৪০ (tomaar ingitakhaani dekhi ni jakhan)

তোমার ইঙ্গিতখানি দেখি নি যখন

ধূলিমুষ্টি ছিল তারে করিয়া গোপন।

যখনি দেখেছি আজ, তখনি পুলকে

নিরখি ভুবনময় আঁধারে আলোকে

জ্বলে সে ইংগিত; শাখে শাখে ফুলে ফুলে

ফুটে সে ইঙ্গিত; সমুদ্রের কূলে কূলে

ধরিত্রীর তটে তটে চিহ্ন আঁকি ধায়

ফেনাঙ্কিত তরঙ্গের চূড়ায় চূড়ায়

দ্রুত সে ইঙ্গিত; শুভ্রশীর্ষ হিমাদ্রির

শৃঙ্গে  শৃঙ্গে  ঊর্ধ্বমুখে জাগি রহে স্থির

স্তব্ধ সে ইংগিত।

তখন তোমার পানে

বিমুখ হইয়া ছিনু কি লয়ে কে জানে!

বিপরীত মুখে তারে পড়েছিনু, তাই

বিশ্বজোড়া সে লিপির অর্থ বুঝি নাই।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

বীণাহারা
Verses
যবে এসে নাড়া দিলে দ্বার
     চমকি উঠিনু লাজে,
     খুঁজে দেখি গৃহমাঝে
             বীণা ফেলে এসেছি আমার,
                      ওগো বীনকার।
     সেদিন মেঘের ভারে
     নদীর পশ্চিম পারে
             ঘন হল দিগন্তের ভুরু,
     বৃষ্টির নাচনে মাতা
     বনে মর্মরিল পাতা,
             দেয়া গরজিল গুরু গুরু।
     ভরা হল আয়োজন,
     ভাবিনু ভরিবে মন
             বক্ষে জেগে উঠিবে মল্লার--
     হায়, লাগিল না সুর
     কোথায় সে বহুদূর
             বীণা ফেলে এসেছি আমার।
কন্ঠে নিয়ে এলে পুষ্পহার।
     পুরস্কার পাব আশে
     খুঁজে দেখি চারি পাশে
             বীণা ফেলে এসেছি আমার
                      ওগো বীনকার।
     প্রবাসে বনের ছায়ে
     সহসা আমার গায়ে
            ফাল্গুনের ছোঁয়া লাগে একি?
     এ পারের যত পাখি
     সবাই কহিল ডাকি,
             "ও পারের গান গাও দেখি।'
     ভাবিলাম মোর ছন্দে
     মিলাব ফুলের গন্ধে
             আনন্দের বসন্তবাহার।
     খুঁজিয়া দেখিনু বুকে,
     কহিলাম নতমুখে,
             "বীণা ফেলে এসেছি আমার।'
এল বুঝি মিলনের বার।
     আকাশ ভরিল ওই,
     শুধাইলে "সুর কই?'--
             বীণা ফেলে এসেছি আমার
                      ওগো বীনকার।
     অস্তরবি গোধূলিতে
     বলে গেল পূরবীতে
             আর তো অধিক নাই দেরি।
     রাঙা আলোকের জবা
     সাজিয়ে তুলেছে সভা,
             সিংহদ্বারে বাজিয়াছে ভেরি।
     সুদূর আকাশতলে
     ধ্রুবতারা ডেকে বলে,
             "তারে তারে লাগাও ঝংকার।'
     কানাড়াতে সাহানাতে
     জাগিতে হবে যে রাতে--
             বীণা ফেলে এসেছি আমার।
এলে নিয়ে শিখা বেদনার।
     গানে যে বরিব তারে,
     চাহিলাম চারি ধারে--
            বীণা ফেলে এসেছি আমার
                      ওগো বীনকার।
     কাজ হয়ে গেছে সারা,
     নিশীথে উঠেছে তারা,
            মিলে গেছে বাটে আর মাঠে।
     দীপহীন বাঁধা তরী
     সারা দীর্ঘ রাত ধরি
            দুলিয়া দুলিয়া ওঠে ঘাটে।
     যে শিখা গিয়েছে নিবে
     অগ্নি দিয়ে জ্বেলে দিবে,
            সে আলোতে হতে হবে পার।
     শুনেছি গানের তালে
     সুবাতাস লাগে পালে--
            বীণা ফেলে এসেছি আমার।
আরো দেখুন
সামান্য ক্ষতি
Verses
দিব্যাবদানমালা
বহে মাঘমাসে শীতের বাতাস,
          স্বচ্ছসলিলা বরুণা।
পুরী হতে দূরে গ্রামে নির্জনে
শিলাময় ঘাট চম্পকবনে,
স্নানে চলেছেন শতসখীসনে
          কাশীর মহিষী করুণা।
সে পথ সে ঘাট আজি এ প্রভাতে
          জনহীন রাজশাসনে।
নিকটে যে ক'টি আছিল কুটির
ছেড়ে গেছে লোক, তাই নদীতীর
স্তব্ধ গভীর, কেবল পাখির
          কূজন উঠিছে কাননে।
আজি উতরোল উত্তর বায়ে
          উতলা হয়েছে তটিনী।
সোনার আলোক পড়িয়াছে জলে,
পুলকে উছলি ঢেউ ছলছলে--
লক্ষ মানিক ঝলকি আঁচলে
          নেচে চলে যেন নটিনী।
কলকল্লোলে লাজ দিল আজ
          নারী কণ্ঠের কাকলি।
মৃণালভুজের ললিত বিলাসে
চঞ্চলা নদী মাতে উল্লাসে,
আলাপে প্রলাপে হাসি-উচ্ছ্বাসে
          আকাশ উঠিল আকুলি।
স্নান সমাপন করিয়া যখন
          কূলে উঠে নারী সকলে
মহিষী কহিলা, "উহু! শীতে মরি,
সকল শরীর উঠিছে শিহরি,
জ্বেলে দে আগুন ওলো সহচরী--
          শীত নিবারিব অনলে।'
সখীগণ সবে কুড়াইতে কুটা
চলিল কুসুমকাননে।
কৌতুকরসে পাগলপরানী
শাখা ধরি সবে করে টানাটানি,
সহসা সবারে ডাক দিয়া রানী
          কহে সহাস্য আননে--
"ওলো তোরা আয়! ওই দেখা যায়
          কুটির কাহার অদূরে,
ওই ঘরে তোরা লাগাবি অনল,
তপ্ত করিব করপদতল'--
এত বলি রানী রঙ্গে বিভল
          হাসিয়া উঠিল মধুরে।
কহিল মালতী সকরুণ অতি,
          "একি পরিহাস রানীমা!
আগুন জ্বালায়ে কেন দিবে নাশি?
এ কুটির কোন্‌ সাধু সন্ন্যাসী
কোন্‌ দীনজন কোন্‌ পরবাসী
          বাঁধিয়াছে নাহি জানি মা!'
রানী কহে রোষে, "দূর করি দাও
          এই দীনদয়াময়ীরে।'
অতি দুর্দাম কৌতুকরত
যৌবনমদে নিষ্ঠুর যত
যুবতীরা মিলি পাগলের মতো
          আগুন লাগালো কুটিরে।
ঘন ঘোর ধূম ঘুরিয়া ঘুরিয়া
          ফুলিয়া ফুলিয়া উড়িল।
দেখিতে দেখিতে হুহু হুংকারি
ঝলকে ঝলকে উল্কা উগারি
শত শত লোল জিহ্বা প্রসারি
          বহ্নি আকাশ জুড়িল।
পাতাল ফুঁড়িয়া উঠিল যেন রে
          জ্বালাময়ী যত নাগিনী।
ফণা নাচাইয়া অম্বরপানে
মাতিয়া উঠিল গর্জনগানে,
প্রলয়মত্ত রমণীর কানে
          বাজিল দীপক রাগিণী।
প্রভাতপাখির আনন্দ গান
          ভয়ের বিলাপে টুটিল--
দলে দলে কাক করে কোলাহল,
উত্তরবায়ু হইল প্রবল,
কুটির হইতে কুটিরে অনল
          উড়িয়া উড়িয়া ছুটিল।
ছোটো গ্রামখানি লেহিয়া লইল
          প্রলয়লোলুপ রসনা।
জনহীন পথে মাঘের প্রভাতে
প্রমোদক্লান্ত শত সখী-সাথে
ফিরে গেল রানী কুবলয় হাতে
          দীপ্ত-অরুণ-বসনা।
তখন সভায় বিচার-আসনে
          বসিয়াছিলেন ভূপতি।
গৃহহীন প্রজা দলে দলে আসে,
দ্বিধাকম্পিত গদগদ ভাষে
নিবেদিল দুঃখ সংকোচে ত্রাসে
          চরণে করিয়া বিনতি।
সভাসন ছাড়ি উঠি গেল রাজা
          রক্তিমমুখ শরমে।
অকালে পশিলা রানীর আগার--
কহিলা, "মহিষী, একি ব্যবহার!
গৃহ জ্বালাইলে অভাগা প্রজার
          বলো কোন্‌ রাজধরমে!'
রুষিয়া কহিল রাজার মহিষী,
          "গৃহ কহ তারে কী বোধে!
গেছে গুটিকত জীর্ণ কুটির,
কতটুকু ক্ষতি হয়েছে প্রাণীর?
কত ধন যায় রাজমহিষীর
          এক প্রহরের প্রমোদে!'
কহিলেন রাজা উদ্যত রোষ
          রুধিয়া দীপ্ত হৃদয়ে--
"যতদিন তুমি আছ রাজরানী
দীনের কুটিরে দীনের কী হানি
বুঝিতে নারিবে জানি তাহা জানি--
          বুঝাব তোমারে নিদয়ে।'
রাজার আদেশে কিংকরী আসি
          ভূষণ ফেলিল খুলিয়া--
অরুণবরন অম্বরখানি
নির্মম করে খুলে দিল টানি,
ভিখারি নারীর চীরবাস আনি
          দিল রানীদেহে তুলিয়া।
পথে লয়ে তারে কহিলেন রাজা,
          "মাগিবে দুয়ারে দুয়ারে--
এক প্রহরের লীলায় তোমার
যে ক'টি কুটির হল ছারখার
যত দিনে পার সে-ক'টি আবার
          গড়ি দিতে হবে তোমারে।
"বৎসরকাল দিলেম সময়,
          তার পরে ফিরে আসিয়া
সভায় দাঁড়ায়ে করিয়া প্রণতি
সবার সমুখে জানাবে যুবতী
হয়েছে জগতে কতটুকু ক্ষতি
          জীর্ণ কুটির নাশিয়া।'
          
আরো দেখুন
10
Verses
BE NOT concerned about her heart, my heart: leave it in the dark.
        What if her beauty be of the figure and her smile merely of the face? Let me take without question the simple meaning of her glances and be happy.
        I care not if it be a web of delusion that her arms wind about me, for the web itself is rich and rare, and the deceit can be smiled at and forgotten.
        Be not concerned about her heart, my heart: be content if the music is true, though the words are not to be believed; enjoy the grace that dances like a lily on the rippling, deceiving surface, whatever may lie beneath.
আরো দেখুন