৫৩ (arogyashalar rajkabi)

আরোগ্যশালার রাজকবি

          সুধাকান্ত আঁকে বসি প্রত্যহের তুচ্ছতার ছবি।

               মনে আছে একমাত্র আশা

               বুদ্‌বুদের ইতিহাসে সুদীর্ঘকালের নেই ভাষা।

বাহিরে চলেছে দূরে বিরাটের প্রলয়ের পালা

অকিঞ্চিৎকরের স্তূপ জমাইছে এ আরোগ্যশালা।

লিখিবার বাণী কোথা যে দিকেই দু চক্ষু বুলাই

অর্থহীন ছড়া কেটে কোনোমতে নিজেরে ভুলাই।

ধাক্কা তারে দেয় পিছে ক্ষ্যাপা ঊনপঞ্চাশ বায়ু

এ বেলা ও বেলা তার আয়ু।

                         পোষাকি যে সাজে

                   মাথা তুলে বসি সভামাঝে,

                   সে আমার রঙ মাজা খোলসগুলোয়

ঢিল লেগে তারা আজ খসেছে ধুলোয়,

                   সুধাকান্ত নেপথ্যেই লোক করে জড়ো,

                         পাঁচ জনে খুশি হয় বড়ো

                             যত তারা বলে বাহা-বাহা

                         কবিবর ঝাঁট দিয়ে আনে যাহা তাহা।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

32
Verses
HIS OWN mornings are new surprises to God.
আরো দেখুন
গতি আমার এসে
Verses
গতি আমার এসে
ঠেকে যেথায় শেষে
            অশেষ সেথা খোলে আপন দ্বার।
যেথা আমার গান
হয় গো অবসান
            সেথা গানের নীরব পারাবার।
যেথা আমার আঁখি
আঁধারে যায় ঢাকি
            অলখ-লোকের আলোক সেথা জ্বলে।
বাইরে কুসুম ফুটে
ধুলায় পড়ে টুটে,
            অন্তরে তো অমৃত-ফল ফলে।
কর্ম বৃহৎ হয়ে
চলে যখন বয়ে
           তখন সে পায় বৃহৎ অবকাশ।
যখন আমার আমি
ফুরায়ে যায় থামি
           তখন আমার তোমাতে প্রকাশ।
আরো দেখুন
শরৎ
Verses
আজি কি তোমার মধুর মূরতি
     হেরিনু শারদ প্রভাতে!
হে মাত বঙ্গ, শ্যামল অঙ্গ
     ঝলিছে অমল শোভাতে।
পারে না বহিতে নদী জলধার,
মাঠে মাঠে ধান ধরে নাকো আর--
ডাকিছে দোয়েল গাহিছে কোয়েল
     তোমার কাননসভাতে!
মাঝখানে তুমি দাঁড়ায়ে জননী,
     শরৎকালের প্রভাতে।
জননী, তোমার শুভ আহ্বান
     গিয়েছে নিখিল ভুবনে--
নূতন ধান্যে হবে নবান্ন
     তোমার ভবনে ভবনে।
অবসর আর নাহিকো তোমার--
আঁটি আঁটি ধান চলে ভারে ভার,
গ্রামপথে-পথে গন্ধ তাহার
     ভরিয়া উঠিছে পবনে।
জননী, তোমার আহ্বান লিপি
     পাঠায়ে দিয়েছ ভুবনে।
তুলি মেঘভার আকাশ তোমার
     করেছ সুনীলবরনী।
শিশির ছিটায়ে করেছ শীতল
     তোমার শ্যামল ধরণী।
স্থলে জলে আর গগনে গগনে
বাঁশি বাজে যেন মধুর লগনে,
আসে দলে দলে তব দ্বারতলে
     দিশি দিশি হতে তরণী।
আকাশ করেছ সুনীল অমল,
     স্নিগ্ধশীতল ধরণী।
বহিছে প্রথম শিশিরসমীর
     ক্লান্ত শরীর জুড়ায়ে--
কুটিরে কুটিরে নব নব আশা
     নবীন জীবন উড়ায়ে।
দিকে দিকে মাতা কত আয়োজন,
হাসিভরা মুখ তব পরিজন
ভাণ্ডারে তব সুখ নব নব
     মুঠা মুঠা লয় কুড়ায়ে।
ছুটেছে সমীর আঁচলে তাহার
     নবীন জীবন উড়ায়ে।
আয় আয় আয়, আছ যে যেথায়
     আয় তোরা সব ছুটিয়া--
ভান্ডারদ্বার খুলেছে জননী,
     অন্ন যেতেছে লুটিয়া।
ও পার হইতে আয় খেয়া দিয়ে,
ও পাড়া হইতে আয় মায়ে ঝিয়ে,
কে কাঁদে ক্ষুধায় জননী শুধায়--
     আয় তোরা সবে জুটিয়া।
ভাণ্ডারদ্বার খুলেছে জননী,
     অন্ন যেতেছে লুটিয়া।
মাতার কণ্ঠে শেফালিমাল্য
     গন্ধে ভরিছে অবনী।
জলহারা মেঘ আঁচলে খচিত
     শুভ্র যেন সে নবনী।
পরেছে কিরীট কনককিরণে,
মধুর মহিমা হরিতে হিরণে
কুসুমভূষণজড়িত চরণে
     দাঁড়ায়েছে মোর জননী।
আলোকে শিশিরে কুসুমে ধান্যে
      হাসিছে নিখিল অবনী।
আরো দেখুন