৫৪ (amare srijon kori je mohasomman)

আমারে সৃজন করি যে মহাসম্মান

দিয়েছ আপন হস্তে, রহিতে পরান

তার অপমান যেন সহ্য নাহি করি।

যে আলোক জ্বালায়েছ দিবস-শর্বরী

তার ঊর্ধ্বশিখা যেন সর্ব-উচ্চে রাখি,

অনাদর হতে তারে প্রাণ দিয়া ঢাকি।

মোর মনুষ্যত্ব সে যে তোমারি প্রতিমা,

আত্মার মহত্ত্বে মম তোমারি মহিমা

মহেশ্বর!

সেথায় যে পদক্ষেপ করে,

অবমান বহি আনে অবজ্ঞার ভরে,

হোক-না সে মহারাজ বিশ্বমহীতলে

তারে যেন দণ্ড দিই দেবদ্রোহী বলে

সর্বশক্তি লয়ে মোর। যাক আর সব,

আপন গৌরবে রাখি তোমার গৌরব।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

21
Verses
বাহির হইতে দেখো না এমন করে,
     আমায় দেখো না বাহিরে।
আমায় পাবে না আমার দুখে ও সুখে,
আমার বেদনা খুঁজো না আমার বুকে,
আমায় দেখিতে পাবে না আমার মুখে
    কবিরে খুঁজিছ যেথায় সেথা সে নাহি রে।
                সাগরে সাগরে কলরবে যাহা বাজে,
                মেঘগর্জনে ছুটে ঝঞ্ঝার মাঝে,
                নীরব মন্দ্রে নিশীথ-আকাশে রাজে
                      আঁধার হইতে আঁধারে আসন পাতিয়া--
                আমি সেই এই মানবের লোকালয়ে
                বাজিয়া উঠেছি সুখে দুখে লাজে ভয়ে,
                গরজি ছুটিয়া ধাই জয়ে পরাজয়ে
                      বিপুল ছন্দে উদার মন্দ্রে মাতিয়া।
যে গন্ধ কাঁপে ফুলের বুকের কাছে,
ভোরের আলোকে যে গান ঘুমায়ে আছে,
শারদ-ধান্যে যে আভা আভাসে নাচে
      কিরণে কিরণে হসিত হিরণে হরিতে,
সেই গন্ধই গড়েছে আমার কায়া,
সে গান আমাতে রচিছে নূতন মায়া,
সে আভা আমার নয়নে ফেলেছে ছায়া--
      আমার মাঝারে আমারে কে পারে ধরিতে।
            নর-অরণ্যে মর্মতান তুলি,
            যৌবনবনে উড়াই কুসুমধূলি,
            চিত্তগুহায় সুপ্ত রাগিণীগুলি,
                  শিহরিয়া উঠে আমার পরশে জাগিয়া।
            নবীন উষার তরুণ অরুণে থাকি
            গগনের কোণে মেলি পুলকিত আঁখি,
            নীরব প্রদোষে করুণ কিরণে ঢাকি
                  থাকি মানবের হৃদয়চূড়ায় লাগিয়া।
তোমাদের চোখে অঁখিজল ঝরে যবে
আমি তাহাদের গেঁথে দিই গীতরবে,
লাজুক হৃদয় যে কথাটি নাহি কবে
      সুরের ভিতরে লুকাইয়া কহি তাহারে।
নাহি জানি আমি কী পাখা লইয়া উড়ি,
খেলাই ভুলাই দুলাই ফুটাই কুঁড়ি,
কোথা হতে কোন্‌ গন্ধ যে করি চুরি
      সন্ধান তার বলিতে পারি না কাহারে।
            যে আমি স্বপন-মুরতি গোপনচারী,
            যে আমি আমারে বুঝিতে বুঝাতে নারি,
            আপন গানের কাছেতে আপনি হারি,
                  সেই আমি কবি। কে পারে আমারে ধরিতে।
     মানুষ-আকারে বদ্ধ যে জন ঘরে,
     ভূমিতে লুটায় প্রতি নিমেষের ভরে,
     যাহারে কাঁপায় স্তুতিনিন্দার জ্বরে,
           কবিরে পাবে না তাহার জীবনচরিতে।
আরো দেখুন
22
Verses
সিংহাসনতলচ্ছায়ে দূরে দূরান্তরে
য়ে রাজ্য জানায় স্পর্ধাভরে
রাজায় প্রজায় ভেদ মাপা,
পায়ের তলায় রাখে সর্বনাশ চাপা।
হতভাগ্য যে রাজ্যের সুবিস্তীর্ণ দৈন্যজীর্ণ প্রাণ
রাজমুকুটের নিত্য করিছে কুৎসিত অপমান।
অসহ্য তাহার দুঃখ তাপ
রাজারে না যদি লাগে,লাগে তারে বিধাতার শাপ।
মহা-ঐশ্বর্যের নিম্নতলে
অর্ধাশন অনশন দাহ করে নিত্য ক্ষুধানলে,
শুষ্কপ্রায় কলুষিত পিপাসার জল,
দেহে নাই শীতের সম্বল,
অবারিত মৃত্যুর দুয়ার,
নিষ্ঠুর তাহার চেয়ে জীবন্মৃত দেহ চর্মসার
শোষণ করিছে দিনরাত
রুদ্ধ আরোগ্যের পথে রোগের অবাধ অভিঘাত--
সেথা মুমূর্ষুর দল রাজত্বের হয় না সহায়,
হয় মহা দায়।
এক পাখা শীর্ণ যে পাখির
ঝড়ের সংকট দিনে রহিবে না স্থির,
সমুচ্চ আকাশ হতে ধুলায় পড়িবে অঙ্গহীন--
আসিবে বিধির কাছে হিসাব-চুকিয়ে-দেওয়া দিন।
অভ্রভেদী ঐশ্বর্যের চূর্ণীভূত পতনের কালে
দরিদ্রের জীর্ণ দশা বাসা তার বাঁধিবে কঙ্কালে।
আরো দেখুন
তুমি আড়াল পেলে কেমনে
Verses
তুমি      আড়াল পেলে কেমনে
এই        মুক্ত আলোর গগনে?
কেমন করে শূন্য সেজে
ঢাকা দিলে আপনাকে যে,
সেই খেলাটি উঠল বেজে
                           বেদনে--
          আমার প্রাণের বেদনে।
আমি      এই বেদনার আলোকে
তোমায়   দেখব দ্যুলোক-ভূলোকে।
        সকল গগন বসুন্ধরা
        বন্ধুতে মোর আছে ভরা,
        সেই কথাটি দেবে ধরা
                               জীবনে--
            আমার গভীর জীবনে।
আরো দেখুন