মানসী (manasi 2)

    মনে নেই, বুঝি হবে অগ্রহান মাস,

               তখন তরণীবাস

                   ছিল মোর পদ্মাবক্ষ-'পরে।

               বামে বালুচরে

     সর্বশূন্য শুভ্রতার না পাই অবধি।

               ধারে ধারে নদী

কলরবধারা দিয়ে নিঃশব্দেরে করিছে মিনতি।

      ওপারেতে আকাশের প্রশান্ত প্রণতি

          নেমেছে মন্দিরচূড়া-'পরে।

     হেথা-হোথা পলিমাটিস্তরে

               পাড়ির নিচের তলে

         ছোলা-খেত ভরেছে ফসলে।

অরণ্যে নিবিড় গ্রাম নীলিমার নিম্নান্তের পটে;

               বাঁধা মোর নৌকাখানি জনশূন্য বালুকার তটে।

                   পূর্ণ যৌবনের বেগে

          নিরুদ্দেশ বেদনার জোয়ার উঠেছে মনে জেগে

                   মানসীর মায়ামূর্তি বহি।

          ছন্দের বুনানি গেঁথে অদেখার সাথে কথা কহি।

                   ম্লানরৌদ্র অপরাহ্নবেলা

          পান্ডুর জীবন মোর হেরিলাম প্রকান্ড একেলা

               অনারব্ধ সৃজনের বিশ্বকর্তা-সম।

                        সুদূর দুর্গম

                   কোন্‌ পথে যায় শোনা

               অগোচর চরণের স্বপ্নে আনাগোনা।

প্রলাপ বিছায়ে দিনু আগন্তুক অচেনার লাগি,

     আহ্বান পাঠানু শূন্যে তারি পদপরশন মাগি।

          শীতের কৃপণ বেলা যায়।

                   ক্ষীণ কুয়াশায়

                        অস্পষ্ট হয়েছে বালি।

          সায়াহ্নের মলিন সোনালি

                        পলে পলে

     বদল করিছে রঙ মসৃণ তরঙ্গহীন জলে।

     বাহিরেতে বাণী মোর হল শেষ,

অন্তরের তারে তারে ঝংকারে রহিল তার রেশ।

     অফলিত প্রতীক্ষার সেই গাথা আজি

কবিরে পশ্চাতে ফেলি শূন্যপথে চলিয়াছে বাজি।

               কোথায় রহিল তার সাথে

     বক্ষস্পন্দে-কম্পমান সেই স্তব্ধ রাতে

                   সেই সন্ধ্যাতারা।

               জন্মসাথিহারা

কাব্যখানি পাড়ি দিল চিহ্নহীন কালের সাগরে

                   কিছুদিন তরে;

               শুধু একখানি

                   সূত্রছিন্ন বাণী

          সেদিনের দিনান্তের মগ্নস্মৃতি হতে

                        ভেসে যায় স্রোতে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

পত্র
Verses
শ্রীমান্‌ দামু বসু এবং চামু বসু
          সম্পাদক সমীপেষু।
দামু বোস আর চামু বোসে
          কাগজ বেনিয়েছে
বিদ্যেখানা বড্ড ফেনিয়েছে!
                   (আমার দামু আমার চামু!)
কোথায় গেল বাবা তোমার
          মা জননী কই!
সাত-রাজার-ধন মানিক ছেলের
          মুখে ফুটছে খই!
                   (আমার দামু আমার চামু!)
দামু ছিল একরত্তি
          চামু তথৈবচ,
কোথা থেকে এল শিখে
          এতই খচমচ!
                   (আমার দামু আমার চামু!)
দামু বলেন "দাদা আমার'
          চামু বলেন "ভাই',
আমাদের দোঁহাকার মতো
          ত্রিভুবনে নাই!
                   (আমার দামু আমার চামু!)
গায়ে পড়ে গাল পাড়ছে
          বাজার সরগরম,
মেছুনি-সংহিতায় ব্যাখ্যা
          হিঁদুর ধরম!
                   (দামু আমার চামু!)
দামুচন্দ্র অতি হিঁদু
          আরো হিঁদু চামু
সঙ্গে সঙ্গে গজায় হিঁদু
          রামু বামু শামু
                   (দামু আমার চামু!)
রব উঠেছে ভারতভূমে
          হিঁদু মেলা ভার,
দামু চামু দেখা দিয়েছেন
          ভয় নেইকো আর।
                   (ওরে দামু, ওরে চামু!)
নাই বটে গোতম অত্রি
          যে যার গেছে সরে,
হিঁদু দামু চামু এলেন
          কাগজ হাতে করে।
                   (আহা দামু আহা চামু!)
লিখছে দোঁহে হিঁদুশাস্ত্র
          এডিটোরিয়াল,
দামু বলছে মিথ্যে কথা
          চামু দিচ্ছে গাল।
                   (হায় দামু হায় চামু!)
এমন হিঁদু মিলবে না রে
          সকল হিঁদুর সেরা,
বোস অংশ আর্যবংশ
          সেই বংশের এঁরা!
                   (বোস দামু বোস চামু!)
কলির শেষে প্রজাপতি
          তুলেছিলেন হাই,
সুড়সুড়িয়ে বেড়িয়ে এলেন
          আর্য দুটি ভাই;
                   (আর্য দামু চামু!)
দন্ত দিয়ে খুঁড়ে তুলছে
          হিঁদু শাস্ত্রের মূল,
মেলাই কচুর আমদানিতে
          বাজার হুলুস্থুল।
                   (দামু চামু অবতার!)
মনু বলেন "ম'নু আমি'
          বেদের হল ভেদ,
দামু চামু শাস্ত্র ছাড়ে,
          রইল মনে খেদ!
                   (ওরে দামু ওরে চামু!)
মেড়ার মত লড়াই করে
          লেজের দিকটা মোটা,
দাপে কাঁপে থরথর
          হিঁদুয়ানির খোঁটা!
                   (আমার হিঁদু দামু চামু!)
দামু চামু কেঁদে আকুল
          কোথায় হিঁদুয়ানি!
ট্যাকে আছে গোঁজ' যেথায়
          সিকি দুয়ানি।
                   (থলের মধ্যে হিঁদুয়ানি!)
দামু চামু ফুলে উঠল
          হিঁদুয়ানি বেচে,
হামাগুড়ি ছেড়ে এখন
          বেড়ায় নেচে নেচে!
                   (ষেটের বাছা দামু চামু!)
আদর পেয়ে নাদুস নুদুস
          আহার করছে কসে,
তরিবৎটা শিখলে নাকো
          বাপের শিক্ষাদোষে!
                   (ওরে দামু চামু!)
এসো বাপু কানটি নিয়ে,
          শিখবে সদাচার,
কানের যদি অভাব থাকে
          তবেই নাচার!
                   (হায় দামু হায় চামু!)
পড়াশুনো করো, ছাড়ো
          শাস্ত্র আষাঢ়ে,
মেজে ঘষে তোল্‌ রে বাপু
          স্বভাব চাষাড়ে।
                   (ও দামু ও চামু!)
ভদ্রলোকের মান রেখে চল্‌
          ভদ্র বলবে তোকে,
মুখ ছুটোলে কুলশীলটা
          জেনে ফেলবে লোকে!
                   (হায় দামু হায় চামু!)
পয়সা চাও তো পয়সা দেব
          থাকো সাধুপথে,
তাবচ্চ শোভতে কেউ কেউ
          যাবৎ ন ভাষতে!
                   (হে দামু হে চামু!)
আরো দেখুন
110
Verses
THE WORLD knows that the few
are more than the many.
আরো দেখুন
পুরাতন
Verses
                   হেথা হতে যাও, পুরাতন।
               হেথায় নূতন খেলা আরম্ভ হয়েছে।
          আবার বাজিছে বাঁশি,    আবার উঠিছে হাসি,
                   বসন্তের বাতাস বয়েছে।
সুনীল আকাশ- 'পরে               শুভ্র মেঘ থরে থরে
          শ্রান্ত যেন রবির আলোকে,
পাখিরা ঝাড়িছে পাখা,            কাঁপিছে তরুর শাখা,
          খেলাইছে বালিকা বালকে।
সমুখের সরোবরে                 আলো ঝিকিমিকি করে,
          ছায়া কাঁপিতেছে থরথর,
জলের পানেতে চেয়ে             ঘাটে বসে আছে মেয়ে,
          শুনিছে পাতার মরমর।
কী জানি কত কী আশে           চলিয়াছে চারি পাশে
          কত লোক কত সুখে দুখে,
সবাই তো ভুলে আছে,           কেহ হাসে কেহ নাচে,
          তুমি কেন দাঁড়াও সমুখে।
বাতাস যেতেছে বহি,              তুমি কেন রহি রহি
          তারি মাঝে ফেল দীর্ঘশ্বাস।
সুদূরে বাজিছে বাঁশি,              তুমি কেন ঢাল আসি
          তারি মাঝে বিলাপ-উচ্ছ্বাস।
উঠেছে প্রভাত-রবি,               আঁকিছে সোনার ছবি,
          তুমি কেন ফেল তাহে ছায়া।
বারেক যে চলে যায়              তারে তো কেহ না চায়,
          তবু তার কেন এত মায়া।
তবু কেন সন্ধ্যাকালে              জলদের অন্তরালে
          লুকায়ে ধরার পানে চায়--
নিশীথের অন্ধকারে                পুরানো ঘরের দ্বারে
          কেন এসে পুন ফিরে যায়।
কী দেখিতে আসিয়াছ!           যাহা কিছু ফেলে গেছ
          কে তাদের করিবে যতন।
স্মরণের চিহ্ন যত                 ছিল পড়ে দিন-কত
          ঝরে-পড়া পাতার মতন
আজি বসন্তের বায়                 একেকটি করে হায়
          উড়ায়ে ফেলিছে প্রতিদিন
ধূলিতে মাটিতে রহি               হাসির কিরণে দহি
          ক্ষণে ক্ষণে হতেছে মলিন।
ঢাকো তবে ঢাকো মুখ,           নিয়ে যাও দুঃখ সুখ,
          চেয়ো না চেয়ো না ফিরে ফিরে।
হেথায় আলয় নাহি,               অনন্তের পানে চাহি
          আঁধারে মিলাও ধীরে ধীরে।
আরো দেখুন