৬৬ (ei poshchimer kone roktorag gatha)

এই পশ্চিমের কোণে রক্তরাগরেখা

নহে কভু সৌম্যরশ্মি অরুণের লেখা

তব নব প্রভাতের। এ শুধু দারুণ

সন্ধ্যার প্রলয়দীপ্তি। চিতার আগুন

পশ্চিমসমুদ্রতটে করিছে উদ্‌গার

বিস্ফুলিঙ্গ, স্বার্থদীপ্ত লুব্ধ সভ্যতার

মশাল হইতে লয়ে শেষ অগ্নিকণা।

এই শ্মশানের মাঝে শক্তির সাধনা

তব আরাধনা নহে হে বিশ্বপালক।

তোমার নিখিলপ্লাবী আনন্দ-আলোক

হয়তো লুকায়ে আছে পূর্বসিন্ধুতীরে

বহু ধৈর্যে নম্র স্তব্ধ দুঃখের তিমিরে

সর্বরিক্ত অশ্রুসিক্ত দৈন্যের দীক্ষায়

দীর্ঘকাল, ব্রাহ্ম মুহূর্তের প্রতীক্ষায়।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

4
Verses
তোমার শঙ্খ ধুলায় প'ড়ে,
     কেমন করে সইব।
বাতাস আলো গেল মরে
     এ কী রে দুর্দৈব।
লড়বি কে আয় ধ্বজা বেয়ে,
গান আছে যার ওঠ-না গেয়ে,
চলবি যারা চল্‌ রে ধেয়ে,
     আয় না রে নিঃশঙ্ক।
ধুলয় পড়ে রইল চেয়ে
     ওই যে অভয় শঙ্খ।
চলেছিলাম পূজার ঘরে
     সাজিয়ে ফুলের অর্ঘ্য।
খুঁজি সারাদিনের পরে
     কোথায় শান্তি-শর্গ।
এবার আমার হৃদয়-ক্ষত
ভেবেছিলাম হবে গত,
ধুয়ে মলিন চিহ্ন যত
     হব নিষ্কলঙ্ক।
পথে দেখি ধুলায় নত
     তোমার মহাশঙ্খ।
আরতি-দীপ এই কি জ্বালা।
     এই কি আমার সন্ধ্যা।
গাঁথার রক্তজবার মালা?
     হায় রজনীগন্ধা।
ভেবেছিলাম যোঝাযুঝি
মিটিয়ে পাব বিরাম খুঁজি,
চুকিয়ে দিয়ে ঋণের পুঁজি,
     লব তোমার অঙ্ক।
হেনকালে ডাকল বুঝি
     নীরব তব শঙ্খ।
যৌবনেরি পরশমণি
     করাও তবে স্পর্শ।
দীপক-তানে উঠুক ধ্বনি
     দীপ্ত প্রাণের হর্ষ।
নিশার বক্ষ বিদায় করে
উদ্‌বোধনে গগন ভরে
অন্ধ দিকে দিগন্তরে
     জাগাও-না আতঙ্ক।
দুই হাতে আজ তুলব ধরে
     তোমার জয়শঙ্খ।
জানি জানি তন্দ্রা মম
     রইবে না আর চক্ষে।
জানি শ্রাবণধারা-সম
     বাণ বাজিয়ে বক্ষে।
কেউ বা ছুটে আসবে পাশে,
কাঁদবে বা কেউ দীর্ঘশ্বাসে,
দুঃস্বপনে কাঁপবে ত্রাসে
     সুপ্তির পর্যঙ্ক।
বাজবে যে আজ মহোল্লাসে
     তোমার মহাশঙ্খ।
তোমার কাছে আরাম চেয়ে
     পেলাম শুধু লজ্জা।
এবার সকল অঙ্গ ছেয়ে
     পরাও রণসজ্জা।
ব্যাঘাত আসুক নব নব,
আঘাত খেয়ে অটল রব,
বক্ষে আমার দুঃখে তব
     বাজবে জয়ডঙ্ক।
দেব সকল শক্তি, লব
     অভয় তব শঙ্খ।
আরো দেখুন
মরীচিকা
Verses
কেন আসিতেছ মুগ্ধ মোর পানে ধেয়ে
ওগো দিক্‌ভ্রান্ত পান্থ, তৃষার্ত নয়ানে
লুব্ধ বেগে। আমি যে তৃষিত তোমা চেয়ে!
আমি চিরদিন থাকি এ মরুশয়ানে
সঙ্গীহারা। এ তো নহে পিপাসার জল,
এ তো নহে নিকুঞ্জের ছায়া, পক্ব ফল
মধুরসে ভরা, এ তো নহে উৎসধারে
সিঞ্চিত সরস স্নিগ্ধ নবীন শাদ্বল
নয়ননন্দন শ্যাম। পল্লবমাঝারে
কোথায় বিহঙ্গ কোথা মধুকরদল।
শুধু জেনো, একখানি বহ্নিসম-শিখা
তপ্ত বাসনার তুলি আমার সম্বল--
অনন্ত পিপাসাপটে এ কেবল লিখা
চিরতৃষার্তের স্বপ্নমায়ামরীচিকা।
আরো দেখুন
মানসী
Verses
    মনে নেই, বুঝি হবে অগ্রহান মাস,
               তখন তরণীবাস
                   ছিল মোর পদ্মাবক্ষ-'পরে।
               বামে বালুচরে
     সর্বশূন্য শুভ্রতার না পাই অবধি।
               ধারে ধারে নদী
কলরবধারা দিয়ে নিঃশব্দেরে করিছে মিনতি।
      ওপারেতে আকাশের প্রশান্ত প্রণতি
          নেমেছে মন্দিরচূড়া-'পরে।
     হেথা-হোথা পলিমাটিস্তরে
               পাড়ির নিচের তলে
         ছোলা-খেত ভরেছে ফসলে।
অরণ্যে নিবিড় গ্রাম নীলিমার নিম্নান্তের পটে;
               বাঁধা মোর নৌকাখানি জনশূন্য বালুকার তটে।
                   পূর্ণ যৌবনের বেগে
          নিরুদ্দেশ বেদনার জোয়ার উঠেছে মনে জেগে
                   মানসীর মায়ামূর্তি বহি।
          ছন্দের বুনানি গেঁথে অদেখার সাথে কথা কহি।
                   ম্লানরৌদ্র অপরাহ্নবেলা
          পান্ডুর জীবন মোর হেরিলাম প্রকান্ড একেলা
               অনারব্ধ সৃজনের বিশ্বকর্তা-সম।
                        সুদূর দুর্গম
                   কোন্‌ পথে যায় শোনা
               অগোচর চরণের স্বপ্নে আনাগোনা।
প্রলাপ বিছায়ে দিনু আগন্তুক অচেনার লাগি,
     আহ্বান পাঠানু শূন্যে তারি পদপরশন মাগি।
          শীতের কৃপণ বেলা যায়।
                   ক্ষীণ কুয়াশায়
                        অস্পষ্ট হয়েছে বালি।
          সায়াহ্নের মলিন সোনালি
                        পলে পলে
     বদল করিছে রঙ মসৃণ তরঙ্গহীন জলে।
     বাহিরেতে বাণী মোর হল শেষ,
অন্তরের তারে তারে ঝংকারে রহিল তার রেশ।
     অফলিত প্রতীক্ষার সেই গাথা আজি
কবিরে পশ্চাতে ফেলি শূন্যপথে চলিয়াছে বাজি।
               কোথায় রহিল তার সাথে
     বক্ষস্পন্দে-কম্পমান সেই স্তব্ধ রাতে
                   সেই সন্ধ্যাতারা।
               জন্মসাথিহারা
কাব্যখানি পাড়ি দিল চিহ্নহীন কালের সাগরে
                   কিছুদিন তরে;
               শুধু একখানি
                   সূত্রছিন্ন বাণী
          সেদিনের দিনান্তের মগ্নস্মৃতি হতে
                        ভেসে যায় স্রোতে।
আরো দেখুন