দূর (dur)

পুজোর ছুটি আসে যখন

          বকসারেতে যাবার পথে--

দূরের দেশে যাচ্ছি ভেবে

          ঘুম হয় না কোনো মতে।

সেখানে যেই নতুন বাসায়

          হপ্তা দুয়েক খেলায় কাটে

দূর কি আবার পালিয়ে আসে

          আমাদেরি বাড়ির ঘাটে!

দূরের সঙ্গে কাছের কেবল

          কেনই যে এই লুকোচুরি,

দূর কেন যে করে এমন

          দিনরাত্তির ঘোরাঘুরি।

আমরা যেমন ছুটি হলে

          ঘরবাড়ি সব ফেলে রেখে

রেলে চড়ে পশ্চিমে যাই

          বেরিয়ে পড়ি দেশের থেকে,

তেমনিতরো সকালবেলা

          ছুটিয়ে আলো আকাশেতে

রাতের থেকে দিন যে বেরোয়

          দূরকে বুঝি খুঁজে পেতে?

সে-ও তো যায় পশ্চিমেতেই,

          ঘুরে ঘুরে সন্ধ্যে হলে,

তখন থেকে রাতের মাঝেই

          দূর সে আবার গেছে চলে।

সবাই যেন পলাতকা

          মন টেকে না কাছের বাসায়।

দলে দলে পলে পলে

          কেবল চলে দূরের আশায়।

পাতায় পাতায় পায়ের ধ্বনি,

          ঢেউয়ে ঢেউয়ে ডাকাডাকি,

হাওয়ায় হাওয়ায় যাওয়ার বাঁশি

          কেবল বাজে থাকি থাকি।

আমায় এরা যেতে বলে,

          যদি বা যাই, জানি তবে

দূরকে খুঁজে খুঁজে শেষে

          মায়ের কাছেই ফিরতে হবে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

হে মোর চিত্ত, পূণ্য তীর্থে
Verses
       হে মোর চিত্ত,পূণ্য তীর্থে
              জাগো রে ধীরে--
       এই ভারতের মহামানবের
              সাগরতীরে।
                    হেথায় দাঁড়ায়ে দু-বাহু বাড়ায়ে
                           নমি নর-দেবতারে,
                    উদার ছন্দে পরমানন্দে
                           বন্দন করি তাঁরে।
         ধ্যান-গম্ভীর এই যে ভূধর,
         নদীজপমালাধৃত প্রান্তর,
         হেথায় নিত্য হেরো পবিত্র
              ধরিত্রীরে
         এই ভারতের মহামানবের
              সাগরতীরে।
              কেহ নাহি জানে কার আহ্বানে
                    কত মানুষের ধারা
              দুর্বার স্রোতে এল কোথা হতে
                    সমুদ্রে হল হারা।
                           হেথায় আর্য, হেথা অনার্য
                           হেথায় দ্রাবিড়, চীন--
                           শক-হুন-দল পাঠান মোগল
                                  এক দেহে হল লীন।
                   পশ্চিম আজি খুলিয়াছে দ্বার,
                   সেথা হতে সবে আনে উপহার,
                   দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে
                           যাবে না ফিরে,
                    এই ভারতের মহামানবের
                           সাগরতীরে।
              রণধারা বাহি জয়গান গাহি
                    উন্মাদ কলরবে
              ভেদি মরুপথ গিরিপর্বত
                    যারা এসেছিল সবে,
                           তারা মোর মাঝে সবাই বিরাজে
                                  কেহ নহে নহে দূর,
                           আমার শোণিতে রয়েছে ধ্বনিতে
                                  তারি বিচিত্র সুর।
                    হে রুদ্রবীণা, বাজো, বাজো, বাজো,
                    ঘৃণা করি দূরে আছে যারা আজো,
                    বন্ধ নাশিবে, তারাও আসিবে
                           দাঁড়াবে ঘিরে
                    এই ভারতের মহামানবের
                           সাগরতীরে।
হেথা একদিন বিরামবিহীন
              মহা ওংকারধ্বনি,
       হৃদয়তন্ত্রে একের মন্ত্রে
              উঠেছিল রনরনি।
                    তপস্যাবলে একের অনলে
                           বহুরে আহুতি দিয়া
                    বিভেদ ভুলিল, জাগায়ে তুলিল
                           একটি বিরাট হিয়া।
              সেই সাধনার সে আরাধনার
              যজ্ঞশালায় খোলা আজি দ্বার,
              হেথায় সবারে হবে মিলিবারে
                    আনতশিরে--
             এই ভারতের মহামানবের
                    সাগরতীরে।
       সেই হোমানলে হেরো আজি জ্বলে
              দুখের রক্ত শিখা,
       হবে তা সহিতে মর্মে দহিতে
              আছে সে ভাগ্যে লিখা।
                    এ দুখ বহন করো মোর মন,
                           শোনো রে একের ডাক।
                    যত লাজ ভয় করো করো জয়
                           অপমান দূরে থাক।
              দুঃসহ ব্যথা হয়ে অবসান
              জন্ম লভিবে কী বিশাল প্রাণ।
              পোহায় রজনী, জাগিছে জননী
                    বিপুল নীড়ে,
              এই ভারতের মহামানবের
                    সাগরতীরে।
       এসো হে আর্য, এসো অনার্য,
              হিন্দু মুসলমান।
       এসো এসো আজ তুমি ইংরাজ,
              এসো এসো খৃস্টান।
                   এসো ব্রাহ্মণ শুচি করি মন
                    ধরো হাত সবাকার,
                   এসো হে পতিত করো অপনীত
                    সব অপমানভার।
              মার অভিষেকে এসো এসো ত্বরা
              মঙ্গলঘট হয় নি যে ভরা,
              সবারে-পরশে-পবিত্র-করা
                    তীর্থনীরে।
              আজি ভারতের মহামানবের
                    সাগরতীরে।
আরো দেখুন
তোমার ভুবন মর্মে আমার লাগে
Verses
তোমার ভুবন মর্মে আমার লাগে।
           তোমার আকাশ অসীম কমল
                        অন্তরে মোর জাগে।
          এই সবুজ এই নীলের পরশ
           সকল দেহ করে সরস--
            রক্ত আমার রঙিয়ে আছে
                            তব অরুণরাগে।
           আমার মনে এই শরতের
                           আকুল আলোখানি
           এক পলকে আনে যেন
                           বহুযুগের বাণী।
           নিশীথরাতে নিমেষহারা
           তোমার যত নীরব তারা
           এমন ক'রে হৃদয়দ্বারে
                           আমায় কেন মাগে।
আরো দেখুন
14
Verses
নদীর একটা কোণে শুষ্ক মরা ডাল
স্রোতের ব্যাঘাত যদি করে,
সৃষ্টিশক্তি ভাসমান আবর্জনা নিয়ে
সেখানে প্রকাশ করে আপনার রচনাচাতুরী--
ছোটো দ্বীপ গড়ে তোলে, টেনে আনে শৈবালের দল,
তীরের যা পরিত্যক্ত নেয় সে কুড়ায়ে,
দ্বীপসৃষ্টি-উপাদানে যাহা-তাহা জোটায় সম্বল।
আমার রোগীর ঘরে আবদ্ধ আকাশে
তেমনি চলেছে সৃষ্টি
চৌদিকের সব হতে স্বতন্ত্র স্বরূপে।
তাহার কর্মের আবর্তন
ছোটো সীমাটিতে।
কপালেতে হাত দিয়ে দেখে
তাপ আছে কি না;
উদ্‌বিগ্ন চক্ষুর দৃষ্টি প্রশ্ন করে, ঘুম নেই কেন।
চুপিচুপি পা টিপিয়া
ঘরে আনে প্রভাতের আলো।
পথ্যের থালাটি নিয়ে হাতে
বার বার উপরোধে
রুচির বিরোধ লয় জিনি।
এলোমেলো যত-কিছু সযত্নে গুছায়ে রাখে
আঁচলে ধুলার রেশ ঝাড়ি।
দু হাতে সমান করি শয্যার কুঞ্চন
আসন প্রস্তুত রাখে শিয়রের কাছে
বিনিদ্র সেবার লাগি।
কথা হেথা ধীর স্বরে
দৃষ্টি হেথা বাষ্প দিয়ে ছোঁওয়া,
স্পর্শ হেথা কম্পিত করুণ--
জীবনের এই রুদ্ধ স্রোত
আপনার কেন্দ্রে আবর্তিত,
বাহিরের সংবাদের
ধারা হতে বিচ্ছিন্ন সুদূর।
একদিন বন্যা নামে, শৈবালের দ্বীপ যায় ভেসে;
পূর্ণ জীবনের যবে নামিবে জোয়ার
সেইমতো ভেসে যাবে সেবার বাসাটি,
সেথাকার দুঃখপাত্রে সুধাভরা এই ক'টা দিন।
আরো দেখুন