মাতৃবৎসল (matribotsol)

    মেঘের মধ্যে মা গো, যারা থাকে

    তারা আমায় ডাকে, আমায় ডাকে।

    বলে, "আমরা কেবল করি খেলা,

    সকাল থেকে দুপুর সন্ধেবেলা।

সোনার খেলা খেলি আমরা ভোরে,

রুপোর খেলা খেলি চাঁদকে-ধরে।'

আমি বলি, "যাব কেমন করে।'

       তারা বলে, "এসো মাঠের শেষে।

সেইখানেতে দাঁড়াবে হাত তুলে,

         আমরা তোমায় নেব মেঘের দেশে।'

আমি বলি, "মা যে আমার ঘরে

বসে আছে চেয়ে আমার তরে,

তারে ছেড়ে থাকব কেমন করে।'

         শুনে তারা হেসে যায় মা, ভেসে।

    তার চেয়ে মা আমি হব মেঘ;

         তুমি যেন হবে আমার চাঁদ--

    দু হাত দিয়ে ফেলব তোমায় ঢেকে,

         আকাশ হবে এই আমাদের ছাদ।

    ঢেউয়ের মধ্যে মা গো যারা থাকে,

    তারা আমায় ডাকে, আমায় ডাকে।

    বলে, "আমরা কেবল করি গান

    সকাল থেকে সকল দিনমান।'

তারা বলে, "কোন্‌ দেশে যে ভাই,

আমরা চলি ঠিকানা তার নাই।'

আমি বলি, "কেমন করে যাই।'

         তারা বলে, "এসো ঘাটের শেষে।

সেইখানেতে দাঁড়াবে চোখ বুজে,

         আমরা তোমায় নেব ঢেউয়ের দেশে।'

আমি বলি, "মা যে চেয়ে থাকে,

সন্ধে হলে নাম ধরে মোর ডাকে,

কেমন ক'রে ছেড়ে থাকব তাকে।'

         শুনে তারা হেসে যায় মা, ভেসে।

    তার চেয়ে মা, আমি হব ঢেউ,

         তুমি হবে অনেক দূরের দেশ।

    লুটিয়ে আমি পড়ব তোমার কোলে,

         কেউ আমাদের পাবে না উদ্দেশ।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

হিন্দুস্থান
Verses
      মোরে হিন্দুস্থান
           বারবার করেছে আহ্বান
     কোন্‌ শিশুকাল হতে পশ্চিমদিগন্ত-পানে
ভারতের ভাগ্য যেথা নৃত্যলীলা করেছে শ্মশানে,
                   কালে কালে
              তাণ্ডবের তালে তালে,
                   দিল্লিতে আগ্রাতে
         মঞ্জীরঝংকার আর দূর শকুনির ধ্বনি-সাথে;
                   কালের মন্থনদণ্ডঘাতে
              উচ্ছলি উঠেছে যেথা পাথরের ফেনস্তূপে
         অদৃষ্টের অট্টহাস্য অভ্রভেদী প্রাসাদের রূপে।
         লক্ষ্মী-অলক্ষ্মীর দুই বিপরীত পথে
                   রথে প্রতিরথে
     ধূলিতে ধূলিতে যেথা পাকে পাকে করেছে রচনা
        জটিল রেখার জালে শুভ-অশুভের আল্‌পনা।
         নব নব ধ্বজা হাতে নব নব সৈনিকবাহিনী
     এক কাহিনীর সূত্র ছিন্ন করি আরেক কাহিনী
         বারংবার গ্রন্থি দিয়ে করেছে যোজন।
     প্রাঙ্গণপ্রাচীর যার অকস্মাৎ করেছে লঙ্ঘন
                   দস্যুদল,
        অর্ধরাত্রে দ্বার ভেঙে জাগিয়েছে আর্ত কোলাহল,
                   করেছে আসন-কাড়াকাড়ি,
         ক্ষুধিতের অন্নথালি নিয়েছে উজাড়ি।
     রাত্রিরে ভুলিল তারা ঐশ্বর্যের মশাল-আলোয়--
         পীড়িত পীড়নকারী দোঁহে মিলি সাদায় কালোয়
                   যেখানে রচিয়াছিল দ্যূতখেলাঘর,
     অবশেষে সেথা আজ একমাত্র বিরাট কবর
                   প্রান্ত হতে প্রান্তে প্রসারিত;
         সেথা জয়ী আর পরাজিত
                   একত্রে করেছে অবসান
              বহু শতাব্দীর যত মান অসম্মান।
     ভগ্নজানু প্রতাপের ছায়া সেথা শীর্ণ যমুনায়
                   প্রেতের আহ্বান বহি চলে যায়,
                            বলে যায়--
         আরো ছায়া ঘনাইছে অস্তদিগন্তের
                             জীর্ণ যুগান্তের।
আরো দেখুন
6
Verses
কাল প্রাতে মোর জন্মদিনে
এ শৈল-আতিথ্যবাসে
বুদ্ধের নেপালী ভক্ত এসেছিল মোর বার্তা শুনে।
ভূতলে আসন পাতি
বুদ্ধের বন্দনামন্ত্র শুনাইল আমার কল্যাণে--
গ্রহণ করিনু সেই বাণী।
এ ধারায় জন্ম নিয়ে যে মহামানব
সব মানবের জন্ম সার্থক করেছে একদিন,
মানুষের জন্মক্ষণ হতে
নারায়ণী এ ধরণী
যাঁর আবির্ভাব লাগি অপেক্ষা করেছে বহু যুগ,
যাঁহাতে প্রত্যক্ষ হল ধরায় সৃষ্টির অভিপ্রায়,
শুভক্ষণে পুণ্যমন্ত্রে
তাঁহারে স্মরণ করি জানিলাম মনে--
প্রবেশি মানবলোকে আশি বর্ষ আগে
এই মহাপুরুষের পুণ্যভাগী হয়েছি আমিও।
আরো দেখুন
57
Verses
হে সকল ঈশ্বরের পরম ঈশ্বর,
তপোবনতরুচ্ছায়ে মেঘমন্দ্রস্বর
ঘোষণা করিয়াছিল সবার উপরে
অগ্নিতে, জলেতে, এই বিশ্বচরাচরে,
বনস্পতি ওষধিতে এক দেবতার
অখন্ড অক্ষয় ঐক্য। সে বাক্য উদার
এই ভারতেরি।
যাঁরা সবল স্বাধীন
নির্ভয় সরলপ্রাণ, বন্ধনবিহীন
সদর্পে ফিরিয়াছেন বীর্যজ্যোতিষ্মান
লঙ্ঘিয়া অরণ্য নদী পর্বত পাষাণ
তাঁরা এক মহান বিপুল সত্য-পথে
তোমারে লভিয়াছেন নিখিল জগতে।
কোনোখানে না মানিয়া আত্মার নিষেধ
সবলে সমস্ত বিশ্ব করেছেন ভেদ।
আরো দেখুন