পালি-প্রাকৃত কবিতা (pali prakrito kabita)

                             ১

                             পালি

      বণ্নগন্ধগুণোপেতং এতং কুসুমসন্ততিং

      পূজয়ামি মুনিন্দস্‌স সিরিপাদসরোরুহে।

      গন্ধসম্ভারযুত্তেন ধূপেনাহং সুগন্ধিনা

      পূজয়ে পূজনেয্যন্তং পূজাভাজনমুত্তমং।

                                    --বৌদ্ধ এদাহিল্লা

 

                           ১

      স্বর্ণবর্ণে-সমুজ্জল নবচম্পাদলে

      বন্দিব শ্রীমুনীন্দ্রের পাদপদ্মতলে।

      পুণ্যগন্ধে পূর্ণ বায়ু হল সুগন্ধিত

      পুষ্পমাল্যে করি তাঁর চরণ বন্দিত॥

 

                           ২

                           প্রাকৃত

           বরিস জল ভমই ঘন গঅণ

           সিঅল পবণ মনহরণ

           কণঅ পিঅরি ণচই

           বিজুরি ফুল্লিআ ণীবা।

           পত্থর বিত্থর হিঅলা

           পিঅলা নিঅলং ণ আবেই॥

                                  --প্রাকৃতপৈঙ্গল

 

                           ২

      বৃষ্টিধারা শ্রাবণে ঝরে গগনে,

      শীতল পবন বহে সঘনে,

      কনকবিজুরি নাচে রে,

      অশনি গর্জন করে--

      নিষ্ঠুর-অন্তর মম প্রিয়তম নাই ঘরে।

 

                           পাঠান্তর

      অবিরল ঝরছে শ্রাবণের ধারা,

      বনে বনে সজল হাওয়া বয়ে চলেছে,

      সোনার বরন ঝলক দিয়ে নেচে উঠছে বিদ্যুৎ,

      বজ্র উঠছে গর্জন ক'রে--

      নিষ্ঠুর আমার প্রিয়তম ঘরে এল না।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

67
Verses
বৈশাখের বেলফুল
         তারি গন্ধখানি
মিশায় কথার ছাঁদ
         রবি-আশীর্বাদ।
আরো দেখুন
জয়ী
Verses
রূপহীন, বর্ণহীন, চিরস্তব্ধ, নাই শব্দ সুর,
মহাতৃষ্ণা মরুতলে মেলিয়াছে আসন মৃত্যুর;
          সে মহানৈঃশব্দ-মাঝে বেজে ওঠে মানবের বাণী
                   "বাধা নাহি মানি'।
আস্ফালিছে লক্ষ লোল ফেনজিহ্বা নিষ্ঠুর নীলিমা--
তরঙ্গতাণ্ডবী মৃত্যু, কোথা তার নাহি হেরি সীমা;
          সে রুদ্র সমুদ্রতটে ধ্বনিতেছে মানবের বাণী
                   "বাধা নাহি মানি'।
আদিতম যুগ হতে অন্তহীন অন্ধকার পথে
আবর্তিছে বহ্নিচক্র কোটি কোটি নক্ষত্রের রথে;
          দুর্গম রহস্য ভেদি সেথা উঠে মানবের বাণী
                   "বাধা নাহি মানি'।
          অণুতম অণুকণা আকাশে আকাশে নিত্যকাল
বর্ষিয়া বিদ্যুৎবিন্দু রচিছে রূপের ইন্দ্রজাল;
          নিরুদ্ধ প্রবেশদ্বারে উঠে সেথা মানবের বাণী
                   "বাধা নাহি মানি'।
চিত্তের গহনে যেথা দুরন্ত কামনা লোভ ক্রোধ
আত্মঘাতী মত্ততায় করিছে মুক্তির দ্বার রোধ
          অন্ধতার অন্ধকারে উঠে সেথা মানবের বাণী
                   "বাধা নাহি মানি'।
আরো দেখুন
দূর
Verses
পুজোর ছুটি আসে যখন
          বকসারেতে যাবার পথে--
দূরের দেশে যাচ্ছি ভেবে
          ঘুম হয় না কোনো মতে।
সেখানে যেই নতুন বাসায়
          হপ্তা দুয়েক খেলায় কাটে
দূর কি আবার পালিয়ে আসে
          আমাদেরি বাড়ির ঘাটে!
দূরের সঙ্গে কাছের কেবল
          কেনই যে এই লুকোচুরি,
দূর কেন যে করে এমন
          দিনরাত্তির ঘোরাঘুরি।
আমরা যেমন ছুটি হলে
          ঘরবাড়ি সব ফেলে রেখে
রেলে চড়ে পশ্চিমে যাই
          বেরিয়ে পড়ি দেশের থেকে,
তেমনিতরো সকালবেলা
          ছুটিয়ে আলো আকাশেতে
রাতের থেকে দিন যে বেরোয়
          দূরকে বুঝি খুঁজে পেতে?
সে-ও তো যায় পশ্চিমেতেই,
          ঘুরে ঘুরে সন্ধ্যে হলে,
তখন থেকে রাতের মাঝেই
          দূর সে আবার গেছে চলে।
সবাই যেন পলাতকা
          মন টেকে না কাছের বাসায়।
দলে দলে পলে পলে
          কেবল চলে দূরের আশায়।
পাতায় পাতায় পায়ের ধ্বনি,
          ঢেউয়ে ঢেউয়ে ডাকাডাকি,
হাওয়ায় হাওয়ায় যাওয়ার বাঁশি
          কেবল বাজে থাকি থাকি।
আমায় এরা যেতে বলে,
          যদি বা যাই, জানি তবে
দূরকে খুঁজে খুঁজে শেষে
          মায়ের কাছেই ফিরতে হবে।
আরো দেখুন