দুয়ার (duyar)

হে দুয়ার, তুমি আছ মুক্ত অনুক্ষণ,

      রুদ্ধ শুধু অন্ধের নয়ন।

অন্তরে কি আছে তাহা বোঝে না সে, তাই

      প্রবেশিতে সংশয় সদাই।

হে দুয়ার, নিত্য জাগে রাত্রিদিনমান

      সুগম্ভীর তোমার আহ্বান।

সূর্যের উদয়-মাঝে খোল আপনারে।

      তারকায় খোল অন্ধকারে।

হে দুয়ার, বীজ হতে অঙ্কুরের দলে

      খোল পথ, ফুল হতে ফলে।

যুগ হতে যুগান্তর কর অবারিত,

      মৃত্যু হতে পরম অমৃত।

হে দুয়ার, জীবলোক তোরণে তোরণে

      করে যাত্রা মরণে মরণে।

মুক্তিসাধনার পথে তোমার ইঙ্গিতে

      "মাভৈঃ' বাজে নৈরাশ্যনিশীথে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

নাম্নী - শামলী
Verses
     সে যেন গ্রামের নদী
              বহে নিরবধি
              মৃদুমন্দ কলকলে;
তরঙ্গের ভঙ্গি নাই, আবর্তের ঘূর্ণি নাই জলে;
নুয়ে-পড়া তটতরু ঘনচ্ছায়া-ঘেরে
     ছোটো করে রাখে আকাশেরে।
জগৎ সামান্য তার, তারি ধূলি-'পরে
     বনফুল ফোটে অগোচরে,
  মধু তার নিজ মূল্য নাহি জানে,
     মধুকর তারে না বাখানে।
গৃহকোণে ছোটো দীপ জ্বালায় নেবায়,
     দিন কাটে সহজ সেবায়।
  স্নান সাঙ্গ করি এলোচুলে
        অপরাজিতার ফুলে
  প্রভাতে নীরব নিবেদনে
        স্তব করে একমনে।
  মধ্যদিনে বাতায়নতলে
        চেয়ে দেখে নিম্নে দিঘিজলে
              শৈবালের ঘন স্তর,
              পতঙ্গের খেলা তারি 'পর।
          আবছায়া কল্পনায়
          ভাষাহীন ভাবনায়
              মন তার ভরে
            মধ্যাহ্নের অব্যক্ত মর্মরে।
     সায়াহ্নের শান্তিখানি নিয়ে ঘোমটায়
                   নদীপথে যায়
                   ঘট-কাঁখে
          বেণুবীথিকার বাঁকে বাঁকে
                   ধীর পায়ে চলি--
          নাম কি শামলী।
আরো দেখুন
34
Verses
যখন বীণায় মোর আনমনা সুরে
গান বেঁধেছিনু বসি একা
তখনো যে ছিলে তুমি দূরে,
দাও নাই দেখা;
কেমনে জানিব, সেই গান
অপরিচয়ের তীরে তোমারেই করিছে সন্ধান।
দেখিলাম, কাছে তুমি আসিলে যেমনি
তোমারি গতির তালে বাজে মোর এ ছন্দের ধ্বনি;
মনে হল, সুরের সে মিলে
উচ্ছ্বসিল আনন্দের নিশ্বাস নিখিলে।
বর্ষে বর্ষে পুষ্পবনে পুষ্পগুলি ফুটে আর ঝরে
এ মিলের তরে।
কবির সংগীতে বাণী অঞ্জলি পাতিয়া আছে জাগি
অনাগত প্রসাদের লাগি।
চলে লুকাচুরি খেলা বিশ্বে অনিবার
অজানার সাথে অজানার।
আরো দেখুন
হিন্দুস্থান
Verses
      মোরে হিন্দুস্থান
           বারবার করেছে আহ্বান
     কোন্‌ শিশুকাল হতে পশ্চিমদিগন্ত-পানে
ভারতের ভাগ্য যেথা নৃত্যলীলা করেছে শ্মশানে,
                   কালে কালে
              তাণ্ডবের তালে তালে,
                   দিল্লিতে আগ্রাতে
         মঞ্জীরঝংকার আর দূর শকুনির ধ্বনি-সাথে;
                   কালের মন্থনদণ্ডঘাতে
              উচ্ছলি উঠেছে যেথা পাথরের ফেনস্তূপে
         অদৃষ্টের অট্টহাস্য অভ্রভেদী প্রাসাদের রূপে।
         লক্ষ্মী-অলক্ষ্মীর দুই বিপরীত পথে
                   রথে প্রতিরথে
     ধূলিতে ধূলিতে যেথা পাকে পাকে করেছে রচনা
        জটিল রেখার জালে শুভ-অশুভের আল্‌পনা।
         নব নব ধ্বজা হাতে নব নব সৈনিকবাহিনী
     এক কাহিনীর সূত্র ছিন্ন করি আরেক কাহিনী
         বারংবার গ্রন্থি দিয়ে করেছে যোজন।
     প্রাঙ্গণপ্রাচীর যার অকস্মাৎ করেছে লঙ্ঘন
                   দস্যুদল,
        অর্ধরাত্রে দ্বার ভেঙে জাগিয়েছে আর্ত কোলাহল,
                   করেছে আসন-কাড়াকাড়ি,
         ক্ষুধিতের অন্নথালি নিয়েছে উজাড়ি।
     রাত্রিরে ভুলিল তারা ঐশ্বর্যের মশাল-আলোয়--
         পীড়িত পীড়নকারী দোঁহে মিলি সাদায় কালোয়
                   যেখানে রচিয়াছিল দ্যূতখেলাঘর,
     অবশেষে সেথা আজ একমাত্র বিরাট কবর
                   প্রান্ত হতে প্রান্তে প্রসারিত;
         সেথা জয়ী আর পরাজিত
                   একত্রে করেছে অবসান
              বহু শতাব্দীর যত মান অসম্মান।
     ভগ্নজানু প্রতাপের ছায়া সেথা শীর্ণ যমুনায়
                   প্রেতের আহ্বান বহি চলে যায়,
                            বলে যায়--
         আরো ছায়া ঘনাইছে অস্তদিগন্তের
                             জীর্ণ যুগান্তের।
আরো দেখুন