দূরবর্তিনী (durobortini)

সেদিন তুমি দূরের ছিলে মম,

     তাই ছিলে সেই আসন-'পরে যা অন্তরতম।

          অগোচরে সেদিন তোমার লীলা

               বইত অন্তঃশীলা।

                   থমকে যেতে যখন কাছে আসি

               তখন তোমার ত্রস্ত চোখে বাজত দূরের বাঁশি।

ছায়া তোমার মনের কুঞ্জে ফিরত চুপে চুপে,

     কায়া নিত অপরূপের রূপে।

          আশার অতীত বিরল অবকাশে

               আসতে তখন পাশে;

                   একটি ফুলের দানে

চিরফাগুন-দিনের হাওয়া আনতে আমার প্রাণে।

     অবশেষে যখন তোমার অভিসারের রথ

          পেল আপন সহজ সুগম পথ,

ইচ্ছা তোমার আর নাহি পায় নতুন-জানার বাধা,

     সাধনা নাই, শেষ হয়েছে সাধা।

তোমার পালে লাগে না আর হঠাৎ দখিন-হাওয়া;

     শিথিল হল সকল চাওয়া পাওয়া।

মাঘের রাতে আমের বোলের গন্ধ বহে যায়,

     নিশ্বাস তার মেলে না আর তোমার বেদনায়।

উদ্‌বেগ নাই, প্রত্যাশা নাই, ব্যথা নাইকো কিছু,

     পোষ-মানা সব দিন চলে যায় দিনের পিছু পিছু।

               অলস ভালোবাসা

          হারিয়েছে তার ভাষাপারের ভাষা।

     ঘরের কোণের ভরা পাত্র দুই বেলা তা পাই,

               ঝর্‌নাতলার উছল পাত্র নাই।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

আগমনী
Verses
মাঘের বুকে সকৌতুকে কে আজি এল, তাহা
                  বুঝিতে পারো তুমি?
শোন নি কানে হঠাৎ গানে কহিল "আহা আহা'
                  সকল বনভূমি?
            শুষ্ক জরা পুষ্প-ঝরা
            হিমের-বায়ে-কাঁপন-ধরা
                  শিথিল মন্থর
"কে এল' বলি তরাসি উঠে শীতের সহচর।
গোপনে এল, স্বপনে এল, এল সে মায়াপথে,
                  পায়ের ধ্বনি নাহি।
ছায়াতে এল, কায়াতে এল, এল সে মনোরথে
                দখিন-হাওয়া বাহি।
           অশোকবনে নবীন পাতা
           আকাশ-পানে তুলিল মাথা,
                কহিল, "এসেছ কি?'
      মর্মরিয়া থরোথরো কাঁপিল আমলকী।
কাহারে চেয়ে উঠিল গেয়ে দোয়েল চাঁপা-শাখে
                "শোনো গো, শোনো শোনো।'
শ্যামা না জানে প্রভাতী গানে কী নামে তারে ডাকে
                আছে কি নাম কোনো?
           কোকিল শুধু মুহুর্‌মুহু
           আপন মনে কুহরে কুহু
                 ব্যথায়-ভরা বাণী।
কপোত বুঝি শুধায় শুধু, "জানি কি, তারে জানি?'
আমের বোলে কী কলরোলে সুবাস ওঠে মাতি
                অসহ উচ্ছ্বাসে।
আপন মনে মাধবী ভনে কেবলই দিবারাতি,
                "মোরে সে ভালোবাসে।'
           অধীর হাওয়া নদীর পারে
           খ্যাপার মতো কহিছে কারে,
                "বলো তো কী-যে করি?'
শিহরি উঠি শিরীষ বলে, "কে ডাকে মরি মরি!'
কেন যে আজি উঠিল বাজি আকাশ-কাঁদা বাঁশি
                   জানিস তাহা না কি?
রঙিন যত মেঘের মতো কী যায় মনে ভাসি
                   কেন যে থাকি থাকি?
           অবুঝ তোরা তাহারে বুঝি
           দূরের পানে ফিরিস খুঁজি--
                   বাহিরে-আঁখি-বাঁধা,
প্রাণের মাঝে চাহিস না যে, তাই তো লাগে ধাঁধা।
পুলকে-কাঁপা কনকচাঁপা বুকের মধু-কোষে
                 পেয়েছে দ্বার নাড়া,
এমন করে কুঞ্জ ভরে সহজে তাই তো সে
        দিয়েছে তারি সাড়া।
           সহসা বনমল্লিকা যে
           পেয়েছে তারে আপন-মাঝে,
                  ছুটিয়া দলে দলে
"এই যে তুমি' "এই যে তুমি' আঙুল তুলে বলে।
পেয়েছে তারা, গেয়েছে তারা, জেনেছে তারা সব
                 আপন মাঝখানে--
তাই এ শীতে জাগালো গীতে বিপুল কলরব
                 দ্বিধাবিহীন তানে।
           ওদের সাথে জাগ্‌ রে কবি,
           হৃৎকমলে দেখ্‌ সে ছবি,
                 ভাঙুক মোহঘোর।
বনের তলে নবীন এল, মনের তলে তোর।
আলোতে তোরে দিক-না ভরে ভোরের নব রবি,
                  বাজ্‌ রে বীণা বাজ্‌।
গগন-কোলে হাওয়ার দোলে ওঠ্‌ রে দুলে কবি,
                   ফুরালো তোর কাজ।
              বিদায় নিয়ে যাবার আগে
              পড়ুক টান ভিতর-বাগে,
                   বাহিরে পাস ছুটি।
প্রেমের ডোরে বাঁধুক তোরে বাঁধন যাক টুটি।
আরো দেখুন
১৩৯
Verses
১৩৯
শিশিরের মালা গাঁথা শরতের তৃণাগ্র-সূচিতে
নিমিষে মিলায়,--তবু নিখিলের মাধুর্য-রুচিতে
স্থান তার চিরস্থির; মণিমালা রাজেন্দ্রের গলে
আছে,তবু নাই সে যে, নিত্য নষ্ট প্রতি পলে পলে॥    
আরো দেখুন
93
Verses
কোরো না কোরো না লজ্জা হে ভারতবাসী,
শক্তিমদমত্ত ওই বণিক বিলাসী
ধনদৃপ্ত পশ্চিমের কটাক্ষসম্মুখে
শুভ্র উত্তরীয় পরি শান্ত সৌম্যমুখে
সরল জীবনখানি করিতে বহন।
শুনো না কী বলে তারা; তব শ্রেষ্ঠ ধন
থাকুক হৃদয়ে তব, থাক্‌ তারা ঘরে,
থাক্‌ তাহা সুপ্রসন্ন ললাটের 'পরে
অদৃশ্য মুকুট তব। দেখিতে যা বড়ো,
চক্ষে যাহা স্তূপাকার হইয়াছে জড়ো,
তারি কাছে অভিভূত হয়ে বারে বারে
লুটায়ো না আপনায়। স্বাধীন আত্মারে
দারিদ্র৻ের সিংহাসনে করো প্রতিষ্ঠিত
রিক্ততার অবকাশে পূর্ণ করি চিত।
আরো দেখুন