে থাকত
     কত রকম ফুলে,
মালা গেঁথে পরে নিতেম
     জড়িয়ে মাথার চুলে।
নানা রঙের ফলগুলি সব
     ভুঁয়ে পড়ত পেকে,
ঝুড়ি ভরে ভরে এনে
     ঘরে দিতেম রেখে;
খিদে পেলে দুই ভায়েতে
     খেতেম পদ্মপাতে--
লক্ষ্ণণ ভাই যদি আমার
     থাকত সাথে সাথে।
রোদের বেলায় অশথ-তলায়
     ঘাসের 'পরে আসি
রাখাল-ছেলের মতো কেবল
     বাজাই বসে বাঁশি।
ডালের 'পরে ময়ূর থাকে,
     পেখম পড়ে ঝুলে--
কাঠবিড়ালি ছুটে বেড়ায়
     ন্যাজটি পিঠে তুলে।
কখন আমি ঘুমিয়ে যেতেম
     দুপুরবেলার তাতে--
লক্ষ্ণণ ভাই যদি আমার
     থাকত সাথে সাথে।
সন্ধেবেলায় কুড়িয়ে আনি
     শুকোনো ডালপালা,
বনের ধারে বসে থাকি
     আগুন হলে জ্বালা।
পাখিরা সব বাসায় ফেরে,
     দূরে শেয়াল ডাকে,
সন্ধেতারা দেখা যে যায়
     ডালের ফাঁকে ফাঁকে।
মায়ের কথা মনে করি
     বসে আঁধার রাতে --
লক্ষ্ণণ ভাই যদি আমার
     থাকত সাথে সাথে।
ঠাকুরদাদার মতো বনে
     আছেন ঋষি মুনি,
তাঁদের পায়ে প্রণাম করে
     গল্প অনেক শুনি।
রাক্ষসেরে ভয় করি নে,
     আছে গুহক মিতা --
রাবণ আমার কী করবে মা,
     নেই তো আমার সীতা।
হনুমানকে যত্ন করে
     খাওয়াই দুধে-ভাতে--
লক্ষ্ণণ ভাই যদি আমার
     থাকত সাথে সাথে।
মা গো, আমায় দে-না কেন
     একটি ছোটো ভাই--
দুইজনেতে মিলে আমরা
     বনে চলে যাই।
আমাকে মা, শিখিয়ে দিবি
     রাম-যাত্রার গান,
মাথায় বেঁধে দিবি চুড়ো,
     হাতে ধনুক-বাণ।
চিত্রকূটের পাহাড়ে যাই
     এম্‌নি বরষাতে--
লক্ষ্ণণ ভাই যদি আমার
থাকত সাথে সাথে।
আরো দেখুন
পরবেশ
Verses
কে তুমি ফিরিছ পরি প্রভুদের সাজ।
ছদ্মবেশে বাড়ে না কি চতুর্গুণ লাজ!
পরবস্ত্র অঙ্গে তব হয়ে অধিষ্ঠান
তোমারেই করিছে না নিত্য অপমান?
বলিছে না, "ওরে দীন, যত্নে মোরে ধরো,
তোমার চর্মের চেয়ে আমি শ্রেষ্ঠতর?"
চিত্তে যদি নাহি থাকে আপন সম্মান,
পৃষ্ঠে তবে কালো বস্ত্র কলঙ্কনিশান।
ওই তুচ্ছ টুপিখানা চড়ি তব শিরে
ধিক্কার দিতেছে না কি তব স্বজাতিরে।
বলিতেছে, "যে মস্তক আছে মোর পায়
হীনতা ঘুচেছে তার আমারি কৃপায়।"
সর্বাঙ্গে লাঞ্ছনা বহি এ কী অহংকার!
ওর কাছে জীর্ণ চীর জেনো অলংকার।
আরো দেখুন
ভাগীরথী
Verses
পূর্বযুগে, ভাগীরথী, তোমার চরণে দিল আনি
                             মর্তের ক্রন্দনবাণী;
                   সঞ্জীবনীতপস্যায় ভগীরথ
                             উত্তরিল দুর্গম পর্বত,
নিয়ে গেল তোমা-কাছে মৃত্যুবন্দী প্রেতের আহ্বান--
                   ডাক দিল, আনো আনো প্রাণ--
          নিবেদিল, হে চৈতন্যস্বরূপিণী তুমি,
                             গৈরিক অঞ্চল তব চুমি
          তৃণে শষ্পে রোমাঞ্চিত হোক মরুতল,
                             ফলহীনে দাও ফল,
          পুষ্পবন্ধ্যালতিকার ঘুচাও ব্যর্থতা,
                   নির্বাক্‌ ভূমির মুখে দাও কথা।
                             তুমি যে প্রাণের ছবি,
                                      হে জাহ্নবী--
          ধরণীর আদিসুপ্তি ভেঙে দিয়ে যেথা যাও চলে
                             জাগ্রত কল্লোলে
          গানে মুখরিয়া উঠে মাটির প্রাঙ্গণ,
                   দুই তীরে জেগে ওঠে বন;
          তট বেয়ে মাথা তোলে নগরনগরী
জীবনের আয়োজনে ভাণ্ডার ঐশ্বর্যে ভরি ভরি।
                   মানুষের মুখ্যভয় মৃত্যুভয়,
                             কেমনে করিবে তারে জয়
                                      নাহি জানে;
                   তাই সে হেরিছে ধ্যানে,
                             মৃত্যুবিজয়ীর জটা হতে
                                      অক্ষয় অমৃতস্রোতে
                                                প্রতিক্ষণে নামিছ ধরায়।
পুণ্যতীর্থতটে সে যে তোমার প্রসাদ পেতে চায়।
          সে ডাকিছে-- মিথ্যাশঙ্কা-নাগপাশে ঘুচাও ঘুচাও,
মরণেরে যে কালিমা লেপিয়াছি সে তুমি মুছাও;
                   গম্ভীর অভয়মূর্তি মরণের
          তব কলধ্বনিমাঝে গান ঢেলে দিক তরণের
                   এ জন্মের শেষ ঘাটে;
                             নিরুদ্দেশ যাত্রীর ললাটে
                                      স্পর্শ দিক আশীর্বাদ তব,
          নিক সে নূতন পথে যাত্রার পাথেয় অভিনব;
                   শেষ দণ্ডে ভরে দিক তার কান
অজানা সমুদ্রপথে তব নিত্য-অভিসার-গান।
আরো দেখুন